এবারের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের তামাশাগুলো


এবারের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের তামাশাগুলো
গৌতম দাস
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫   বিকাল ৫ঃ ১৭
https://wp.me/p1sCvy-6yb

 

[এই লেখাটার পিছনে একটা দুঃখের কাহিনী আছে। সংক্ষেপে বললে, এলেখা দুদিন আগে আমার সাপ্তাহিক লেখা হিসাবে দৈনিক যুগান্তরে পেশ করা হয়েছিল, ছাপানোর জন্য। কিন্তু সম্পাদকীয় বিভাগ এটা সেদিন থেকে ছাপতে পারছিল না। অবশেষে আজ বিকালে আমাকে জানায় দিল তারা আর আমার লেখা ছাপতে পারবে না। না আমার এই লেখার বিষয় কী বা শিরোনাম কী ইত্যাদি সেটা কোন প্রশ্নই নয়। প্রশ্ন হল আমি নিজেই।  গৌতম দাসের কোন লেখা তারা ছাপতে পারবে না। অনুমানে যে ধারণা পেলাম কোন রাজনৈতিক দলের আপত্তি! মানে এরা ক্ষমতায় আসীন না হলেও হওয়ার আগেই তারা সেনসরশীপ বা মিডিয়া ডিকটেশন চালু করে দিয়েছে। অর্থাৎ হাসিনা ফিরে না আসলেও ইউনুস ক্ষমতায় থাকতে থাকতেই নয়া হাসিনারা একটিভ হয়ে গেছে! রক্তের ফোঁটা এখনও ঝড়ছেই এর আগেই পুরানা জমানা আসন ফেলে বসে গেছে। এনি ওয়ে। তাই সে লেখাটাই কোন কিছু না বদলিয়ে এখানে এখনই হুবহু ছাপিয়ে দিলাম। ]

 

 

প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের কয়েকদিন ধরে জাতিসংঘের জেনারেল এসেম্বলি বা সাধারণ পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে নির্ধারিতই থাকে।যেকোন আম-সদস্যরাষ্ট্র এখানে এসে ঐসময়েই একমাত্র বক্তব্য রাখতে ইচ্ছা প্রকাশ করলে তা করতে পারেন।
এটা প্রতিবছর সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসের (দেখা যায় মাসের ২০ তারিখের) পরের মঙ্গলবারে চালু হয়ে থাকে। সাধারণ পরিষদ মানে যেখানে (১৯৩ মোট সদস্যরাষ্ট্রের যেকোন) সাধারণ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি ঐ সময়েই কেবল উপস্থিতি হয়ে তার বক্তব্য রাখতে পারে। একটু সাথে বলে রাখা ভাল এটা সাধারণ পরিষদ হলেও অন্য এক জাতিসংঘ ফোরাম মানে – “সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের” পরিষদ এটা নয়। সেটা জাতিসংঘেরই আরেকটা ফোরাম / কমিটি আছে যার নাম ‘সিরিউরিটি কাউন্সিল’ বা নিরাপত্তা পরিষদ; যার মোট সদস্য ১৫। এর মধ্যে আবার পাঁচটা স্থায়ী বা ভেটোক্ষমতা-ওয়ালা রাষ্ট্র আর বাকি দশটা ভৌগলিক বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঐ অঞ্চলের সদস্যরাষ্ট্রের সমর্থনে নির্বাচিত প্রতিনিধি এমন সদস্যরাষ্ট্র, যারা রোটেশনে একেক সময়ে একেকটা রাষ্ট্র সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসে। আর ওদের আয়ু থাকে সুনির্দিষ্ট দুই বছর। আর এই নিরাপত্তা পরিষদে দুইটা বৈশিষ্ট মেনে চলতে হয়। এক মোট নয় সদস্য একদিকে হলেই সেই সিদ্ধান্ত বলে গৃহিত হয়েছে ধরা হয়। আর দুই. সেটা হল আরেক সাধারণ বৈশিষ্ট যে, নিরাপত্তা পরিষদের ভেটোক্ষমতার কোন একটা সদস্য যদি ‘না’ করে দেয় তো সেই প্রস্তাব আর আলোচনাই হবে না; সিদ্ধান্ত তো অনেক দুরের কথা। জাতিসংঘের যেকোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক বডি হল এই নিরাপত্তা কাউন্সিল; যার উপর কথা নাই। আজকের মূল প্রসঙ্গ সাধারণ পরিষদ কিন্তু আমি সাথে তুলনার জন্য ‘নিরাপত্তা কাউন্সিল’ এর কথাটাও জানায় রাখলাম।
আমাদের প্রধান নির্বাহি ডঃ ইউনুস এবার ২১ সেপ্টেম্বর রাতেই ঢাকা ছেড়েছিলেন সে এক বড় লটবহর নিয়ে যা প্রায় হাসিনার মতই। তফাত খালি তিনি ব্যক্তিগত ঘোড়ায় মানে ‘বাংলাদেশ বিমানে’ চড়ে যান নাই যে বাসায় ঢুকার আগে বাইরের দরজায় ঐ সাত / দশদিন খামোখা ঘোড়াটা বেধে রাখবেন। বাণিজ্যিক বিমানেই গিয়েছেন। যদিও তিনি বাংলাদেশ বিমানের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে গিয়ে আর কেবল ঘোড়া দরজায় অচল বসিয়ে না রাখলেই হত – এমন করতে পারতেন।
এছাড়া এবারের সফরসঙ্গির সংখ্যা দৃষ্টকটু আর হাসিনার মত বাহুল্যই মনে হয়েছে। এনিয়ে কথাও শুরু হয়েছে। টিআইবি নামের এনজিও যারা নিজেকে সততার মূল দোকান মনে করে তারা সফরসঙ্গি ১০০ এর কাছাকাছি হওয়াতে সমালোচনা করেছে। যদিও অপরজন দাবি করছেন সংখ্যাটা ৬২ আর সেটাও গত বছরের সংখ্যা ৫৭ – মানে এর চেয়েও বেশি।  এবার ইউনুসের উপদেষ্টা বা সমতুল্য প্রধান সহকারিরা মিলিয়ে প্রায় দশজন সাথে গিয়েছেন।
এককথায় বললে বাংলাদেশ সরকারের কাজেকর্মে হাসিনা যেসব কুঅভ্যাসে যেসব ভাইস বা পাপের জীবানু ঢুকিয়ে বা চালু করে দিয়ে গেছেন সেটা মন্ত্রণালয়ের ঘুষ থেকে শুরু করে সবকিছুতেই – এর কিছুই পরবর্তি একালে সহজে আমাদের পিছু ছাড়ছে না। বরং সেটাই “মডেল” হয়ে গেছে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে গতকাল ছিল ইউনুসের বক্তব্য রাখার পালা। সেখানে “ত্রি-জিরো” টাইপের উদ্বুদ্ধকরণ প্যাচাল বা মিথ্যা উত্তেজনা তৈরি এবার কমই ছিল বলা যায়। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে কচলানি, হাতিঘোড়া মারার কথা এবার দূরে থাক দেশে রোহিঙ্গা পালবার যে খরচ এর কিছুই তিনি এখনও জোগাড় করতে সক্ষম হন নাই; স্বভাবতই।
ইউনুস-খলিল এর বিশেষত মহামান্য খলিল সারাজীবন ইউএন কম্পাউডে চক্কর কাটা লোক হলেও আমেরিকান প্রেসিডেন্টের ঘোষিত পলিসিও স্টাডি করার যোগ্যতা তাঁর নাই; তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি এব্যাপারে খামোখা! এরই শোচনীয় পরাজয় আমরা দাড়ায় দাড়ায় দেখেই চলছি। তাদের কাছে আমেরিকা মানে যেন একই আমেরিকা যেটা সেই ১৯৪৫ সাল থেকে চলে আসে আমেরিকা।  আর তাতে আমেরিকা কী খেতে বা খাবলা দিতে ভালবাসে সে অনুযায়ী মন যুগিয়ে বা যোগাড় করে দেওয়াটাই প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের চোখে পড়া আর ইউনুস-খলিলদের কেউকেটা হওয়ার সহজ পথ!
একাজটা যে অনেক সহজেই করা সম্ভব যদি তারা হবু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারণার সময় থেকেই যেসব মৌলিক পলিসি বা গাইডলাইন তাঁরা হাজির করেন সেটা স্টাডি করার; আর এটাই সঠিক এক একাদেমিক / প্রফেশনাল এপ্রোচ সেটা ইউনুস বা খলিল কখনও বুঝেছেন তা মনে হয় না। তাদের লাইন হল তারা থিঙ্কট্যাংক, প্রভা্ব ফেলা কর্তকর্তা আর লবির খাতিরদারির জগতেই লেপ্টে থাকতে চান। এর বাইরে প্রেসিডেন্টের পলিসি বুঝবার যে আসল পথ আছে তা কখনও তারা আমল করেছেন মনে হয় না।
যেমন, ইউনুস-খলিল মনে করেছেন আমেরিকাকে বার্মা-আরাকান দখল করিয়ে দিয়ে তারা আমেরিকার কাছে বিশাল কুতুব-প্রিয়পাত্র হবেন সহজেই! অথচ তাদের যে পলিসি স্টাডিরই মুরোদ নাই তা এখনও টের পেয়েছেন মনে হয় নাই। তারা স্বপ্ন দেখেছেন রোহিঙ্গাদেরকে পরবর্তি ঈদের আগেই তারা ফেরত পাঠিয়ে যার যার বাড়িতে তারা বাবা-মায়ের করব জিয়ারত করার সুযোগ করে দিয়ে পারবেন।
অথচ কেউ ট্রাম্পের পলিসি স্টাডি দূরে থাকে সেটা খুলেই দেখেন নাই।

সবাই কান খুলে শুনে রাখতে পারেনঃ ট্রাম্পের প্রকাশিত মৌলিক পলিসি হল তিনি নিজ রাষ্ট্র পরিচালনার খরচ জবরদস্তিতে হলেও কমাবেনই। এরই অংশ হিসাবে তিনি ইউএসএইড যে সরকারী সংস্থা দিয়ে সরকার লিল্লাহে-দান খয়রাত করে সেই সংস্থা প্রায় বন্ধই করে দিয়েছেন। শুরুতেই একবারে বন্ধ করেছেন ‘রিভিউ’ এর নামে। পরবর্তিতে কোন এনজিওকে আগের মত আর দান-খয়রাত ফিরে চালু করেছেন জানা যায় না।
আর এরই সোজা প্রভাব হল, রোহিঙ্গাদের এখন ফেরত পাঠানো দূরে থাক, তাদেরকে বাংলাদেশ বছরে খাওয়াবার যে বাজেট সেটাই এখন মাত্র ৩৫% আদায় বা প্রতিশ্রুতি যোগাড় করতে পেরেছেন ইউনুস-খলিল!!! আর বাকি অর্থ? ট্রাম্প আর অর্থ দিবেন না জানিয়েছেন। মানে বছরের বাকি দিন কী রোহিঙ্গারা না খেয়ে কাটাবেন? হা বাস্তবতা প্রায় তাই! উলটা এখানে বিশ্বব্যাংক খুবই সদয়(?)! তারা এই লিল্লাহ মহা পুর্ণীর কাজে বাংলাদেশকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করে দিয়েছে ঝড়ের গতিতে। এখন বাংলাদেশের জনগন নিজে না খেতে পেলেও রোহিঙ্গাদেরকেই বসে বসে খাওয়াবে! কী মজা না? আমরা কত মহান জাতি!!!!

আমেরিকান দালাল হতেও যে কিছু পড়াশুনা লাগে; সেকাজে ব্যর্থ হওয়া পড়াশুনা না করা ইউনুস-খলিল এর পাল্লায় পরে আজ আমাদের এই দশা! ট্রাম্পের আমেরিকা ইউনুস-খলিলের দালালিতে আরাকান করিডোর, বার্মার “রেয়ার আর্থ মিনারেল” দখল, চীনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বার্মা দখল রুস্তমি ইত্যাদিতে অন্তত ট্রাম্পের আমেরিকার কোন আগ্রহই নাই! সেটা বেচারা ইউনুস-খলিল দেখতেই পান নাই! উলটা এখন রোহিঙ্গা পালার ৪০০ মিলিয়ন ঋণ দায় বাংলাদেশের আম-জনগণের উপরে! সেটা  ইউনুস-খলিলের এক বিরাট সাকসেস তা মানতেই হবে!  ইউনুস    এর পরেও গতকালের বক্তব্যে ক্ষীণভাবে রোহিঙ্গা ইস্যু এনেছেন এমনকি এবারও রোহিঙ্গা নিয়ে এক গ্লোবাল নেতা সমাবেশ ডেকেছেন জাতিসংঘেই!

কিন্তু, কিন্তু কিন্তু – কী হবে তাতে????
দুনিয়ার অবস্থা ট্রাম্পের পাগলামির এই কালে কী তা এবারের জাতিসংঘে খোলে-আম প্রকাশিত! ট্রাম্পের ভয়ে সারা ইউরোপই চুপ! মুখে তালা! ইউক্রেন যুদ্ধ থামা দূরে থাক আবার আরো জোরে শুরু করার দিকে! কে কার কথা শুনে? ধনি-গরীব সব রাষ্ট্রই আগে নিজে বাঁচলে বাপের নাম  – অবস্থায়! এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা ফেরতের আলোচনা দূরে থাক; রোহিঙ্গাদের বাতসরিক খাওয়া খরচ নিয়েই কোন কমিটমেন্ট করতে ইউরোপ আগ্রহি নয়!
এই অবস্থায় ইউনুস-খলিলের গো-ধরেছে যে আরেকবার এটা তৃতীয়বার তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে নেতাদের আবার ঢাকবেন, সরকারী অর্থ সময় ব্যয় করবেন। যারা পড়াশুনা করে না; ট্রাম্পের ঘোষিত পলিসি স্টাডি করতে জানে না, নিজ মুরোদ যোগ্যতার খবর নাই কেবল চোখভরা চকচকে লোভ আছে দালালির – আমেরিকান দালাল হবে, কী করে বাংলাদেশকে আরো ভালভাবে আমেরিকার হাতে তুলে দিবে – এদের পরিণতি তো এমনই হবে!!!

এবার আসি ট্রাম্পের বক্তৃতায়ঃ
এককথায় বললে এবার ট্রাম্পের ক্ষমতার বা তার পলিসির সার কথাটা হল – রিভার্স মানে উলটা দিকে হাটা। মানে?
স্টাডি করলে দেখা যাবে পুরা দুই বিশ্বযুদ্ধ জুড়ে আমেরিকান পলিসি ছিল ঠিক কী করলে গ্লোবাল নেতা হয়ে উঠা যায়। আরেকটু ভিতরে গিয়ে বললে – কী করলে আমেরিকার বিপুল সঞ্চিত সারপ্লাস বিনিয়োগ পুঁজি হিসাবে আমাদের মত দেশকে এর গ্রাহক / ক্রেতা বানানো যায়। কিন্তু সেকালে যার সামনে প্রধান বাধা ছিল সারা ইউরোপের মূলত পাঁচ দেশ  যারা সারাদুনিয়াকে কলোনিদখল করে অর্থনৈতিকভাবে স্থবির করে রেখেছে। কারণ কলোনিদখলের লক্ষ্য কেবল আমাদের মত দেশ থেকে বাড়তি সম্পদ যা আমাদের অর্থনীতি জমা কর যাচ্ছিল সেই বাড়তিমূল্য-সারপ্লাস সমূলে নিজ নিজ মাস্টার দেশে পাচার করা; এরই মহোতসব। আর ততই আমাদের মত দেশ স্থবির – অর্থনৈতিক ততপরতা কমে আসছে।
এককথায় এই পরিস্থিতিটাই ছিল আমেরিকার গ্লোবাল নেতা হবার খায়েস বাস্তবায়নের সঠিক সময়! আমেরিকা  আমাদের মত দেশ কলোনিমুক্ত স্বাধীন করে আমাদেরকে নিজ বিনিয়োগ-পুঁজির ক্রেতা বানাবে – এমনই এক নীতিতে কিন্তু আমেরিকান নেতৃত্ব-প্রভাবের গ্লোবাল ইকোনমিরীক নয়া দুনিয়ার রূপ দেওয়া ছিল আমেরিকান নীতি।  যা ১৯৪৫ সালে যুদ্ধ সকলেই হেরে বা অধীনস্ত গেলে পরে আমেরিকা গ্লোবাল নেতা হয়ে আসন নিয়েছিল – সেই সাথে দুনিয়া থেকে যুদ্ধ যত কমানো যায় (কারণ যেকোন যুদ্ধ মানেই পুঁজি নষ্ট বা ধ্বংস) এই লক্ষ্যে একটা জাতিসংঘ বানিয়েছিল আমেরিকাস্ন উদ্যোগে যাতে গ্লোবাল পলিটিক্যাল ইন্সটিটিউট বলে প্রতিষ্ঠান একটা শুরু করা যায়।
ফলে স্বভাবতই গ্লোবাল যত দানখয়রাত এর দায়ও একা আমেরিকাকেই নিতে হয়। এর এমনই মাত্র একটা প্রতিষ্ঠান হল জাতিসংঘের অধীনে বিশ্বখাদ্য সংস্থা (ডব্লিউএফও)। লিল্লাহ না খেয়ে থাকা মানুষকে গম বা খাদ্য দিয়ে সহায়তা করে থাকে। আমরাও এই ডব্লিউএফও এর গম খেয়েই শেখের আমলে বেঁচে ছিলাম!

কিন্তু ট্রাম্পই প্রথম কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট যিনি বলছেন তিনি আর দান-দাতব্য প্রতিষ্ঠান চালাবার দায় নিবেন না। কথাটা অন্যভাষায় বললে, আমেরিকা আর গ্লোবাল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সবকিছুতে নেতা থাকতেই চাইছে না। সেটা ট্রাম্প কতটা কী বুঝে বলছেন তা নিয়্যে সন্দেহ থাকলেই ট্রাম্পের সারকথা – আমেরিকা রাষ্ট্রের খরচ কমাতেই হবে। এটা ৩৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণের বোঝা গ্লোবাল বাজার থেকে ইতোমধ্যে নিজ মাথায় নিয়ে ফেলেছে। সাথে গ্লোবাল বাজারে থেকে নয়া ঋণ (সরকারী বন্ড বিক্রি করা) নেয়ার ব্যবস্থাতেও বন্ডের চাহিদা বা কেনার গ্রাহক মারাত্মক কমে গেছে।
মানে হল, যেটা পড়তি গ্লোবাল অর্থনীতির নেতা আমেরিকা আর উঠতি চীনের পালাবদল কীভাবে ঘটবে তা নিয়ে দুনিয়াতে প্রবল আগ্রহ জন্মে আছে সেখানে আমরা সকলে দেখছি ট্রাম্প আগেই রণেভঙ্গ দিয়ে আমেরিকাকে ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে। না তিনি ঠিক নেতাগিরি ছেড়ে দিতে চান তা মনে করেন না। তার কথা হল, তিনি রাষ্ট্রীয় খরচ কমাতে চাচ্ছেন তাতে এর অন্য যা যা অর্থ যাই হোক! কিন্তু আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে ট্রাম্পের এই নীতি-পলিসি গ্লোবাল নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তন যেটা এমনিতেই চীনা নেতৃত্বে আসন্ন সেটাকেই আরো ত্বরান্বিত করে ফেলবে। এছাড়া, সবচেয়ে বড় ফাঁদে পড়ে গেছে খোদ ইইউ যারা এখন একেবারেই দুনিয়াতে প্রভাব রাখার মত কোন নেতা এমন “কেউ না” হয়ে গেছে, আরো যাবে? তারা এখন কীভাবে স্ব স্ব রাষ্ট্রকেই টিকাবে (সারা ইইউ নয়) সেদিকে হাটছে। তাই কোন গ্লোবাল দায় দায়ীত্ব নিতে একেবারেই আগ্রহি নয়।

একারণেই ট্রাম্প যেন নিজেই নিজেকে এক ‘গাধা’ বলে প্রচার শুরু করেছে। যেমন জাতিসংঘ বক্তৃতা দিবার সময় লিমিট ১৫মি. অথচ তিনি এক ঘন্টা নিয়েছেন। এটা পশ্চিমা কালচারে এক আনকুথ স্বভাবের প্রকাশ! এর উপর আবার গত কয়েক মাস ক্ষমতায় থেকে আমেরিকার কী কী উন্নতি তিনি করেছে এর ফিরিস্তি দিতে এসেছেন জাতিসংঘের বক্তৃতায়! এটাকেই বলে আক্কেল জ্ঞানহীনতা!
সবচেয়ে বড় কথা তিনি যে আমেরিকান ইতিহাস বিশেষ করে ১৯১৪ সালের পর থেকে গ্লোবাল পরিবর্তনে আমেরিকান ভুমিকার ইতিহাস সহ ইউএন এর জন্ম ইতিহাস একেবারেই পড়েন নাই তা তার প্রতিটা কথায় প্রকাশিত!
ফলে একালে এসে আজ – এই দেশ তো কাল সেই দেশ – দখল করে নিবেন বলে ট্রাম্প হুমকি দেয়া শুরু করেছেন। মনে হয় না তিনি প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের নাম শুনেছেন। জাতিসংঘ জন্ম ঘোষণার প্রথম অনুচ্ছেদটাই হল কেউ (চুক্তিতে স্বাক্ষারকারি যেকেউ) ‘নিজ নিজ দেশের ভুখন্ড বাড়িয়ে নেয়া্র খায়েস অবশ্যই ত্যাগ করবে”।  অথচ দেখেন ট্রাম্প আফগান বাগমার এয়ারপোর্ট প্রকাশ্যে দখলের খায়েশ ব্যক্ত করছেন!

এবারের সাধারণ পরিষদ তাই যেন এক তামাসার হাট!

গৌতম দাস
রাজনৈতিক বিশ্লেষক

লেখা হয়েছিলঃ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

Leave a comment