উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসছেন, কোন জোটে উঠা এড়াতে হবে


উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসছেন, কোন জোটে উঠা এড়াতে হবে

গৌতম দাস

১২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০৭ সোমবার

https://wp.me/p1sCvy-3dt

যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট (উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী) স্টিফেন ই. বিগান

বাংলাদেশের একটা ক্রিটিক্যাল সময় পার করছে, সামনে আরও খারাপ সময়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি। সাথে আবার এটা এমন একটা সময় যখন বাংলাদেশের সরকারের রেটিং ভালো নয়, হওয়ার কোন কারণও নাই। অথবা সরকারও এ সময়ে অন্তত ২৫% মানুষ তার পক্ষে আছে মনে করে বোকার সাহস দেখাতে একটা খোলা সার্ভে হতে দিতে চাইবে না বা মনেও করবে না। সাধারণভাবে এশিয়ার জন্য বিশেষ করে ছোট অর্থনীতির দেশগুলোর জন্যই খুব খারাপ সময় এটা। মূল কারণ, গ্লোবাল অর্থনীতির পুরান নেতা আমেরিকার বদলে পালাবদলে চীনের ক্রমশ নেতা হয়ে হাজির হওয়ার সময় হয়েছে। মূলত গ্লোবাল নেতা হওয়ার পালাবদলের এই সময়, বিশেষ করে এশিয়ান স্টেজ বা রঙ্গমঞ্চে ছোট দেশগুলোকে নিজের নিজের নৌকায় বা জোটে তুলতে টানাহেঁচড়ার খুব ভয়ঙ্কর সময় সামনে। তার প্রকৃত মাত্রা ও চিত্রটা পাবো আমরা আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকার নির্বাচনের পরের সপ্তাহ থেকে। কারণ এই টানাহেঁচড়ার পেছনের আবার একটা বড় কারণ নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে ‘দেখন শোভা’ বা রোডশো। এই নির্বাচনে ট্রাম্পকে দেখাতে হবে, তিনি চীন বিরোধিতায় প্রবল লড়ছেন ও এমন সক্রিয়ভাবে তৎপর যে, নিজের অসুস্থতা ভুলে করোনার বেড থেকে উঠে এসেছেন।

চীনবিরোধী ‘কোয়াড’ [QUAD – India, Australia, japan, USA] জোট গড়তে ট্রাম্পের সেক্রেটারি অব স্টেট (বা আমাদের সমতুল্য অর্থে পররাষ্ট্রমন্ত্রী) পম্পেও গত এই ৬ অক্টোবরও জাপানে কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মিটিং করেছেন, ট্রাম্প লড়ে চলেছেন এটা দেখাতে। অথচ ভিতরের কাহিনী হল, এবারেও তারা একসাথে চার রাষ্ট্র মিলে একটা যৌথ-বিবৃতি দিতে পারেনি। আলাদা আলাদা করে দিয়েছেন আর তাতে নিজ নিজ ইস্যু ঢুকিয়েছেন। এ’থেকেই সন্দেহ ৩ নভেম্বরের পরে কোয়াডের কোন অর্থপুর্ণ মিটিং আদৌ আর হয় কিনা অথবা কী হয়? আর হলে সেটা কেমন হয়, ভাষ্য কী থাকে তা দেখতে হবে আগে। নইলে আমেরিকান ইলেকশনের আগের মাসেও আমেরিকান কোন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, এর আগে কখনও এমন তৎপর ছিলেন জানা যায় না।

পালাবদলঃ
আমেরিকার বদলে চীন নতুন নেতা হতে যাচ্ছে, এটা কোন মানুষ বা সাবজেক্ট দ্বারা নির্ধারিত ঘটনা নয়; অবজেকটিভ ঘটনা। বস্তুগতভাবে নির্ধারিত এই ঘটনা। আর এটা আমেরিকার পরপর তিনটা সরকারি সার্ভেরই একই মূল ফাইন্ডিং বা প্রাপ্ত ফলাফল। অবজেকটিভ বা বস্তুগত শর্ত বলতে এখানে প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে হাজির হয়েছে চীনের হাতে বিপুল বিনিয়োগ সক্ষমতা বা চীনের হাতের বিপুল সারপ্লাস বা পুনঃবিনিয়োগযোগ্য সঞ্চিত সম্পদ। যা সম্ভবত সবাই মানবেন তা হল এই চীনা সক্ষমতা, এটা আনপ্যারালাল; মানে একালে এই বস্তগত সক্ষমতার তুলনা একমাত্র চীন নিজেই। কিন্তু সমস্যা হল, কোন দেশ নিজে পরাজিত হয়েছে জানলেও একেবারেই চলতে না পারা দশা না আসা অবধি কে যেচে পরাজয় স্বীকার করতে চায়! জটিলতা সেখানেই। তবে বোকার স্বর্গে বাস করা কেউ কেউ তো থাকেনই। অথবা আমেরিকান ছোট ছোট এন্টারপ্রাইজের পরিচালকেরা কেউ, যাদের পক্ষে আমেরিকার হারু-বাস্তবতা মেনে নেয়া তো আসলেই কঠিন। তাই এদের কেউ কেউ এর পরেও সামরিক দিক থেকে আমেরিকা এখনো অনেক গুণ শক্তিশালী – এ দিয়ে আমেরিকার শক্তি মেপে চলতে চাইবে হয়ত। তাদেরকে বুঝানোও সম্ভব নয় যে, সামরিক শক্তি দিয়ে গ্লোবাল অর্থনৈতিক নেতৃত্ব কায়েম করা যায় না, সক্ষমতাও মাপা যায় না।

এখনও এক অমীমাংসিত অংশঃ
কিন্তু তবু আমেরিককন ঐ সার্ভেতে নির্ধারিত ফাইন্ডিংসে যে মুখ্য অংশটা এখনও অমীমাংসিত তা হল, এই পালাবদল কী একটা যুদ্ধের পরিণতি হয়ে আসবে, না আপসে টেবিলে বসে কথা বলে আসবে? আমরা এখনও কেঊ তা জানি না। তবে বড়জোড় গত পালাবদলের কথা মনে করে দেখতে পারি আমরা। গত পালাবদল মানে? এর আগেও গ্লোবাল নেতৃত্বে পালাবদল হয়েছে নাকি? অবশ্যই; এর আগেও যে পালাবদল হয়েছে তা অনেকে আমলই করেন নাই হয়ত। তাদের মন করিয়ে দেই, ৭৫ বছর আগে আমেরিকা গ্লোবাল পলিটিক্যাল (অর্থনৈতিকসহ) নেতা হয়েছিল বিপরীতে সব কলোনি-দখলদারদের (ইউরোপের বৃটিশ, ফরাসি, ডাচ ইত্যাদি সকলকে) পরাজিত করে অথবা তাদের উপরের নেতা হয়ে বসে আর সেটাই ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪৫ সাল। অর্থাৎ যুদ্ধের ফলাফল হিসাবেই আমেরিকা নেতা হয়েছিল বৃটিশসহ সবার উপরে। যে ইউরোপের ওরা গর্ব করত যে, কলোনি সাম্রাজ্যের সূর্য নাকি কখনোই অস্ত যাবে না। সেই গর্ব ভেঙে চুরমার করে দেয় আমেরিকা। তা সত্বেও এটা আজ কোন নিশ্চয়তা নয় যে এবারও তাহলে একটা যুদ্ধের পরেই কেবল চীন নেতা হবে।

সীমিত যুদ্ধ না বড় পারমাণবিকঃ
এছাড়াও যুদ্ধ হলে সেটা ছোটখাটো যুদ্ধের সীমায় থাকবে তো? না বড় আত্মহত্যার কোনো কাণ্ড ঘটবে? ‘আত্মহত্যা’ বলছি এজন্য যে, বেশির ভাগ মন্তব্যকারী “তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ” বলে একটা কথা প্রায়ই বলে ফেলে। কিন্তু তাতে এটা বুঝাই যায়, তারা কী নিয়ে কথা বলছে, এর কোনো ইমাজিনেশন বা কল্পিত ছবিও তাদের মাথায় কিছু নেই। তারা প্রায় সবাই গত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কল্পনাটাই মাথায় রেখে এবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা অবলীলায় বলে যায়। অথচ তারা আমলই করেনি যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেটা কোন পারমাণবিক বোমার যুদ্ধ ছিল না। কারণ সেকালে রাষ্ট্রনেতারা পকেটে পারমাণবিক বোমার কোড নিয়ে ঘুরতেন না। কিন্তু একালে ঘুরেন! তবু সেবার কেবল আমেরিকা ঐ যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে এরপরেও ঐ যুদ্ধের পটভূমিকে উসিলা করে পারমাণবিক বোমা কেমন নৃশংসভাবে মানুষ মারতে পারে এরই পরীক্ষা করে নিয়েছিল। যুদ্ধে এক “হারু পার্টি” ছিল হিটলারের বন্ধু জাপানের সামরিক সরকার, কলোনি এম্পায়ার; অথচ বেচারা জাপানের জনগণের উপর পারমাণবিক বোমা প্রয়োগ করে সেই পরীক্ষা করে নেয়া হয়েছিল। এর ফলাফল ছিল চরম ভয়াবহ, তা বললেও কম বলা হবে! কিন্তু তবু একালে যারা অবলীলায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা বলছেন মনে হয় না তারা আমল করেছেন যে, এবার হবু যুদ্ধে প্রধান তিন থেকে ছয়টা দেশ – পারমাণবিক বোমাসমৃদ্ধ দেশই হবে। সুতরাং এবার যদি (সীমিত নয় এমন) বড় যুদ্ধ হয় তাহলে আমাদের পরিচিত দুনিয়াটাকেই আর খুজে পাওয়া না যাওয়ার সম্ভাবনা। তাই নিজে বাঁচার তাগিদে হুঁশজ্ঞানটুকু অন্তত যদি থাকে তবে বড় যুদ্ধের কথা কেউ বলবে না বা সেদিকে যাবে না। কিন্তু যুদ্ধ লেগে গেলে কে নিশ্চয়তা দিতে পারে এটা কোথায় গিয়ে শেষ হবে! নাকি দুনিয়াই শেষ হবে?
তাই এসব সম্ভাবনার দিক মাথায় রেখে এশিয়ান স্টেজে চীন ও আমেরিকার মহড়া আর লেজে ফাঁকফোকরে আমেরিকান প্রক্সি হিসাবে ভাবধরা ভারত  – এভাবে সব মিলিয়ে পরিস্থিতিটা আমাদের মত দেশের জন্য এক অস্বস্তিকর ও খারাপ সময়।
তাই গ্লোবাল নেতৃত্বের পালাবদল ঘটবে অনিবার্য এটা জেনেও আমেরিকা যেন নিজ মনকে শান্ত্বনা দিতে চীনবিরোধী একটা যুদ্ধজোট গড়তে চাইছে, কখনও যেটাকে ‘কোয়াড’ অথবা “ইন্দো-প্যাসেফিক জোট” বলছে কখনও “এশিয়ান ন্যাটো”। আর ভাবছে  একবার এই জোট গড়তে পারলে আমেরিকা আরও কিছুদিন গ্লোবাল নেতা থাকতে পারবে। অথচ খাঁড়া মিথ্যাটা হল, সামরিক শক্তি দেখিয়ে গ্লোবাল অর্থনৈতিক নেতা হওয়া যায় না। কারণ মুরোদের প্রশ্নটা এখানে বিপুল সারপ্লাস বা বিনিয়োগ সক্ষমতার, বিপুল সমরাস্ত্রের যোগ্যতার নয়; বিনিয়োগ সক্ষমতার তারুণ্য একালের চীনের মত আমেরিকারও এককালে ছিল, যা সবশেষে এখন আর নাই।

স্টিফেন ই বিগান এর বাংলাদেশ সফরঃ
এমন অবস্থায় আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি সেক্রেটারি (উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী) স্টিফেন ই বিগান বাংলাদেশ সফরে আসছেন আগামী ১৪-১৬ অক্টোবর। মি. বিগান আমাদেরকে বলে কয়েই তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক জোটে তুলে নিতে চেয়েই আসছেন। ঢাকার আমেরিকান এমবেসিবণিকবার্তা  আমাদের তাই জানাচ্ছে। আমেরিকা তার স্বার্থের কথা ও পথে তাদের মতে আমাদের ‘হেদায়েত’ করতে চাইবে। তাতে বলার কিছু নেই। কিন্তু আমরা আমাদের কোনো কোটারি গোষ্ঠীর স্বার্থে তাতে সাড়া দিতে পারি না। আমাদেরকে পাবলিক ইন্টারেস্ট বা জনস্বার্থ তো দেখতে হবে! আর ঠিক এই বিষয়ে আমাদের জন্য আইডিয়েল ও সঠিক অবস্থান হবে নিউট্রালিটি; মানে কারও নৌকায় বা জোটে না উঠে, এড়িয়ে যাওয়া। কোন যুদ্ধে বা কারো যুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়া মানে হবে আমাদের যাকিছু অর্জন এর শেষ সম্বলটাও হারানো। অথচ আমাদের জন্য সময়টা কঠিন এজন্য যে, আমাদের এখনকার সরকার দুর্বল, পিছনে জনসমর্থন নাই; তাই স্বর নরম করে ফেলতে পারে। আর সে কারণে সেসব ঘাটতি পূরণ করতে ওদিকে আবার ক্ষমতায়ও থাকতে চাইবে বলে কোন না কোন আপস যাতে না গিলে ফেলে, এই ভয় আমাদের থাকবে। সরকারের পাবলিক রেটিং থাকা না থাকাটা এখানে এভাবে সম্পর্কিত। অথচ এসময় দরকার ছিল অভ্যন্তরীণভাবে অন্তত এই ইস্যুতে পাবলিকের সবপক্ষের একটা ঐকমত্য, একক অবস্থান নিয়ে এক ভয়েজে কথা বলা। তাহলেই আমাদের এসব কোটারি স্বার্থগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারা সহজ হয়ে যেত।

ভুল ম্যাসেজ(!) দিয়ে শুরুঃ
ওদিকে ইতোমধ্যেই  মি বিগান আমাদের সাইলেন্ট মেজরিটিকে একটা প্রাথমিক ভুল মেসেজ দিলেন মনে হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশে কাজ শেষে ভারতে যাচ্ছেন। এর মানে কী? চৌদ্দ বছর পরে আবার একালেও ভারতকে বগলে করে আমেরিকা কী বাংলাদেশে এসেছে? এর অর্থ-ইঙ্গিত খুবই সুদূর প্রসারীভাবে হবে নেতিবাচক। যদি মানে তাই হয় তবে আমাদের দেশের মানুষের জন্য খুবই খারাপ মেসেজ তিনি এনেছেন। এর মানে বাংলাদেশের সাইলেন্ট মেজরিটির মনোভাব আমল করতে ও ক্ষোভ বুঝতে আমেরিকা আবার ব্যর্থতার পথই বেছে নিতে যাচ্ছে। যেখানে হাত পরিষ্কার রাখতে ও দেখাতে আমেরিকার উচিত আলাদা ডেস্ক মানে আলাদা স্টাফ-ডেস্ক থেকে ভারতকে ডিল করা। তাই বলা বাহুল্য যে এরকম চললে আমেরিকার এখনও বাংলাদেশে কাজ করা বা ভূমিকা রাখার যতটুকু শেষ সুযোগ আছে তা অকার্যকর করা হবে বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে। এতে বাংলাদেশে আমেরিকার কোনো পরিকল্পনাই পাবলিকের দিক থেকে কোনদিনই আর সমর্থন বা আমল পাবেই না।

 

এশিয়ার ছোট দেশের সমস্যা, উদাহরণ হিসাবে মালদ্বীপঃ
তাই একটা উদাহরণ হিসাবে এবার মালদ্বীপকে সামনে রেখে কিছু কথা বলব। তবে মালদ্বীপ এশিয়ার ছোট দেশ হিসাবে পালাবদলের কালের সমস্যা ভাল মোকাবেলা করেছে কীনা সেজন্য নয়; বরং কিভাবে আরো জটিল জালে মালদ্বীপ আটকে গেছে এর উদাহরণ হিসেবে মালদ্বীপকে নিয়ে কথা বলব। মালদ্বীপের মূলসমস্যা আসলে – তাদের দুই প্রধান দল  গ্লোবাল পালাবদলের দুই ক্যাম্পের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে একটু ফারাক হল এটা চীন-আমেরিকা দুই ক্যাম্প না হয়ে চীন-ভারত হয়ে আছে; মানে আমেরিকার প্রক্সি এক্ষেত্রে ভারত। যেকোন দেশের জন্য এটা চরম দুর্ভাগ্যজনক যে, দেশের প্রধান দুই রাজনীতির দল যদি চীন ও ভারতের এজেন্ট হয়ে কায়েমি দোকান খুলে বসে যায়। এরই আরেক উদাহরণ যেমন শ্রীলঙ্কা। অভ্যন্তরীণভাবে বলা হয় মালদ্বীপ মূলত নাকি দুই সৎভাই মামুন আবদুল গাইয়ুম আর ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুম মূলত তাদের আর তাদের অনুসারী বা অনুগামী রাজনীতিকদের নিজেদের দুই দল হিসেবে ভেতরের লড়াই হয়ে বিভিন্ন সময়ে হাজির হয়ে চলেছে।

Mohamme্‌d, Nasheed, Ibrahim Mohamed, Solih & Abdulla Yameen

দুই ভারতীয় রিপোর্টারঃ
মালদ্বীপ নিয়ে এ’বছরের আগস্ট থেকে এপর্যন্ত দুই ভারতীয় রিপোর্টারের দুইটা রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। সুধা রামচন্দ্রন ব্যাঙ্গালোর থেকে লিখেছেন আগস্টে জাপানি ‘ডিপ্লোমেট’ পত্রিকায় – [Has India Won the Match Over the Maldives?]- এই শিরোনামে। আর সীমা দাসগুপ্তা কলকাতা থেকে লিখেছেন গত সপ্তাহে হংকং থেকে প্রকাশিত এশিয়ান টাইমসে -India risks losing its military hold on Maldives – এই শিরোনামে। সুধার লেখাটা একেবারেই প্রো-ইন্ডিয়ান ভাষ্য বা ভারতের তথাকথিত ‘জাতীয়’ স্বার্থ মেনে লেখা বলা যেতে পারে। সীমার লেখাটা সে তুলনায় অনেক বেশি নিউট্রাল।
গত ২০১৮ সালের শেষে সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে  (প্রো-চাইনিজ) ইয়ামিন হেরে যান প্রো-ইন্ডিয়ান নাশিদ গ্রুপ ও দলের কাছে। মালদ্বীপ প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার ও প্রায় ১২শ’ দ্বীপমালার দেশ, যার মাত্র  প্রায় ১৮৫টা ছোটবড় দ্বীপ বসবাসযোগ্য। বাকিগুলোতে চাষাবাদ হয় মূলত। ইয়ামিনের গত আমলে রাজধানী মালে ও এর সংলগ্ন এমন বড় চারটা দ্বীপকে একটা ব্রিজ দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে, যার একটাতে এয়ারপোর্ট আর শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য জোন আছে। আর বাকি দুটোতে বসবাসের জন্য ১৬-২৫ তলা করে আবাসিক ফ্লাট তৈরি করেছে,  ইয়ামিনের সরকার চীনা ঋণে। মোট প্রায় ২২৪০০০ ফ্লাট। এরকম প্রতি ফ্লাটে যদি দু’জন করে বাসিন্দার এক পরিবার ধরি তবে মালদ্বীপের ৮৬% জনসংখ্যাকেই সরকার আবাসন দিতে পারবে, এতই বিপুল সংখ্যায় ফ্লাট নির্মাণযজ্ঞের দ্বিতীয় পর্যায় চলছে এখনও।
এখন সুধার লেখায় তাঁর অভিযোগ হল, ইয়ামিন মোট ১.৪ বিলিয়ন ডলার চীন ঋণ নিয়ে এসব নির্মাণকাজ করেছে। আরো বড় অভিযোগের স্বরে লিখছেন, এখন এই ঋণ কি মালদ্বীপ পরিশোধ করতে পারবে? নাকি শ্রীলঙ্কার মত হবে? মানে, বলতে চাইছেন, ভারত শ্রীলঙ্কায় যেমন প্রপাগান্ডা করতে পেরেছিল তেমন প্রপাগান্ডা করার সুযোগ কি মালদ্বীপেও পাবে?
সুধা লিখছেন, “This was of concern to India. Would the Maldives, like Sri Lanka, end up handing over strategic assets in lieu of unpaid debt to China? Would the Chinese set up a naval base in the archipelago?”। কিন্তু তামাশাটা হল, ঋণ নিয়েছে মালদ্বীপ, কিন্তু তাতে উদ্বিগ্ন হয়েছে ভারত, যে কী করে মালদ্বীপ সেই ঋণ শোধ দিবে! আবার সেই ভারতই ইয়ামিনের পরের বর্তমান প্রো-ইন্ডিয়ান সলিহ-নাশিদ সরকারকে ৮০০ মিলিয়ন ডলার নতুন ঋণ দিয়েছে। অথচ এখন এই নতুন ঋণের বোঝা এটা শোধ দিবে কী করে সেটা ভারতের উদ্বিগ্নতার বিষয়ই নয়? দুনিয়াতে এরচেয়ে বড় জোকারি আর কী হতে পারে!

প্রপাগান্ডা ও গুজবের শুরু এখান থেকেইঃ
ধরা যাক, সুধার আশঙ্কামত মালদ্বীপ চীনা ঋণ পরিশোধে বিরাট সমস্যায় পড়বে। কিস্তির অর্থ দিতে গিয়ে বাজেটে টান পড়বে!  ইব্রাহিম সলিহ এখন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট। তাহলে সলিহ-নাশিদ গ্রুপ যারা এখন ক্ষমতায়, এরা তো ক্ষমতায় এসেই নতুন করে ইন্ডিয়ান ঋণ নিয়েছে। অর্থাৎ মালদ্বীপ সরকার নতুন আরও প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার ভারতীয় ঋণ নিয়ে এবার একইভাবে অন্য আর তিনটা দ্বীপ যুক্ত করতে রাস্তা বানাচ্ছে। এখন চীন ঋণ শোধে যদি মালদ্বীপের মুরোদই না থাকে তবে এর উপর আবার ভারতীয় ঋণ নিচ্ছে কেন? কোন সুখে আর বিবেচনায়? আর এই ভারতীয় ঋণের বেলায়ও এর কিস্তি পরিশোধের অর্থ কোথা থেকে আসবে, শোধ দিবে কী করে? এনিয়ে ভারত নিরুদ্বেগ কেন?  অর্থাৎ সুধার অনুমিত, কথিত ঋণের ফাঁদের গল্প আসলে ছিল প্রপাগান্ডা ক্যাম্পেইন মাত্র। আর মালদ্বীপের অর্থনীতির কোন ঋণের দায় বইবার আসল সহ্যক্ষমতা কী এবং কতটুকুর উপর দাঁড়িয়ে এনিয়ে কোন পেশাদারের বিশ্লেষণ-প্রাপ্ত ফলাফল জেনে নিয়ে তিনি কথা বলেননি। বরং ভারতীয় সাংবাদিক বলে চোখ বুঝে মিথ্যাবলার  ভারত সরকারের স্বার্থের পক্ষে দাড়ায় অপেশাদার প্রপাগান্ডা রিপোর্ট করে বসেছেন! অথচ প্রপাগান্ডা করা তার কাজ বা পেশা নয়। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে সুধা আসলে প্রবল জাতিবাদী হয়ে কথিত ভারতীয় “জাতীয় স্বার্থে” এই মিথ্যা প্রপাগান্ডা শুরু করেছেন। আর আমাদের জন্য এখান থেকে শিক্ষণীয় হচ্ছে, এমনিভাবে দুই প্রধান দলের, এমন চীন বা ভারতের পক্ষ নিয়ে প্রপাগান্ডা শুরু করবেই – একটা দেশের জন্য এই ইতরোচিত প্রপাগান্ডাই সবচেয়ে চরম ক্ষতিকর ও আপত্তিকর ও বিপদজনক। আর মালদ্বীপের প্রধান দুর্ভাগ্য আর পতনের কারণ হতে পারে এটা! এ জন্যই বলছি একেকটা দল চীন বা ভারতের দালালি নিবে, আর দেশটা ভাগ হয়ে যাবে পাবলিক এটা চলতেই দিতে পারি না। এমন হলে সে দেশ শেষ হয়ে যাবেই।
আবার এই নাশিদ (২০১৩ সালের তিনিই শুরুতে প্রো-ইন্ডিয়ান প্রেসিডেন্ট ছিলেন যদিও, কিন্তু শেষে প্রো-চাইনিজ হয়ে ভারতীয়দেরকে দেয়া এক এয়ারপোর্ট প্রকল্প তিনিই বাতিল করে দিয়েছিলেন ) পরে তিনি ইয়ামিনের আমলে দুর্নীতির দায়ে জেলে ছিলেন। কিন্তু কোনো এক (সম্ভবত অসুস্থতার) অজুহাতে জামিন পেয়ে সেসময় পালিয়ে শ্রীলঙ্কা চলে যান আর সেখান থেকে ২০১৮ সালে মিডিয়ায় ইন্ডিয়ান আর্মিকে মালদ্বীপ দখলের প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু এদের দল আবারও ২০১৮ নির্বাচনে জয়ী হয়ে এলে সেবার ঘোষণা দিয়ে প্রো-ইন্ডিয়ান সরকার কায়েম করেছিলেন যেখানে সোলিহ হন প্রেসিডেন্ট আর নাশিদ স্পিকার। আর পুরাতন চেয়ারছোঁয়া-খেলায় রোটেশনের মত ইয়ামিন এখন জেলে। এই হল ভারত বা চীনা দালালির রাজনীতির পরিণতি!

এখন সলিহদের অভিযোগ হল চীন ঋণ থেকে ইয়ামিন সরকারের আমলে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। আরও অভিযোগ, চীনা প্রাইভেট কোম্পানির কাছে ঋণ নিয়ে ইয়ামিনের সরকার মালদ্বীপের কিছু প্রাইভেট ব্যবসায়ীকে কয়েকটা রিসোর্টগুচ্ছও বানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ইয়ামিনের সরকার ঋণের খাতক না হয়েও নিজে ঐ বেসরকারি বাণিজ্যে লোনের গ্যারান্টার হয়ে আছে। অতএব সলিহ-নাশিদের গ্রুপ এর দাবি এখানে এই গ্যারান্টার হওয়া মানে, তারা এর ব্যাখ্যা দিচ্ছেন যে এি সমুদয় অর্থও সরকারই ঋণ নিয়েছে ধরতে হবে। অর্থাৎ গ্যারান্টার হওয়া মানেই সরকার নিজেই ঋণ বুঝতে হবে। এবং এই অর্থও আত্মসাৎ হয়ে গেছে। সলিহ-নাশিদের অর্থমন্ত্রী অভিযোগ তুলে বলছেন, গ্যারান্টার হওয়া মোট ৯৫৩ মিলিয়ন ডলার হল এটাও ইয়ামিন সরকার চীনা ঋণ নিয়েছে ধরতে হবে। আর এছাড়া সরকার নিজের জন্য ঋণ নিয়েছে বাদ বাকিটা। এভাবে মোট ১.৪ বিলিয়ন ডলার চীনা ঋণ নিয়েছে। সে ঋণ পরিশোধে নাকি শ্রীলঙ্কার মতো অবস্থা হবে মালদ্বীপের। আসলে এই প্রো-ইন্ডিয়ান গোষ্ঠী বুক ফুলিয়ে সবাইকে ‘হাইকোর্ট’ দেখাচ্ছে। ভেবেছে, সারা দুনিয়া তাদের এই বাক-চাতুরী বুঝবে না। অথচ এতে যে প্রশ্ন উঠে গেছে, তাহলে বাড়তি ৮০০ মিলিয়ন ডলারের ভারতীয় ঋণ নিল কেন আর এই ঋণের কিস্তি দেবে কিভাবে?

রকার গ্যারান্টার হওয়ার কালচার কোথা থেকেঃ
প্রপাগান্ডা ফেলে এখন প্রকৃত ঘটনাটা ব্যাখা করা যাক। রাষ্ট্র কেন এখানে গ্যারান্টার হতে গেল এর পক্ষে ইয়ামিন সরকারের উপযুক্ত সাফাই থাকা দরকার ছিল, অবশ্যই। কিন্তু অন্যদিকের আরেক কথাও জেনে রাখা ভাল। তাহলে, ফেয়ার বিচার করা হবে। কোন কোন ক্ষেত্রে সরকারের গ্যারান্টার হয়ে থাকা স্বাভাবিক হতে পারে। যেমন  তা হল, বিশ্বব্যাংকের নিয়ম ও কালচার অনুযায়ী যারা নিজেদের “মধ্য আয়ের দেশ” হয়ে যায় বা দাবি করে আর বিশ্বব্যাংকের কনসেশনাল সুদের (যেখানে ঋণের সুদহার নামমাত্র ০.৭৫% যা ১% এরও কম) ঋণ আর পাবে না। তখন থেকে তাদের ২% সুদহারের ঋণ শ্লটে যেতে হবে। বাংলাদেশ এখন এই শ্লটে। এছাড়া আরও একটা শ্লট আছে যেটাকে আইএফসি (ইন্টারনাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন, IFC) লোন বলে, যার সুদহার ৪%। আইএফসি বিশ্বব্যাংক গ্রুপেরই আরেক অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। বিশ্বব্যাংকের সুপারিশে ওর লোনও পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু ওর শর্ত হল এই লোন সরকারি খাতের জন্য নয়, কেবলমাত্র বেসরকারি কোম্পানিকে দেয়া হয়। এছাড়াও আরেক শর্ত হল তবু সরকারকেই আবার ঐ লোনের গ্যারান্টার থাকতেই হবে। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে দুইটা বেসরকারি কোম্পানি যারা ১২০০ মেগা বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকারি তারা আইএফসির লোন পেয়েছে বা পাইয়ে দিয়েছে। কারণ এই লোন সরকারকেই পাইয়েই দিতে হয়, সুপারিশ করে। স্বাধীনভাবে পাওয়া যায় না। এই ঋণের অন্তত একটা মেঘনা গ্রুপের মালিকানাধীন প্রকল্প অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যেই এমন গ্যারান্টার হয়ে আছে। সম্ভবত বিশ্বব্যাংককে অনুকরণ করে চীনা বেসরকারি লোন নেয়া হয়েছে ওখানে, মালদ্বীপে সরকার গ্যারান্টার হয়ে। আরো কথা আছে, এই লোন চুক্তি কিন্তু হয় ঐ বেসরকারি লোন গ্রহীতা কোম্পানির সাথেই দাতা IFC এর। কারণ, যদি পরিশোধে কোনো সমস্যা দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে সরকার যাতে লোন আদায়ে দাতার পক্ষ নেয়, সে জন্যই এই ব্যবস্থা। আর এমন প্রকল্প যেহেতু তা সাধারণত সরকারের কোন ঠিকাদার কোম্পানির জন্যই করা হয়; যেমন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সরকারি ঠিকাদার অথবা উতপাদিত বিদ্যুৎ  সরকারকে বিক্রি করে এমন হয়ে থাকে ফলে ঐ বেসরকারি কোম্পানিকে আল্টিমেট পেমেন্ট দেয় সরকার। তাই সরকারের হস্তক্ষেপের কোন না কোন সুযোগ থেকেই যায় তাই এমন গ্যারান্টার ব্যবস্থা কোন সরকারের জন্য  বড় কোন রিস্কের সম্ভাবনা কম থাকে।
এই যদি হয় আমেরিকার বিশ্বব্যাংকের কালচার বা নিয়ম তাহলে আমেরিকার বন্ধু ভারত মানে প্রো-ইন্ডিয়ান মালদ্বীপ সরকার কেন এই প্রপাগান্ডা শুরু করেছে? ৯৫৩ মিলিয়ন ডলার ঋণে সরকার গ্যারান্টার বলে এই অর্থও ‘সরকার চীনা ঋণ নিয়েছে’ বলে পাড়া মাতাচ্ছে কেন? এগুলাই চরম অসততা ও মিথ্যা প্রপাগান্ডা ফলে বিপদজনক। চীন বা ভারতের স্বার্থে তাদের এজেন্টরা এসব মিথ্যা প্রপাগান্ডার লড়াই দেশের উপর চড়িয়ে দেয়। এই হল মালদ্বীপে দেশ ভাগ হয়ে থাকা দুই দালালদের কায়কারবার থেকে পাওয়া শিক্ষা; যদি তা আমরা শিখতে চাই!
এখন তামাসা হল, মালদ্বীপ নিয়ে ভারতের দুই লেখকের আশঙ্কা কিন্তু একই। তাই শিরোনামও প্রায় এক। দু’জনই আশঙ্কা করছেন, ভারত মালদ্বীপে টিকবে কিনা; মালদ্বীপে ভারতের প্রভাব টিকাতে আর কতদিন পারবে? প্রথম লেখক সুধা রামচন্দ্রনের আশঙ্কা, চীনের মত ভারতের বেশি ঋণ দেবার মুরোদ নাই, তাই সমস্যা। তাই সুধার শিরোনামে শঙ্কা – “মালদ্বীপে ভারত কী চীনের উপরে জিততে পেরেছে?”। আর দ্বিতীয় লেখক সীমা দাসগুপ্তের আশঙ্কা ভারত হেরে যাচ্ছে সেজন্য শিরোনাম দিয়েছেন, “মালদ্বীপে সামরিক অবস্থান হারানোর ঝুঁকিতে ভারত”। কারণ সলিহ-নাশিদ গ্রুপ প্রো-ইন্ডিয়ান হলেও সম্ভবত ইতোমধ্যে তারাই আবার চীনের সাথে যোগাযোগ শুরু করে বসেছে। কোভিডের পরে তাদের সম্ভবত অর্থ বা ঋণ দরকার। আর অনুমান করি এক্ষেত্রে তারা সঠিকভাবেই ভারতের চেয়ে চীনকে উপযুক্ত মনে করেছে।

এছাড়াও মালদ্বীপে নন-পার্টিজান এক সংগঠন ‘প্যাট্রিওটিক ইয়ুথ মুভমেন্ট অফ মালদ্বীপ’  মালদ্বীপে ভারতের উপস্থিতি, হেলিকপ্টার ও আকাশ থেকে সমুদ্রসীমা মনিটরিংয়ের কিছু বায়ুযান দেশের সঠিক প্রয়োজনের দিকে তাকিয়ে সরবরাহ করা হয়নি বলে দাবি করেছে। এ ছাড়া এসব যানগুলো পরিচালনার জন্য পাইলটদের ট্রেনিং শেষ করতে অসীমভাবে দেরি করে মালদ্বীপ ছাড়তে ভারতীয় সেনাদের গড়িমসি নিয়ে  – সবমিলিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে তারা নানা ধরণের পাবলিক সমাবেশে প্রতিবাদ করা শুরু করে দিয়েছে। তাই সীমা দাসগুপ্তার আশঙ্কা, ভারতকে মালদ্বীপ ছাড়তে হতে পারে। তাই তার লেখার শিরোনামই হলো সরাসরি, “মালদ্বীপে সামরিক অবস্থান হারানোর ঝুঁকিতে ভারত”। অর্থাৎ ভারতের ফকিরি বা ছ্যাঁচরামি করতে এখানেও দেখা যাচ্ছে।  ছেচরামো করে হলেও ভারতের সামরিক সদস্যদের মালদ্বীপে রাখতে হবে। এতে ভারতের কোন ইজ্জত বাড়ে তা কে জানে!  এটা যেন ভারতের ফরাক্কা বাঁধ তৈরির কথা মনে করিয়ে দেয়। এই বাঁধটা  পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর অনুমতি নেয়া হয়েছিল বাংলাদেশের থেকে, শেখের আমলে। অথচ সে পরীক্ষামূলকটাই এখন  বিনা অনুমতিতে স্থায়ী হয়ে গেছে, ভারতের খবর নাই!

এদিকে সীমা দাসগুপ্তা দুটা আরো ভয়ঙ্কর তথ্য দিয়েছেন। সীমা লিখেছেন, ‘বর্তমান প্রেসিডেন্ট সলিহ ভারতের সাথে করা একটা চুক্তি বাস্তবায়ন করেছেন, যেটা অনুসারে মালদ্বীপে “ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থের সাথে জড়িত বিষয়ে ভারতীয় আদালতের রায় প্রযোজ্য হবে”। এটা এক ভয়ঙ্কর নতজানু চুক্তি। আমাদেরও এটা নিয়ে সতর্ক হওয়ার ব্যাপার আছে। সারা দুনিয়ার রেওয়াজ হল – আইনি বিষয়ের জন্য এক্তিয়ার হবে প্রকল্প ভোক্তার স্থানীয় দেশের আদালতের। তবে আরও কিছু স্বার্থবিরোধ-বিতর্ক দেখা দিলে আন্তর্জাতিক কোনো সালিশি আদালত যেমন বিশ্বব্যাংকের সালিশ-বিরোধ নিরসনের আদালত, না হয় ইউরোপীয় সমতুল্য সালিশি আদালতের কথা সাধারণত বাণিজ্য চুক্তিতে উল্লেখ করা থাকে।
এছাড়া অপর তথ্য হল, সীমা লিখছেন, “ভারতের নজরদারি বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন এবং এগুলো পরিচালনার জন্য (মালদ্বীপে) মোতায়েন করা ভারতীয় সেনা ও সরঞ্জামাদির বিষয়কে সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু“ করেছে মালদ্বীপের পাবলিক। এমন ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ও ছড়িয়েছে যা দাবি করছে যে, “মালদ্বীপের কিছু অংশকে ভারত নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে”। সীমা লিখেছে, “মালদ্বীপের সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তা বলছেন, ভারতের সামরিক উপস্থিতির ব্যাপারে মালদ্বীপের পাবলিকের মধ্যে গভীর হতাশা দেখা দিয়েছে যার গভীর ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে”। দেখা যাচ্ছে, অপরের জন্য গর্ত-খানাখন্দ খুঁড়লে তার শিকার হয়ে ঐ গর্তে নিজেকেই পরতে হতে পারে!

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
goutamdas1958@hotmail.com

 

[এই লেখাটা  গত  ১০ অক্টোবর ২০২০, দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার ওয়েবে ও  পরদিনই প্রিন্টেও  “উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসছেন, কোনো জোটে ওঠা নয়” – এই শিরোনামে উপ-সম্পাদকীয়তে ছাপা হয়েছিল।  পরবর্তিতে ঐ লেখাটাকে এখানে আরও নতুন তথ্যসহ বহু আপডেট করা হয়েছে। ফলে সেটা নতুন করে সংযোজিত ও এডিটেড এক সম্পুর্ণ নতুন ভার্সান হিসাবে ও নতুন শিরোনামে এখানে আজ ছাপা হল। ]

One thought on “উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসছেন, কোন জোটে উঠা এড়াতে হবে

  1. Dear Dada,
    I must appreciate your above article that is posted recently , excellent content , gives us a clear understanding of South Asian geopolitics , specially the role of India , US and China and how they play boss around us.
    The political situation in Maldives looks similar to our BD. India has long been trying to present her boots on the soil of BD , hope they wouldn’t be succeed in doing so.

    Wish your good health and long life .

    With Regards

    MD Nazrul

    Sent from Outlook

    ________________________________

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s