আজ ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতি, এর পরে কী?


অবশেষে আজ ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতি শুরু হল, এর পরে কী?
গৌতম দাস
০৮ এপ্রিল ২০২৬
https://wp.me/p1sCvy-6yD

 

             People wave flags as they gather after a two-week ceasefire in the US-Israel war on Iran is announced, in Tehran, Iran, on April 8, 2026 [Majid Asgaripour/WANA via Reuters]

 

অবশেষে সিজফায়ার (cease-fire)!
মানে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধে (সাময়িক ২ সপ্তাহ) অস্ত্র-সংবরণে আমেরিকা রাজী হয়েছে!
এটাকে বলা যায়, অবশেষে একটা আপোষরফা বা মুখরক্ষার সুযোগ খুঁজে পেলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প!

আগামী ইতিহাসে আজকের দিনটাকে গুরুত্বপুর্ণ দিন বল লেখা হবে – এটা স্বাভাবিক এবং অনুমেয়! কিন্তু কেন? সেটা অনেকেই খেয়াল করতে বা সেদিকটা জানতে দেখতে ভুল করবেন বা ব্যার্থ হবেন।

সেদিকটা হল, আজকের দিনকে গোনা হবে – “আমেরিকান গ্লোবাল নেতৃত্ব নিজ হাত থেকে ছুটে যাবার দিন” – এভাবে!

এবার কিছু বিস্তারিতে যাব।
১. ট্রাম্প নেতানেয়াহুর পাল্লায় পড়ে এমন এক আক্কেলের যুদ্ধে জড়ায় গেছিল যেখান থেকে বের হবার সব পথ বন্ধ! ফলে এই পথ খুজে পাওয়াটা ট্রাম্পের পুনঃজন্ম বা প্রাণ ফিরে পাওয়ার মত ছিল।
বিপরীত ইরান শীর্ষনেতা থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট থেকে আম-জনগণ ধরেই নিয়েছিল তারা এমন এক যুদ্ধে পৌছে গেছে যেখান থেকে বেঁচে থেকে ফেরত আসার একটাই পথ যেটা হল বিজয়ী হয়ে ফিরে আসা। ফলে এরা সকলে সমগ্র জনগোষ্ঠি এই এক অনুভব দিয়ে আগিয়ে যাচ্ছিল। ‘বিজয়ী হলেই বেচে থাকব নইলে নয়’! ইসরায়েলী জায়নিস্টদের মত সাইরেনের ভয় নয়, পালিয়ে বেড়ানো নয়; বাড়ীঘর ছেড়েপালিয়ে পাহাড়ে আশ্রয় নেয়া নয়!  বরং সকলে এভাবে নিয়েছিল যে বেঁচে থাকলে মাথা উঁচু করে বিজয়ী হয়েই!
২. আমি উপরে বলেছি আজকের দিন প্রসঙ্গেঃ ইতিহাসে আমেরিকান গ্লোবাল নেতৃত্ব শেষ হয়েছিল কবে – আগামিতে এর জবাবে আজকের তারিখটা উল্লেখিত হবে!
৩. সেটা আমরা পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী মেনে যে আপোষ আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে ইরান-আমেরিকা এর মধ্যেঃ
ক. এর তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে পরশু ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে
খ. আমেরিকার পক্ষে এতে নেতৃত্ব দিবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

৪. তাহলে  সিজফায়ারের দুসপ্তাহের মধ্যেই কী সব আপোষরফা হয়ে যাবে?
ক. ট্রাম্পের পক্ষে আর যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার মত সুযোগ / মুরোদ থাকবে না।

খ. তবে সেজন্য ‘দুসপ্তাহের মধ্যেই আপোষরফার খুব কিছু অগ্রগতি হবেই না, বরং এই আপোষরফা পুরাপুরা ও স্থায়ী না হওয়া পর্যন্ত এর আলোচনা চলতেই থাকবে। হয়ত, শুরুতে দু-তিন মাস করে কয়েকবার বাড়ানো হতে থাকবে, শেষে সেটা অনির্দিষ্টকাল বলে দিয়ে চালু থাকবে য়ার তা দুপক্ষই রাজী বলে ঘোষণা দিবে।
গ. ইতোমধ্যেই ট্রাম্প মেনে নিয়েছে ইরান ১০-১৫ দফা লক্ষ্য প্রকাশ করেছে আর তার ভিত্তিতেই আপোষ আলোচনা শুরু হবে। ঐ দফাগুলোর মূল পয়েন্ট হল – “ইরান-আমেরিকার স্থায়ী ও গ্যারান্টেড যুদ্ধবিরতি হল ইরানের লক্ষ্য”।

ঘ. আর এটাই হল আসল পয়েন্ট!  কারণ, ইরান আর আমেরিকার দ্বারা আক্রান্ত হবে না স্বাধীন সার্বভৌম দেশ থাকবে এর নিশ্চয়তা এর একমাত্র গ্যারান্টার হতে পারে চীন! সারকথায় চীনের এই ভুমিকা মেনে নেয়া ছাড়া আমেরিকার এই যুদ্ধ থেকে বের হবার পথ নাই।
ঙ. ইতোমধ্যেই আজ সকাল থেকে আলজাজিরায় পাকিস্তানের কামাল হায়দার (আল-জাজিরার জন্ম থেকেই তিনি আছেন) জানিয়েছেন মূলত চীনের  মধ্যস্থতাতেই এই আপোষরফার কাজ শুরু হবে।
চ. আরেক সবচেয়ে নির্ধারক পয়েন্ট হতে যাচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যদি তাঁর নেতৃত্বে পাকিস্তানে (মূলত পাকিস্তান, তুর্কীয়া, মিশর ) সিজফায়ার আলোচনা শুরু হয় তাহলে – এটাই হবে মূল কেন্দ্র – কীসের?
ধীরে দ্গীরে আমেরিকার আভ্যন্তরীণ ভাগাভাগি – যার মুখ্য দিক হল, ট্রাম্পকে মানসিক অসুস্থতার কথা বলে সুপ্রীম কোর্টের সিদ্ধান্তে তাকে আনফিট ঘোষণা করানোর পোলারাইজেশন মারাত্মকভাবে প্রধান ইস্যু হয়ে উঠবে। কারণ, ইতোমধ্যেই, ডেমোক্রাট তো বটেই সাথে রিপাবলিকান (কংগ্রেস-সিনেট জনপ্রতিনিধি) এমনকি যারা ট্রাম্পের সবচেয়ে  কাছের রিপাবলিকান তারাও ইতোমধ্যে ইতোমধ্যে কাছাকাছি এসেছে এই ইস্যুতে!

সবশেষে বলে রাখি আমার সবকথা বাস্তবে দেখতে আপনাদের সময় লাগবে যা হয়ত বেশি আগে বলে রাখলাম। আগামিটা আমি যতদুর দেখতে পাই সে অর্থে দেখবেন আশা করি।

এবার আমাদের দেশের কী হবেঃ
তেল বা অর্থনীতি বিষয়ক রিকভারী, এটা যুদ্ধশুরুর আগে (২৮ ফেব্রু ২০২৬) সে জায়গায় ফিরে যেতে নুন্যতম একবছর- আরো তিন বছরের কমে হবে না। তাও সব যদি শান্তিমত চলে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দিকটা হবে গ্লোবাল অর্থনীতি, আমাদের বাজার ফিরে পাওয়া ধরণের…।
ইউনুস-খলিল গং এর হাত ধরে থাকলে আমরা ট্রাম্পের সাথে মরবো তা বলাই বাহুল্য।
মানে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধে (সাময়িক ২ সপ্তাহ) অস্ত্র-সংবরণে আমেরিকা রাজী হয়েছে!
এটাকে বলা যায়, অবশেষে একটা আপোষরফা বা মুখরক্ষার সুযোগ খুঁজে পেলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প!

আগামী ইতিহাসে আজকের দিনটাকে গুরুত্বপুর্ণ দিন বল লেখা হবে – এটা স্বাভাবিক এবং অনুমেয়! কিন্তু কেন? সেটা অনেকেই খেয়াল করতে বা সেদিকটা জানতে দেখতে ভুল করবেন বা ব্যার্থ হবেন।

সেদিকটা হল, আজকের দিনকে গোনা হবে – “আমেরিকান গ্লোবাল নেতৃত্ব নিজ হাত থেকে ছুটে যাবার দিন” – এভাবে!

এবার কিছু বিস্তারিতে যাব।
১. ট্রাম্প নেতানেয়াহুর পাল্লায় পড়ে এমন এক আক্কেলের যুদ্ধে জড়ায় গেছিল যেখান থেকে বের হবার সব পথ বন্ধ! ফলে এই পথ খুজে পাওয়াটা ট্রাম্পের পুনঃজন্ম বা প্রাণ ফিরে পাওয়ার মত ছিল।
বিপরীত ইরান শীর্ষনেতা থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট থেকে আম-জনগণ ধরেই নিয়েছিল তারা এমন এক যুদ্ধে পৌছে গেছে যেখান থেকে বেঁচে থেকে ফেরত আসার একটাই পথ যেটা হল বিজয়ী হয়ে ফিরে আসা। ফলে এরা সকলে সমগ্র জনগোষ্ঠি এই এক অনুভব দিয়ে আগিয়ে যাচ্ছিল। ‘বিজয়ী হলেই বেচে থাকব নইলে নয়’! ইসরায়েলী জায়নিস্টদের মত সাইরেনের ভয় নয়, পালিয়ে বেড়ানো নয়; বাড়ীঘর ছেড়েপালিয়ে পাহাড়ে আশ্রয় নেয়া নয়!  বরং সকলে এভাবে নিয়েছিল যে বেঁচে থাকলে মাথা উঁচু করে বিজয়ী হয়েই!
২. আমি উপরে বলেছি আজকের দিন প্রসঙ্গেঃ ইতিহাসে আমেরিকান গ্লোবাল নেতৃত্ব শেষ হয়েছিল কবে – আগামিতে এর জবাবে আজকের তারিখটা উল্লেখিত হবে!
৩. সেটা আমরা পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী মেনে যে আপোষ আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে ইরান-আমেরিকা এর মধ্যেঃ
ক. এর তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে পরশু ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে
খ. আমেরিকার পক্ষে এতে নেতৃত্ব দিবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

৪. তাহলে  সিজফায়ারের দুসপ্তাহের মধ্যেই কী সব আপোষরফা হয়ে যাবে?
ক. ট্রাম্পের পক্ষে আর যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার মত সুযোগ / মুরোদ থাকবে না।

খ. তবে সেজন্য ‘দুসপ্তাহের মধ্যেই আপোষরফার খুব কিছু অগ্রগতি হবেই না, বরং এই আপোষরফা পুরাপুরা ও স্থায়ী না হওয়া পর্যন্ত এর আলোচনা চলতেই থাকবে। হয়ত, শুরুতে দু-তিন মাস করে কয়েকবার বাড়ানো হতে থাকবে, শেষে সেটা অনির্দিষ্টকাল বলে দিয়ে চালু থাকবে য়ার তা দুপক্ষই রাজী বলে ঘোষণা দিবে।
গ. ইতোমধ্যেই ট্রাম্প মেনে নিয়েছে ইরান ১০-১৫ দফা লক্ষ্য প্রকাশ করেছে আর তার ভিত্তিতেই আপোষ আলোচনা শুরু হবে। ঐ দফাগুলোর মূল পয়েন্ট হল – “ইরান-আমেরিকার স্থায়ী ও গ্যারান্টেড যুদ্ধবিরতি হল ইরানের লক্ষ্য”।

ঘ. আর এটাই হল আসল পয়েন্ট!  কারণ, ইরান আর আমেরিকার দ্বারা আক্রান্ত হবে না স্বাধীন সার্বভৌম দেশ থাকবে এর নিশ্চয়তা এর একমাত্র গ্যারান্টার হতে পারে চীন! সারকথায় চীনের এই ভুমিকা মেনে নেয়া ছাড়া আমেরিকার এই যুদ্ধ থেকে বের হবার পথ নাই।
ঙ. ইতোমধ্যেই আজ সকাল থেকে আলজাজিরায় পাকিস্তানের কামাল হায়দার (আল-জাজিরার জন্ম থেকেই তিনি আছেন) জানিয়েছেন মূলত চীনের  মধ্যস্থতাতেই এই আপোষরফার কাজ শুরু হবে।
চ. আরেক সবচেয়ে নির্ধারক পয়েন্ট হতে যাচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যদি তাঁর নেতৃত্বে পাকিস্তানে (মূলত পাকিস্তান, তুর্কীয়া, মিশর ) সিজফায়ার আলোচনা শুরু হয় তাহলে – এটাই হবে মূল কেন্দ্র – কীসের?
ধীরে দ্গীরে আমেরিকার আভ্যন্তরীণ ভাগাভাগি – যার মুখ্য দিক হল, ট্রাম্পকে মানসিক অসুস্থতার কথা বলে সুপ্রীম কোর্টের সিদ্ধান্তে তাকে আনফিট ঘোষণা করানোর পোলারাইজেশন মারাত্মকভাবে প্রধান ইস্যু হয়ে উঠবে। কারণ, ইতোমধ্যেই, ডেমোক্রাট তো বটেই সাথে রিপাবলিকান (কংগ্রেস-সিনেট জনপ্রতিনিধি) এমনকি যারা ট্রাম্পের সবচেয়ে  কাছের রিপাবলিকান তারাও ইতোমধ্যে ইতোমধ্যে কাছাকাছি এসেছে এই ইস্যুতে!

সবশেষে বলে রাখি আমার সবকথা বাস্তবে দেখতে আপনাদের সময় লাগবে যা হয়ত বেশি আগে বলে রাখলাম। আগামিটা আমি যতদুর দেখতে পাই সে অর্থে দেখবেন আশা করি।

এবার আমাদের দেশের কী হবেঃ
তেল বা অর্থনীতি বিষয়ক রিকভারী, এটা যুদ্ধশুরুর আগে (২৮ ফেব্রু ২০২৬) সে জায়গায় ফিরে যেতে নুন্যতম একবছর- আরো তিন বছরের কমে হবে না। তাও সব যদি শান্তিমত চলে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দিকটা হবে গ্লোবাল অর্থনীতি, আমাদের বাজার ফিরে পাওয়া ধরণের…।
ইউনুস-খলিল গং এর হাত ধরে থাকলে আমরা ট্রাম্পের সাথে মরবো তা বলাই বাহুল্য।

গৌতম দাস
রাজনৈতিক বিশ্লেষক

3 thoughts on “আজ ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতি, এর পরে কী?

  1. ❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️
    স্যার আপনে আমাদের দেশের অনেক বড় একটা সম্পদ। আল্লাহ আপনের সুস্থতা দিক।
    নিরাপদ রাখুক। আরো দীর্ঘ হায়াত দেক। (আমিন)

    Like

  2. আপনার নেক হায়াত কামনা করছি

    স্যালুট,বিশ্ব মানব!!!

    Like

Leave a reply to md. faysal shoaib Cancel reply