ইন্ডিয়ার পুশ-ইন, রামনাম ও মন্দিরের হিন্দুত্ববাদ –
এটা বাংলাদেশ-চীনের স্ট্রাটেজিক-সামরিক সম্পর্ককে ন্যায্য বিবেচিত করবে
গৌতম দাস
২০ জুন ২০২৬
https://wp.me/p1sCvy-6z7
একেবারে প্রথমকথা হল, প্রধানমন্ত্রী তারেক গুরুত্বপুর্ণ চীন সফরে যাচ্ছেন। এটা বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক গুরুত্বপুর্ণ মোড় নেয়া বলে বিবেচিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এটা বর্তমানে এক এমন সন্ধিক্ষণে পৌচেছে যেখান থেকে একটাই পথ তা হল, বিজয়ী বীর হিসাবে নিজ-উত্থান ঘটানোর সুযোগ নেয়া যেটা সামনে হাজির হয়ে গেছে একে উপযুক্তভাবে নিজ যোগ্যতা প্রমাণ করে বরণ / আপন করেনিতেই হবে। আর এরই দ্বিতীয় পথটা হল মানে, প্রথম অপশনটা কুড়িয়ে নিতে ব্যর্থতায় নিজের জন্য ঐতিহাসিক সুযোগটা খতম করে দিয়ে হাসিনার চেয়েও বড় ইন্ডিয়ার গোলাম হয়ে যাওয়া! রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের শেষ হয়ে যাওয়া!
এরই বাইরের দিকটা হল, গাইবান্ধা মন্দির থেকে পুশ-ইন, হাসিনা ফেরার হুমকি, মিডিয়া পাড়ায় পুরান উচ্ছিষ্টভোগীদের প্রবল নড়াচাড়া ইত্যাদি! এভাবে ইন্ডিয়া যতই আওয়ামি লীগের সমর্থকদের দিয়ে বাংলাদেশে জয়শ্রীরাম ও মন্দিরের হিন্দুত্ববাদ ছড়াবে যার মানে হল, আওয়ামী লীগ এখন জয়শ্রীরামের হিন্দুত্ববাদী দল হয়ে উঠতে চাচ্ছে এটাই তার শেষ অপশন! এতে ততই বাংলাদেশ-চীনের ঘনিষ্ট স্ট্রাটেজিক-সামরিক সম্পর্ক যা বিনির্মাণের পথে আমরা তা আরও ন্যায্য কাজ বলে সাফাই জাস্টিফিকেশন পাবে। অর্থাৎ ইন্ডিয়াই আমাদের ততপরতাকে সাফাই যোগাড় করে দিচ্ছে গাধামিতে!
বাংলাদেশকে নিজ রাষ্ট্রস্বার্থে উঠে দাড়িয়ে বিজয়ী হতেই হবেঃ
বাংলাদেশ বর্তমানে এক এমন সন্ধিক্ষণে পৌচেছে যেখান থেকে একটাই পথ বিজয়ী বীর হিসাবে নিজ-উত্থান ঘটানোর সুযোগ যেটা সামনে হাজির হয়ে গেছে একে উপযুক্তভাবে নিজ যোগ্যতা প্রমাণ করে বরণ / আপন করে নেওয়ার। আর এরই দ্বিতীয় পথটা হল মানে, প্রথম অপশনটা কুড়িয়ে নিতে ব্যর্থতায় নিজের জন্য ঐতিহাসিক সুযোগটা খতম করে দিয়ে হাসিনার চেয়েও বড় ইন্ডিয়ার গোলাম হয়ে যাওয়া! রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের শেষ হয়ে যাওয়া!
হাসিনা উতখাতের জুলাই বিপ্লবের পরে সবচেয়ে লজ্জাজনক ঘটনাটা হল জামায়াত ও বিএনপির ইন্ডিয়া তোষণের প্রতিযোগিতা। অনেকের মনে হতে পারে তাহলে এনসিপি কী তাহলে এই প্রশ্নে সঠিক ছিল? জবাব হল, একেবারেই না।
বিশেষ করে প্রথম আলো/ স্টার পুড়ায়ে দেওয়ার পরে নয়া বয়ান ও সিমপ্যাথি খাড়া করে যখন এসব মোদি-মিডিয়া আবার উঠে দাড়ানোর চেষ্টা করছিল তখন তারা প্রথমে জামায়াত ও বিএনপিকে সাথে পেয়েছিল নিয়েছিল ঐ একই ইন্ডিয়া তোষণের খাসিলতে। এতে যে জোয়ার উঠেছিল তাতে আর নয়া ট্রেন যেন মিস হয়ে যাচ্ছে ভেবে এনসিপি সবকিছু ভুলে গিয়ে ইন্ডিয়া তোষণের খাসিলতে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছিল। আর সেটাই এইদলের সব সম্ভাবনা শেষ করে দিয়েছিল আর সবগুলো দল বা জামায়াত ও বিএনপির মতই অন্তত!
এসব পুরানা পটভুমি বা ঘটনা; কিন্তু এখন সারা বাংলাদেশ এক নয়া জংশনে, নিজরাষ্ট্রের জন্য শেষ সুযোগের সামনে! সফলভাবে কুড়িয়ে নিবে নাকি ব্যররথতায় নিজেকে এক ভাগাড়ে ফেলে দিয়ে আসবে এরই সন্ধিক্ষণে!
এই সন্ধিক্ষণের ঘটনা চিনব, বুঝব কী করেঃ
একদিক থেকে দেখলে এটাই ইন্ডিয়ার মরণপণ আক্রমণ সেটা দেখে!
ইন্ডিয়া তার হাতের সবগুলো অস্ত্র বা হাতিয়ার নিয়ে বাংলাদেশের উপর ঝাপিয়ে পড়েছে ইতিমধ্যে এটা দেখে! যেমন রংপুর /গাইবান্ধা মন্দির/ রামনাম এটা এক সরাসরি হিন্দুত্ববাদী হাতিয়ার যার এমন ব্যবহার খুবই রিস্কি; এটা প্রতিমুহুর্তের ইন্ডিয়ারই এবং সাথে বাংলাদেশি হিন্দুদের উপরেই বুমেরাং হয়ে মাথায় ভেঙ্গে পরার সবটা সম্ভাবনা এর মধ্যে আছে।
ইন্ডিয়ারই আরেক উদ্যোগ আওয়ামী লীগ / হাসিনাকে মাঠে নামিয়ে দেয়াঃ
তাও আবার হিন্দুদের দিয়ে এবং হিন্দুত্ববাদের পোষাক পড়িয়ে! এজন্য এটা আরো বড় রিস্কে। ইন্ডিয়া কেবল একটা কারণেই রিস্ক নিয়েছে যেটা হল, এটাকে যদি সে বাংলাদেশের মুসলমান্দেরকে ক্ষেপিয়ে হিন্দু-মুসল্মানের সঙ্ঘঘাত হিসাবে দেখাতে ঠেলে দিতে হাজির করে ফেলতে পারে। এতে রিস্কটা হল, এটা যদি উলটা ফলাফলে পৌছায়, তো পুঁজিপাট্টাসহ হিন্দুত্ববাদ একেবারেই উতখান হয়েযাবে।
একটা উদাহরণ দেই – ইসকনের চিন্ময়!
সারা দেশ তো বটেই কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম লোহাগড়া কক্সবাজার এভাবে সারা দেশ রাগে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছিল কিন্তু প্রত্যেকতা মানুষ নিজের মনের কষ্ট বেদনা মনে নিয়ন্ত্রিত আর দাফনায় রেখে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদে হাত উঠিয়ে মোনাজাতে বসেছিল। কিন্তু কোথায় কোন ক্ষোভের দাঙ্গায় আগুন লাগতে দেয় নাই। আজ ইন্ডিয়াকে জিজ্ঞাসা করেন চিন্ময় কোথায়?
কাজেই আজকে গাইবান্ধা, জয় শ্রীরাম, ইত্যাদিতে শুভেন্দুর কোলের পলাশকান্তি দে এগুলা হল দ্বিতীয় চিন্ময় প্রচেষ্টা।
আর একেবারেই প্রধান কারণ, প্রধান সন্ধিক্ষণ হয়ে উঠার মূল কারণ তারেকের চীন সফর থেকে নয়া চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সুচনা! ইন্ডিয়ার ছটপটানি সবঅই হল এরই অক্ষম প্রতিক্রিয়া মাত্র!
নয়া চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সুচনাকে আমাদের সফলতায় নিতেই হবে! এটাই আমাদের মৌলিক রাষ্ট্রস্বার্থ!
এখন সরাসরি একটা কথা বলে দেই।
বর্তমান মোদি-শুভেন্দুরা আর এর সাথে করে হাসিনার লুটের ভাগ পাওয়া লীগের পুরা গং দের বাংলাদেশবিরোধী ততপরতাকে আমরা যেন কোনভাবেই “হিন্দু ভাল না মুসলমান ভাল এই তর্ক” অথবা ‘আমরা মুসলমান বলেই আমরা ভাল’ – এসব বয়ান দিয়ে প্রতিরোধ করতে একে৪বারেই না যাই! গেলে সেটা না-জেনে ইন্ডিয়া / হাসিনার পক্ষেই কাজ করা হবে।
কারণ, প্রশ্নটা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের, আমাদের নিজ রাষ্ট্রস্বার্থের – তাই এখানে আপোষহীন লড়াই গড়ে তুলতে হবে (আবার হিন্দুদেরকে সাথে আনতে হবে বলে সফট হতে হবে এই চিন্তা যেন না আসে; কাউকে এমন আপোষ/ দাওয়াতের দরকার নাই কারণ যে আসার সে নিজ দায়ীত্বেই আসবে) আর যে হিন্দু নিজেকে সনাতনী বলে পরিচয় দিবে বুঝবেন এটাই মোদির খাস চেলা। তাই আসলে ত সে আসবে না। এনিমি হয়েই থাকবে!
এদিকটা স্পষ্ট রাখতে হিন্দুত্ববাদ এই বয়ান ও চিন্তার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই = এভাবেই এক বয়ান আনা যেতে পারে। এই অর্থে সারা বাংলাদেশে হিন্দুবিরোধী না, হিন্দুত্ববাদবিরোধী লড়াই এটা এই বলে নিজেদেরকে পরিচিত করা যেতে পারে।
এছাড়া বাংলাদেশের যে ব্যাক্তি রামের নাম বলে সবার উপরে
চিৎকার করবে বুঝবেন সেও হিন্দুত্ববাদী। কারণ বাঙালি
হিন্দুদের কাছে রাম তাদের সবার উপরের কোন দেবতা নয়।
এটা হল বিজেপি-আরএসএস অল-ইন্ডিয়া হিন্দুদের স্বার্থ
তাদের নেতৃত্ব বুঝাতে যে দেবতার নাম সবার উপরে এনেছে
এটাই রামনাম, জয় শ্রী রাম। উত্তর প্রদেশের বাইরে এমন
রামবন্দনার কোন গুরুত্ব নাই, রেওয়াজ নাই পশ্চিমবঙ্গেও
নাই – ফলে এই গুরুত্ব নাই।
এছাড়া যে রামের নাম বলে সবার উপরে চিৎকার করবে বুঝবেন সেও হিন্দুত্ববাদী। কারণ বাঙালি হিন্দুদের কাছে রাম তাদের সবার উপরের কোন দেবতা নয়। এটা হল বিজেপি-আরএসএস অল-ইন্ডিয়া হিন্দুদের স্বার্থ তাদের নেতৃত্ব বুঝাতে যে দেবতার নাম সবার উপরে এনেছে এটাই রামনাম, জয় শ্রী রাম। উত্তর প্রদেশের বাইরে এমন রামবন্দনার কোন গুরুত্ব নাই, রেওয়াজ নাই পশ্চিমবঙ্গেও নাই – ফলে এই গুরুত্ব নাই।
আরেকভাবে বললে, এটা আবার গোবিন্দ প্রামাণিককে মানে আসলে ইন্ডিয়াকেই ৬০ আসন দিয়ে দেবার আলাপ যেন না হয়ে উঠে। রাষ্ট্রস্বার্থ বুঝতে হবে। রাষ্ট্রস্বার্থ রক্ষায় এক হতে হবে।
আজকে একটা ছোট্ট রিলে সেখানে জামায়াতের নিজ দুর্বলতা অনুভব করে ইন্ডিয়া তোষণের দিকটা কেন এনেছিল পরিণতি কী হয়েছিল সেকথা এনেছি। এর মানে এই না যে তারেকের বিএনপি এসব থেকে মুক্ত; একেবারেই না। গোবিন্দ প্রামাণিককে মানে আসলে ইন্ডিয়াকেই ৬০ আসন দিয়ে দেবার আলাপে বিএনপি সম্ভবত ফালতু উদারতার প্রতিযোগিতায় জামায়াত থেকে আগিয়েই ছিল অন্তত তারা তখন রুমিন ফারহানকে দিয়ে একই অফার দিয়েছিল এটা আমরা ভুলতে পারি না! এমনকি সাম্প্রতিককালে তারেকের মেজর ফেইলিওর এখান থেকেই তবে আরও বড় করে হতে যাচ্ছে সম্ভবত । এই সরকার যদি আগামি আগষ্টের মধ্যে কাপাকাপি করে পতন ঘটায় এক্সিডেন্টালি তবে এর প্রধান এক কারণ হবে ইন্ডিয়া মানে নিজ এনিমিকে বিএনপির তারেকের চিনতে না পারা, এই ক্ষমার অযোগ্য ভুল করা, একে তোষণ করে চলানোর চেষ্টা করা।
চীন সফর মানেই তারেকের সব বিপদ কেটে যাওয়া নয়। তবে আমি যতটুকু নিশ্চিত তাতে বলতে পারি আমাদের বিজয় লাভ তারেক-নির্ভর নয় একেবারেই। এটা জনআকাঙ্খায় মোড়ানো! তাই, হাসিনা উতখাতের মত সে আবার উঠে দাঁড়াবে এবং সফল হবেই!
শুরুতে যে সন্ধিক্ষণের কথা বলেছি তারেকের চীন সফর দিয়ে যা শুরু হচ্ছে! এতে সফল হতেই হবে আমাদের। তাতে (আল্লাহ না করুক) খোদ তারেকসহ যেকেউ নিজ অযোগ্যতায়, অথবা কেউ বাংলাদেশের রাষ্ট্রস্বার্থের এনিমি্র পক্ষে অবস্থা্ন নিয়ে ফেলাতে তা সরাসরি জেনে অথবা অজ্ঞতায়ও যদি নিয়ে ফেলে সেক্ষেত্রে এমন সকল বাধা উপড়ে ফেলতে হবেই আমাদের!
বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্ধারক এই সন্ধিক্ষণে আমাদের বিজয়ী হতেই হবে! একমাত্র রাস্তা ও গন্তব্য!
গৌতম দাস
রাজনৈতিক বিশ্লেষক
২০ জুন ২০২৬