বাইডেন বা ইউক্রেনের হার লুকানোর প্রক্রিয়া শুরু?


বাইডেন বা ইউক্রেনের হার লুকানোর প্রক্রিয়া শুরু?

গৌতম দাস

১৪ মার্চ ২০২২, ০০:০৬ সোমবার

https://wp.me/p1sCvy-3Yo

শিরোনাম দেখে এটাই মনে হবে যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কি তাহলে শেষ? না, ঠিক শেষ নয়। তবে?
তবে প্রায় শেষ!! বাইডেন-জেলেনস্কির কাছে এই যুদ্ধে তাদের হার কিভাবে লুকানো যায় সেই প্রক্রিয়া তারা উভয়ে শুরু করে দিয়েছেন – তা বলা যায়। অর্থাৎ বাইডেন-জেলেনস্কির আগাম অনুমানটা তাহলে এমন দাড়িয়েছে যে এই যুদ্ধে তাদের হার হচ্ছে এবং সেটা তারা মেনেও নিচ্ছেন? তাই কী? হ্যা, ঠিক তাই।

তবে তাদের কথাটা আরেকভাবে বললে, মূলত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বাইডেন আর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি [Zelenskyy] নিজেদের মধ্যে ব্যাপারটা নিশ্চিত করেছেন  ধরে নেয়া যায় যে, এই যুদ্ধ তাঁরা এখন শেষ করবেন। মানে কি তাঁরা হার স্বীকার নিবেন? এটাই সবচেয়ে মুশকিলের কাজ। তাই যদিও এ কথাটা স্পষ্ট ভাষায় তারা উভয়ে স্বীকার করবেন না;  কিন্তু তারা যুদ্ধে হেরে গেছেন এটা মুখে স্বীকার না করেও কিভাবে যুদ্ধটা বাস্তবে শেষ করা যায় এটাই এখন তাঁদের মুল লক্ষ্য। এমন  এজেন্ডা তারা ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন করতে কিছু তৎপরতাতেও উভয়েই শুরু করে দিয়েছেন। আর সে তৎপরতার প্রথম এবং প্রধান প্রকাশ ঘটে গেছে এক সাক্ষাৎকারে।  অতএব যুদ্ধে তাঁদের হার হচ্ছে এবং তারা যুদ্ধে হেরে গেছেন এটা দেখানো এড়িয়ে যুদ্ধ শেষ করার পথে রওনা দিয়েছেন এর সবচেয়ে ভাল প্রমাণ হল এই এবিসি নিউজের এই সাক্ষাতকার।
আমেরিকার স্থানীয় মানে অভ্যন্তরীণ দর্শকের (গ্লোবাল দর্শক নয়) কথা মাথায় রেখে প্রচারিত হয়, এমন এক টিভি চ্যানেল হল এবিসি নিউজ। নিউ ইয়র্কের এবিসি নিউজ আমেরিকান সময় গত ৭ মার্চ রাত আটটায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির এক সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে । এজেন্ডা-ঘটনার প্রকাশ্য পাবলিক একটিভিটি শুরু হয়েছে এখান থেকে।

The Zelenskyy Interview: David Muir Reporting | ABC News Exclusive

 

বাইডেন ঠিক কিসে হারলেন?
বাইডেন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন। কিন্তু কী ছিল এই যুদ্ধ, বাইডেনের কাছে? সেটাই আগে স্পষ্ট জেনে নেয়া যাক। সংক্ষেপে শিরোনামে বললে, ডেমোক্র্যাট নেতা বাইডেন যেন বলতে চেয়েছিলেন, রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প মাথা মোটা প্রেসিডেন্ট।  তাই তিনি সহজেই নত মস্তকে মেনে নিয়েছিলেন যে আমেরিকার নেতাগিরির দিন শেষ। অতএব আমেরিকা আর গ্লোবাল নেতা বা রাজনীতি বলে দুনিয়ার কোন কিছুতে নাই ও থাকবে না। তারা এখন জাতিবাদি, সাদা-মানুষেরাই দুনিয়ায় শ্রেষ্ঠ – এই শ্রেষ্ঠত্বের রাজনীতি করবেন।   আর এখানেই বাইডেন পালটা বলতে চাইছেন,  তুলনায় তাঁর মাথা ঠাণ্ডা এবং সূক্ষ্ম ও কূটবুদ্ধি তাঁর বেশি। তাই তিনি দেখতে পেয়েছেন, আমেরিকার নেতাগিরির দিন আসলে ফুরিয়ে যায়নি। আমেরিকার গ্লোবাল নেতৃত্ব এখনো অটুট আছে ও থাকবে আর তা রাখাও যাবে; যদি বাইডেনের মত প্রেসিডেন্ট আমেরিকার সক্ষমতা হিসেবে যেসব টুলস বা হাতিয়ার এখনো অ-ব্যবহারে পড়ে আছে সেগুলো ব্যবহার করতে শুরু করেন। এমন দু্টা  আমেরিকান অস্ত্র হল এক. অবরোধ [sanction] আরোপ (মানে অপছন্দ বা শত্রু বিবেচিত দেশকে আমেরিকান ডলারে বৈদেশিক বাণিজ্য করতে না দেওয়া) আর দুই. মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা।
তাই এই দুই হাতিয়ার ব্যবহার করেই বিনা অস্ত্রে ও কোন সামরিক তৎপরতা ছাড়াই তিনি চীন ও রাশিয়া ধরণের দেশ যারা প্রতিদ্বন্দ্বি বা সম্ভাব্য শত্রুদেশ – এদেরকে সহজেই পরাজিত ও পর্যুদস্ত করতে পারবেন আর এভাবে আমেরিকার নেতৃত্ব অটুট রাখতে পারেন।

বাইডেন এই উদ্দেশ্যেই ইইউকে পাশে নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনকে যুদ্ধে এনেছিলেন। কিন্তু এখন বাইডেন  রাশিয়া-ইউক্রেন এই যুদ্ধেই নিজের হার দেখতে পাচ্ছেন। অতএব তিনি এখন রাশিয়া-ইউক্রেনের আপস কিভাবে ঘটানো যায় এছাড়া, যেন এই যুদ্ধে তাদের হারের বিষয়টা কতটা আড়ালে ফেলা যায় এই লক্ষ্যে ততপরতা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন!

মজার কথা হল, আমরা এখন অনুমান করতে পারি যে, বাইডেন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার শপথ নেয়ার পরেই যখন তিনি এ দুই (অবরোধ ও মানবাধিকার) মহা-অস্ত্রের কথা ইইউ নেতাদের জানিয়েছিলেন তারা এটাতে বিশ্বাস করেছিলেন। পেছনের গল্প-ভাবনাটা ছিল সম্ভবত এরকম যে, আমেরিকার হাবিলদার হয়ে ইউরোপ যদি আরো কিছু দিন আমেরিকার কাছ থেকে দুনিয়ায় ‘রুস্তমি’র ভাগ পাওয়া যায় তা হলে আর চীনের পিছনে পিছনে লাইন ধরে ব্যবসা বদল করে, চীনের থেকে কিছু ব্যবসা হাওলাত করে বাঁচতে চাওয়ার দরকার কী!! সম্ভবত একারণেই চীনের সাথে ইইউ-এর সামগ্রিক বিনিয়োগ চুক্তি [EU-China Comprehensive Agreement on Investment (CAI)] স্বাক্ষরিত হয়ে যাবার পরও  বাইডেনের অনুরোধে সেই চুক্তি গত ২৭ মে ২০২১ স্থগিত করে ফেলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইইউ নেতারা।

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে বিনা যুদ্ধে ও বিনা অস্ত্র ব্যবহারে প্রতিদ্বন্দ্বি চীন ও রাশিয়ার উপরে অবরোধ আর মানবাধিকার এ দুই অস্ত্র ব্যবহার করে বিজয় লাভের ভাবনায় মশগুল হয়ে তারা পশ্চিম ( মানে আমেরিকা ও ইউরোপ) তখন কাজে নেমে পড়েছিলেন।
আর এ কাজেই বলির বখরা বানিয়েছিল পুরনো সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেতরে ১৪ রাষ্ট্রের মধ্যে যারা এখনও ন্যাটোর সদস্য হয়নি, এদেরই এক রাষ্ট্র – ইউক্রেনকে।
গত ২০১৪ সাল থেকে ইইউ, আমেরিকাসহ ন্যাটো ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য করে নেয়া হবে বলে প্রলুব্ধ করে আসছিল  – তাই ন্যাটোর সদস্যপদ ইউক্রেনের কাছে এক সোনার হরিণ করে গড়ে তোলা হয়েছিল। যদিও এমন কথার আবার এর উল্টা দিকও আছে।
বলা হয় ১৫৪৭ সাল ষষ্ঠ ইভান [Ivan IV, Ivan Vasilyevich] এর আমল থেকে রাশিয়ায় জার সাম্রাজ্যের শাসন শুরু হয়েছিল। আর পরে, ১৬৬৭ সাল থেকে ইউক্রেন রাশিয়ার জার সাম্রাজ্যের অধীনস্থ হয়ে যায়; অর্থাৎ ৪০০ বছরের বেশি ধরে এই অধীনস্থতা যার শেষভাগটা মানে, ১৯১৭ সাল থেকে তা সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনস্থতায় কাটিয়েছিল। আর সেটাই একালে হাজির হয়েছিল বর্তমান পুতিনের রাশিয়ান আধিপত্য থেকে বাইরে থাকার খায়েশ হিসেবে। কারও শাসন-আধিপত্য থেকে বের হবার খায়েশ করা মোটেও খারাপ বা অন্যায় কিছু নয়। কিন্তু তা বলে বাস্তবতা ফেলে হারিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়াও যাবে না এবং এর মানে হয় না। তাই এখানে প্রধান সমস্যাটা হল, এবারের চেষ্টাটা আসলেই “আগের সব অধীনতা থেকে বের হওয়াই তো হবে না উল্টা, পশ্চিমের হাতেই ব্যবহৃত হয়ে যাওয়া হবে”! বাইডেনের হাতে বলি হয়ে আরেকবার “শহিদ” হয়ে যাবার দাঁড়প্রান্তে ইউক্রেন। এদিকটাই বাস্তব সম্মতভাবে ভেবে দেখেনি তারা! কাজেই এখন অন্তত অপমান ও বিড়ম্বনা মধ্যে দিয়েও যদি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে ব্যাপারটা শেষ হয় তবে সেটাই জেলেনস্কির ইউক্রেনের জন্য মন্দের ভাল, বলে তারা ভাবা শুরু করে দিয়েছে!! যদিও আরো কিছু খারাপ কিছু তাদের জন্য অপেক্ষা না করে থাকে!

এটা বলার এখন সম্ভবত সময় হয়েছে যে, এই চলতি যুদ্ধ প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে এক কঠিন বাস্তবতার উপলব্ধিতে পৌঁছে দিয়েছে যে তিনি বোকা হয়ে গেছেন, প্রতারিত হয়েছেন – ন্যাটোর সদস্যপদ এক সোনার হরিণ ছিল – এই লোভ দেখিয়ে তাকে প্রতারণা করে বেপথে নেয়া হয়েছে।

কিন্তু আবারো সেই মূল কথা। বাইডেন এই যুদ্ধে হেরে গেছেন, যাচ্ছেন। তারও যুদ্ধের শখ মিটে গেছে হয়ত! তবে তিনি হেরে গেছেন এ কথা আড়ালে ফেলে যুদ্ধের কী করে সমাপ্তি টানা যায় এটা এখনও বাইডেনকে অর্জন করতে হবে – এটাই তার প্রধান লক্ষ্য এবং সবচেয়ে কঠিন কাজের অংশ!

বাইডেন কেন এবিসি নিউজ বেছে নিলেনঃ
এখন আমরা আসি, এবিসি নিউজে। উপরে দেয়া ব্যাখ্যাগুলোর প্রমাণ মিলিয়ে নিব।  বাইডেন এবিসি নিউজকেই বেছে নিয়েছেন কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তাঁকে এখন ফেলে পালাতে হবে। আর পরাজিত ও পালিয়ে যাওয়াটা কোনো এক ভিন্ন গল্পের আড়ালে ফেলা, এই প্রধান কাজে বাইডেনের কাছে এখন সবচেয়ে মুখ্য শ্রোতা-পাবলিক হল আমেরিকার সাধারণ মানুষ, ভোটার। যেন তিনি আমেরিকাকে ইউক্রেন যুদ্ধে নেন নাই ও  হারাননি – অন্তত এটুকু প্রতিষ্ঠিত করাই তার এখন একমাত্র লক্ষ্য। কারণ আগামী নভেম্বর ২০২২ হবে বাইডেনের ‘বিচারের দিন’ – সেটা হবে, বাইডেনের পারফরমেন্স নিয়ে বিচার – এটাই হবে আমেরিকার এবারের মিডটার্ম [mid-term] নির্বাচনের প্রধান ইস্যু। যেখানে গত বছর থেকে মূলত মুদ্রাস্ফীতির কারণে আমেরিকার বিভিন্ন সার্ভে রিপোর্টে এটা ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত যে, বাইডেনের দল এখানে খারাপ ফল করবে। এনিয়ে আমার পুরানো লেখা এখানে পাবেন।  এর ওপর যদি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে হেরে গেছেন বাইডেন এই বয়ান স্থিতি পায় তবে বাইডেন সব কুল-ই হারাবেন। এজন্য সম্ভবত  হেরে যাওয়ার বয়ানকে বিজয়ী বা থিতু হতে না দেয়া বাইডেনের প্রধান লক্ষ্য। এতে তিনি কতটুকু সফল, আদৌ হতে পারেন কিনা তা সামনে দেখার বিষয়!

বাইডেন হেরেছেন, জেলেনস্কি প্রধান সাক্ষীঃ
কথাটা হল আসলে, জেলেনস্কির হাতে বাইডেনের ভাগ্য আটকে গেছে – এটাই মূল কথা। কিভাবে?
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পুতিন ইউক্রেন হামলা শুরু করে ইউক্রেনের সবাইকে পর্যুদস্ত করা শুরু করেছেন। আর এতে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ দিকটা হল, জেলেনস্কি অবাক চোখে দেখেছিলেন তার পাশে কেউ নেই, কেউ আসেনি। না ন্যাটো, না ইইউর কোন দেশ, না আমেরিকা। তিনি এই ক্ষোভ ও অপমান না লুকিয়ে পরের দিন সকাল থেকে অভিযোগ করতে থাকেন যে, ‘কেউ পাশে আসেনি, তারা একাই লড়ছেন’ [We’re defending Ukraine alone’, ]। আমেরিকার জন্য এই অভিযোগ মারাত্মক!
আসলে মারাত্মক না হয়ে উপায় কী? জেলেনস্কিকে দেয়া বাইডেনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির চাতুরি একদিন তো প্রকাশ্যে এসে যাবেই! সেটাই সেদিন ঘটেছিল!

আর জেলেনস্কির এ অভিযোগই ছিল প্রথম সাক্ষ্য যে, বাইডেন হারতে যাচ্ছেন। আসছি সে কথায়। কিন্তু এতে বাইডেনের পক্ষে আর মূল সত্যটা লুকিয়ে রাখাই অসম্ভব হয়ে যায়। পরদিনই বাইডেনের মুখপাত্র জেন সাকিকে [Jen Psaki] দিয়ে বাইডেন পরিষ্কার করে বলে দেয়া ছাড়া উপায় ছিল না যে, আমেরিকা ইউক্রেনের পক্ষে কোনো যুদ্ধেই যাবে না; যাবার ইচ্ছাও কখনোই ছিল না। সেটা রাশিয়ার সাথে সরাসরি কোনো যুদ্ধে তো নয়ই [কোনো অবস্থাতেই রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ নয়: যুক্তরাষ্ট্র], এমনকি ইউক্রেনের মাটিতেও আমেরিকা কোনো যুদ্ধে যাবে না […the President has no intention of sending U.S. military or U.S. troops to fight in Ukraine.  ]। তাহলে, জেলেনস্কির ইউক্রেনকে যুদ্ধের মুখে ফেলা হল কেন? না, এর কোন জবাব পশ্চিম বা বাইডেনের কাছে নাই। তারা দিবে না!!! এই হল দায়ীত্বজ্ঞান-হীন ও দেউলিয়া গ্লোবাল নেতা!!!

কারণ বাইডেনের কথিত মুল পরিকল্পনা অনুসারে রাশিয়ার সাথে তিনি তো লড়বেন বিনা-অস্ত্রে ও বিনাযুদ্ধে এবং তা কেবল অবরোধ ও মানবাধিকার এ দুই হাতিয়ার দিয়ে। কিন্তু এসবের চেয়েও সবচেয়ে অনৈতিক কথাটা হল, এ বিষয়টাই মানে আমেরিকা যে রাশিয়ার সাথে কোন যুদ্ধেই যাবে না একথা  জেলেনস্কিকে জানানো হয়নি। পশ্চিমের কেউ-ই তা জানাতেই চায়নি। শুধু তা-ই না, তাকে ন্যাটোর সদস্যপদের লোভ দেখিয়ে যুদ্ধে টেনে আনা হয়েছে। সরাসরি বললে, যেটা শ্রেফ একটা প্রতারণা; অর্থাৎ  এখন আগামীতে এ নিয়ে যদি জেলেনস্কি প্রতারণার অভিযোগ তোলেন তবে এটিই হবে বাইডেনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সাক্ষ্য যে, তিনি এই যুদ্ধে হেরে গেছেন এবং কেন হেরেছেন!

তাই বাইডেন এখন থেকেই জেলেনস্কির সাথে নিজের ভাগ্যকে বাঁধাবাঁধি শুরু করেছেন। কারণ জেলেনস্কিও তো তার ইউক্রেনীয় নাগরিকদের ভুল ও মিথ্যা বুঝিয়েছেন, যুদ্ধে টেনে নিয়ে গেছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবেও এটা তার অযোগ্যতা যে, তিনি বুঝতেও পারেননি যে, পশ্চিমের কেউই যুদ্ধে তাদের পাশে আসবেই না; আসলে সবই ছিল মিথ্যা প্রতিশ্রুতি; অর্থাৎ জনগণকে প্রতারণার মুখে ফেলে দেয়া এটাই এখন একা জেলেনস্কির সবচেয়ে বড় অপরাধ এবং অযোগ্যতাও যে তিনি বুঝতেই পারেননি, এরা প্রতারক!

কাজেই জেলেনস্কি আর বাইডেনের ইজ্জত বাঁচানো এখন এক সূত্রে গাঁথা হয়ে গেছে! দু’জনকেই নিজ নিজ পাবলিকের হাত থেকে বাঁচতে হবে!! এটা এমনই এক পরিস্থিতির মুখোমুখি তারা!!

[জেলেনস্কির এবিসিতে দেয়া সাক্ষাতকারের চুম্বক অংশের ইংরাজিতে টেক্সট আকারে রিপোর্টে এনেছে মূলত বার্তা সংস্থা এএফপি। আর সেটা পাওয়া যাচ্ছে ইংরাজিতে  FRANCE24  আর  Singapore Strait Times, এখানে। আর ফরাসী নিউজটারই  বাংলা অনুবাদ লিঙ্ক এখানে দেয়া হয়েছে। অনুবাদ করেছে সাইফুল ইসলাম, সব ক্রেডিট তাঁর।]

সম্ভবত এ কারণেই জেলেনস্কির এই সাক্ষাৎকারটা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ শ্রোতারাই মুখ্য টার্গেট শ্রোতা হোক এই বিবেচনায় এবিসি নিউজে আয়োজন করা হয়। আবার,এখানে  প্রশ্নও ইংরেজিতে করা হবে কিন্তু জেলেনস্কি এর জবাব দেবেন তার (ইউক্রেনীয়) স্থানীয় ভাষায়। যেটা আবার এবিসি অনুবাদ করে ইংরেজিতে প্রকাশ করবে। এই হলো অ্যারেঞ্জমেন্ট, অর্থাৎ জেলেনস্কির অনুমান যে, নিজ ভাষায় বললে নিজ ইয়ার জনগণ বুঝবে ভাল বুঝবে; এছাড়া তিনি কি বলেছেন, কেন বলেছেন তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিবাদ যেটা নিকট আগামিতে উঠতে বাধ্য তাতে জেলেনস্কি ভাল অবস্থায় থাকবেন – এই হল অনুমান। আমরা এখানে মনে রাখতে পারি যে, কোনো যুদ্ধে পরাজিত হওয়া বা পাবলিককে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে ফেলার দায়ে যুদ্ধ শেষে সব শাসককেই ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়।  মানুষ কোন পরাজিত শাসককে দেখতে পছন্দ করে না, করে নাই। সবাইকে দায় নিয়ে শেষে “আইয়ুব খান-ই” হয়ে যেতে হয়। ফলে এ যুদ্ধ শেষ হওয়ামাত্রই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিবাদ, কার দোষে এই দুর্ভোগ, মিস-হ্যান্ডলিং – এসব অভিযোগে্র জোয়ার উঠবেই আর তাতে ইউক্রেন শাসকের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবলই হবে। তাই এই সাক্ষাৎকারের জেলেনস্কির বয়ানের মধ্যে    যুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গে বাইডেনকে দায়ী না করে জেলেনস্কির কোন উপায় থাকে নাই। আবার এই দায়-অভিযোগে বাইডেনও হেরে গেছেন এটাই সাক্ষ্য দেয়াও হয়ে যাচ্ছে আর এর প্রধান সাক্ষী হয়ে থাকছেন ওই জেলেনস্কিই!!

অতএব জেলেনস্কি এই সাক্ষাৎকারে তিনি পশ্চিম বা বাইডেনকে অভিযুক্ত না করে পারেননি। “ন্যাটো সদস্য না করা” আর ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর ওপর দিয়ে রাশিয়ার জন্য চলাচলে [unhappy Zelenskiy ] “নো ফ্লাই জোন” ঘোষণা না দেয়ার জন্য সরাসরি অভিযুক্তই করেছেন। এ সাক্ষাৎকারেই তিনি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, “ন্যাটোর এই প্রশ্নে আমি নিজেকে ঠাণ্ডা করে নিয়েছি [I have cooled down ...] বেশ আগেই; যখন আমি বুঝে গেছি, ন্যাটো ইউক্রেনকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়”। এটাই আসলে সববকথার এক কথা যে “ন্যাটো সদস্য হবার শখ মিটে গেছে“। আর পরিষ্কার করে বলা যে, মিথ্যা আশ্বাসে পশ্চিম (আমেরিকা ও ইইউ) ইউক্রেনের সাথে প্রতারণা করেছে। এ কারণে নিজেই নিজের আকাঙ্খাকে দমন করতে হয়েছে, মেরে ফেলতে হয়েছে যদিও এখন তাঁর এভাবে বলার কারণে ইউক্রেনবাসী কাকে মাফ করবেন, কাকে ছুড়ে ফেলবেন আমরা জানি না।

“I have cooled down regarding this question a long time ago after we understood that … NATO is not prepared to accept Ukraine,” Zelensky said in an interview aired Monday night on ABC News.

আর ন্যাটো নিয়ে তিনি পরোক্ষে বলে দিয়েছেন, ‘ন্যাটো জোট রাশিয়ার সাথে সঙ্ঘাতে যেতে বা বিতর্কে  [The alliance is afraid of controversial things, and confrontation with Russia,” ] জড়াতে ভয় পায়, ভীত” [সত্যি বলতে, সবাই ভয় পায়: জেলেনস্কি]।’ তিনি আরো বলছেন, ‘আর আমিও অন্যের কাছ থেকে ভিক্ষা করে পায়ের নিচে গড়াগড়ি খাওয়ার বিনিময়ে কিছু আনব, এমন প্রেসিডেন্ট হতে চাই না [not want to be president of a “country which is begging something on its knees.”]।’

আর এটাই হল, যতটা সম্ভব বাইডেনের ইজ্জতের দিকে খেয়াল করে জেলেনস্কির নিজ ইজ্জত বাঁচানোর চেষ্টা। যদিও সেটা এই প্রচেষ্টা মনে হয় বৃথা যাবে কারণ তাহলে ইউক্রেনের জনগণকে ন্যাটোর কাছে নিয়ে গিয়েছিল কে? কিসের ভরসায়? কে দিয়েছিল সেই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি – এসব প্রশ্নে জেলেনস্কি লা-জবাব থাকতে পারেন না।

রাশিয়ার সাথেও কথা হয়েছেঃ
এটা এখন পরিষ্কার যে, বাইডেন-জেলেনস্কির হার লুকানোর প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার সাথেও তাদের কথা হয়ে গেছে। এর সবচেয়ে ভালো প্রমাণ এপর্যন্ত দুটো পাওয়া যাচ্ছে। এক হল, রাশিয়া যুদ্ধ থামাবে কি শর্তে, সে কথাটা আবার এক রাশিয়ান সরকারি মুখপাত্রকে দিয়ে স্পষ্ট করে বলানো। মুখপাত্র স্পষ্ট করে তিন শর্তের কথা বলেছেন, যেটা আগেও রাশিয়া-ফ্রান্স আলোচনায় পুতিন স্পষ্ট করে বলেছিলেন। তবে এবার বাড়তি হল যে, শর্ত মানলে রাশিয়া যুদ্ধ থামাবে তো? এর নিশ্চয়তাই নিশ্চিত করেন ক্রেমলিন  মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। এনিয়ে রয়টার্সের রিপোর্টের শিরোনামই স্পষ্ট। শিরোনাম হলো, “ইউক্রেনকে দেয়া শর্ত পূরণ হলেই ‘মুহূর্তের মধ্যে’ রাশিয়া থেমে যাবে – ক্রেমলিন” [Russia will stop ‘in a moment’ if Ukraine meets terms – Kremlin]।”

এ নিয়ে বাইডেন-জেলেনস্কির যে কথা হয়েছে এর প্রমাণ হলসেটা বুঝা যায়, জেলেনস্কি যখন সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেন, এক. তিনি আলোচনায় আপস করতে প্রস্তুত যে রাশিয়া প্রভাবিত ইউক্রেনের দুই প্রদেশের স্বাধীনতা নিয়ে আপসে তিনি প্রস্তুত [Zelensky said he is open to “compromise” on the status of two breakaway pro-Russian territories…]। তিনি এদের “নিরাপত্তার গ্যারান্টি” দিতে চেয়ে কথা বলেছেন।
কিন্তু এত সহজে কেন জেলেনস্কির এই উদারতা? উত্তর আসলে খুব সোজা। কারণ ওদিকে পুতিনও আগেই জানিয়ে দিয়েছেন যে, ঠিক জেলেনস্কিকে ক্ষমতাচ্যুত করা বা কোনো রেজিম চেঞ্জ করা আর রাশিয়ার আক্রমণের লক্ষ্য নয়। কেবল ওই তিন দফাই তার যুদ্ধ বন্ধের মূল শর্ত। তাই ‘ক্ষমতায় থাকছেন’ এ কথা শোনার পরে জেলেনস্কি জান হাতে ফিরে পেয়ে রাশিয়ার সাথে আপসে রাজি হয়েছেন। একথাটা আর কাউকে বুঝিয়ে বলার দরকার পড়ে না।

আর পুতিনের শর্ত তিনটা হলঃ
১। ‘ইউক্রেন নিরেপেক্ষ হয়ে যাবে’ [ Kremlin says it insists on neutrality for Ukraine]। এ জন্য তার কনস্টিটিউশন সংশোধন করে এ কথাগুলো সেখানে ঢুকাবে। অন্য ভাষায় রাশিয়ার নিরাপত্তাবোধে অভাব সৃষ্টি করবে না, ন্যাটোর সদস্য হতেও আর চেষ্টা করবে না।
২। রাশিয়া ইউক্রেনকে অসামরিকীকরণের কাজ শেষ করবে [ Russia “will finish” demilitarisation of the country]।
৩। বিচ্ছিন্ন দুই প্রদেশ যার বাসিন্দারা এথনিক রাশিয়ান, সে দুই আবাসভূমিকে স্বাধীন দেশ বলে মানবে, ক্রাইমিয়ার বিচ্ছিন্ন হয়ে রাশিয়ার সাথে যুক্ত হওয়াকেও মেনে নেবে [Wants Kyiv to recognise breakaway regions, loss of Crimea]।

এক কথায় তাহলে, এবিসির সাক্ষাৎকারটা হল, রাশিয়া-ইউক্রেন কী কী ব্যাপারে আপস করবে এরই আগাম প্রতিশ্রুতি বিনিময়ের সাক্ষাৎকার। এসব বক্তব্যের ভিত্তিতে এখন রাশিয়া-ইউক্রেন বসে ফাইনাল খুঁটিনাটি চুক্তিপত্র ঠিক করে নেবে। অতএব কেস ফরফিট এবং যুদ্ধ থামার পথে।

তাহলে কী বাইডেনের অবরোধ এখন উঠে যাবে?
সরাসরি বললে, বাইডেন আশা করে আছেন এটাই সেই জায়গা। কিন্তু তাতে এখন ইউক্রেন রাশিয়ার সাথে কি আরো খারাপ কোনো চুক্তি করে রাশিয়ার ভিতর ঢুকে গেল কিনা সেদিকে বাইডেনের কোনো আগ্রহ নেই। তিনি চেয়েছিলেন রাশিয়ার ওপর অবরোধ জারি করতে – এখন তাই তিনি তো তিনি কামিয়ে ফেলেছেন ফলে সেখানেই মনোযোগ দিতে চান। কিন্তু অন্তত এখানে কি বাইডেনের আশা পূরণ হবে?

কোন সকাল-কে দেখলেই বোঝা যায় যে, দিনের বেলায় বাকি সময়ে আর কী হবে। এই তত্ত্ব-অনুসারে এবার ইউরোপ একেবারে পিছটান দিয়ে ভেগে যেতে চাইছে। তারা বাইডেনের হাত ছেড়ে দিয়েছে এরই মধ্যে বলা যায়। কিভাবে?

ইইউর প্রভাবশালী নীতিনির্ধারক ধরা হয় ফ্রান্স ও জার্মানিকে। মানে এদের প্রভাবকে। এরই মধ্যে জার্মানি, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে, রাশিয়ান তেল ও গ্যাস ছাড়া তারা চলতে পারবে না। জার্মান ডয়েচে ভেলের বরাতে ঢাকার এক বাংলা পত্রিকা রিপোর্টের শিরোনাম, ‘রাশিয়ার তেল-গ্যাসে নিষেধাজ্ঞা চায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের অসম্মতি’ রাশিয়ান তেল-গ্যাসে এমনিতেই জার্মানির নির্ভরশীলতা প্রায় ৪৫ ভাগ। অন্য সবাইও কমবেশি নির্ভরশীল। এ দিকে ডাচ ও ফরাসি সরকারপ্রধানদ্বয় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে [Dutch PM: Not possible for Europe to cut off Russian oil and gas immediately ] পরিষ্কার করে বলে দিলেন, রাশিয়ার জ্বালানি ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য তা ‘আনসাসটেইনেবল’, মানে টেকা অসম্ভব […would be unsustainable for European Union member countries.]।

সোজা ভাষায়, রাশিয়ান জ্বালানি ইস্যুতে আমেরিকা-ইইউ আলাদা আলাদা রাস্তা ধরে ফেলেছে এরই মধ্যে; অর্থাৎ পুতিনের হুমকিটাই যেন কার্যকর যে, তিনি বলেছিলেন, আমাদের তেল না নিলে ‘ব্যারেল তিন শ ডলারে কিনতে প্রস্তুত হও’।

বাইডেন কি নাদান?
বাইডেন যেকথা আগাম ধরে নিয়েছিলেন তা হল, রাশিয়া মূলত ইউরোপকে অবরোধের কারণে জ্বালানি বেচতে না পারলে আর তার ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদ আমেরিকার হাতে  আটকে থেকে গেলে রাশিয়ার আর কিছুই করার থাকবে না – সব স্তব্ধ হয়ে যাবে!! অথচ আমেরিকার একজন প্রেসিডেন্ট এসব মনগড়া অনুমানে কি চলতে পারেন? বাইডেনের অনুমান আংশিক অবশ্য সত্য, সন্দেহ নেই। কিন্তু এটা ঘটনার একটি পিঠ; যার অন্য পিঠের  খবর ওখানে নাই, নেয়া হয়নি।
আসলে, দুনিয়ার সব বেচাবিক্রি মানেই তা কেবল একপক্ষীয়ভাবে দেখা। কারণ যেটা বেচাবিক্রি সে্টাই আবার আরেক দিক থেকে একই সাথে কেনাও বটে। কাজেই রাশিয়া বেচতে না পারলে যেমন বিপদ প্রায় তেমনিই বিপদ জ্বালানি ক্রেতারও। বাইডেন ইউরোপীয় ক্রেতার দিকটা দেখতেই চাননি। ফলে বাস্তবতা হল, ক্রেতা ইইউর সব সদস্যের জন্যই এটা রাশিয়ার মতোই সমান সঙ্কটের। এছাড়াও কথা আরো আছে।
যদি ইউরোপ রাশিয়ান তেল-গ্যাস না কিনে বিকল্পভাবে কাতার বা অন্য কোথাও থেকে কিনতে চায় তা হলে সেই বিকল্প জ্বালানি যদি পাওয়াও যায় তবু সেটা বিপদেরই হবে। কারণ অবকাঠামো কোথায়? এটা তো পাড়ার বাজার ফেলে বিকল্প হিশাবে কাওরানবাজারে বাজার করতে যাওয়া নয়। গ্যাস-তেলের জন্য এখন নতুন করে বিকল্প পাইপলাইন বসাতেও তো কমপক্ষে তিন বছর লাগবে। এছাড়া বিনিয়োগের খরচ তোলার ব্যাপার আছে, কে দিবে? যে তেলের দাম এত দিন আশি ডলারে আটকে রাখার কসরত চলছিল এর মাঝেই এই যুদ্ধ এটাকে এরই মধ্যে প্রায় দেড়গুণ বাড়িয়ে ১১২ ডলারে নিয়ে গেছে। আর তেল বাজারের অনুমান হল এটা এমন চলতে থাকলে ১২০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।
তাই, বাইডেনের তেল অবরোধের খায়েশ পূরণ করতে চাইলে তেলের দাম পুরনো ৮০ ডলারে ফিরে যাওয়া দূরে থাক এটা কি সত্যিই ৩০০ ডলারের দিকে যাত্রা শুরু করবে? করোনার ধাক্কা সামলাতে যেখানে সারা দুনিয়া মন্দা আর মুদ্রাস্ফীতির কবলে, সেখানে এই নতুন তেলের দামের বোঝা কয়টা দেশ সামলাতে পারবে? বাছবিচারহীন বাইডেনের এমন পদক্ষেপকেই সম্ভবত আক্কেলের অভাব বলে!
ওদিকে তেলের দাম না কমার মূল কারণ বলা হচ্ছে এখনও কোন দেশ বা সোর্স থেকে কেন দেশ তেল কিনে থাকে সেই সোর্স ইচ্ছামত বদলাবার মত প্রচুর বিকল্প সোর্স নাই। আর তেলের বাজারটাই এখন চলে গেছে একেবারেই স্পেকুলেটিভ মার্কেটে; মানে যেভাবে গ্লোবাল শেয়ার বাজার  স্পেকুলেটিভ মার্কেট সেরকম। তাই এখানে ব্রিয়েল ক্রেতা আর বিক্রেতার মাঝেই হাত বদল হয় এমন কমপক্ষে আরো তিনটা পক্ষ-পার্টি, এমন শেয়ার ক্রেতা বা শুধু ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) ক্রেতা ঢুকে আছে। একারণে তেলের দাম যতই অস্থির ততই ডিও ক্রেতায় ভরপুর হয়ে উঠে এই বাজার। এরই নিট ফলাফল হল শেষে লজ্জার মাথা খেয়ে বাইডেন ভেনিজুয়েলাকে বা মধ্যপ্রাচ্যে ফোন করতে হচ্ছে। অথচ ভেনিজুয়েলাকে আগের আরোপিত স্যাংশন এখনও বহাল। তাই লোভ দেখানো হচ্ছে ইউরোপের বিক্রেতা হতে। রাজি হলে স্যাংশন তুলে নেয়া হবে। তবুও কোন নড়নচরন দেখা যাচ্ছে না। এটাই এই বাজারে হওয়ার কথা। সবাই ওয়েট করছে দাম আরো বাড়ার জন্য…। আগ্রহিরা তাও পড়তে পারেন –Why US can and EU can’t ban Russian oil। আর একেই বলে বাইডেনকে – “কত ধানে কত চাল হয় শিখিয়ে দেয়া”।
যে কারণে রাশিয়ান জ্বালানি ইস্যুতে আমেরিকা-ইইউ আলাদা আলাদা রাস্তা প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। এজন্যই জর্মান ডয়েচ ভেলের রিপোর্ট, 
European leaders wary of cutting off Russian oil and gas । তাই আপনি যদি বাইডেনের শুধু কথা শুনেন তো “গায়ে বল বল ঠেকবে”। কিন্তু বাস্তবতা? ঠিক উল্টাটা যে আপনি আটকে গেছেন, নিজের অবিবেচক গর্বের ফাঁদে নিজেই বন্দি হয়ে পড়েছেন!!!

তাহলে এখন একা কে? পুতিন না বাইডেন?
পশ্চিম এখন স্বীকার করছে  – Outside the West, Putin is less isolated than you might think
এর কারণ, খুব সম্ভবত পশ্চিমের নখড়া দেখতে দেখতে – যারা মিথ্যা বলে,  আর চাতুরি করে বলে একটা করে আরেকটা – আমরা বাকি দেশেরা ক্লান্ত ও বিরক্ত!!

তাই, এখন আনপপুলার সিটিং প্রেসিডেন্টের প্রধান উদাহরণ হতে যাচ্ছেন বাইডেন!
আর এথেকে বাইনারিতে এমন মানে করা ভুল হবে যে তাহলে পুতিন খুবই ভাল লোক বলা হচ্ছে এখানে!!!

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
goutamdas1958@hotmail.com

 

[এই লেখাটা  দৈনিক  “নয়াদিগন্ত” পত্রিকার  ১২ মার্চ  ২০২২ ওয়েবে আর পরদিন প্রিন্টে   ইউক্রেনের হার লুকানোর প্রক্রিয়া শুরু?– এই শিরোনামে  ছাপা হয়েছিল।   ঐ ছাপা হওয়া লেখাগুলোকে আমার লেখার ‘ফার্স্ট ড্রাফট’ বলা যায়।  আর আমার এই নিজস্ব সাইটের লেখাটাকে সেকেন্ড ভার্সান হিসাবে এবং  থিতু ভাষ্য বলে পাঠক গণ্য করতে পারেন।  আসলে পরবর্তিতে ‘ফার্স্ট ড্রাফট’ লেখাটাকেই এখানে আরও অনেক নতুন তথ্যসহ বহু আপডেট করা হয়েছে। ফলে সেটা নতুন করে সংযোজিত ও এডিটেড এক সম্পুর্ণ নতুন ভার্সান হিসাবে ও নতুন শিরোনামে এখানে আজ ছাপা হল। ]

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s