প্রধানমন্ত্রী তারেকের পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা
গৌতম দাস
২১ এপ্রিল ২০২৬
https://wp.me/p1sCvy-6yZ

যখন একটা দুর্ভোগের সমাধান দরকার, সঠিক উদ্যোগ দরকার তখন কেন দুর্ভোগ টা হয়েছে সে সাফাইটা সেকেন্ডারী বা তা আপনাতেই অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়!
এইকথা কীভাবে জেনেছি সে জবাব না দিয়ে বরং বলি কী জেনেছিলাম! ইউনুস ক্ষমতা ছাড়ার অন্তত ছয়-আট মাস আগে থেকে অন্তত দুই-দুবার দুই সময়ে (সর্বশেষটা তিনমাস আগে) “কাউকে” জানিয়েছিলেন যে দেশে এই “ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকট একটা” আসছেই আর তা পরবর্তি সরকারকেই বইতে হবে। তবে যেটা তিনি বলেন নাই তা হল, এটা তিনি মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছেন কারণ মূলত খেলাপী ঋণ উদ্ধারে (এস আলম থেকে শুরু করে সব লুটেরা চোরদের থেকে) তিনিও ছাড় দিয়েই কাটিয়ে গেছেন, চলেছেন। আর এর ফাঁকে যা যা লুটা যায় তা তিনি পাচারও করেছেন।
শুধু সরকারের রিজার্ভে কত (যেটা ৩৮ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে হলেই…. ) অনেককে দেখেছি “বুদ্ধিমান” সেজে ফতোয়া এখনও দিচ্ছেন যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোন সংকট নাই বা এটা ইরান যুদ্ধের জন্যই সংকট; অথবা এটা নাকি আমাদের রেগুলার রিজার্ভ দিয়ে সামলানো যাবেই!
যেমন ধরেন হাসিনার ২০২৪ সালের জানুয়ারি নির্বাচনের পরের পরিস্তিতি টা যেমন ছিল সেটাই কমবেশি আমাদের এখনকার একই গভীর অর্থনৈতিক সংকট, যার সবচেয়ে বড়দিকটা সরকারের হাতে প্রয়োজনীয় সেই বৈদেশিক মুদ্রা নাই [অর্থমন্ত্রী হাত পাততে IMF, WB, ADB, AIIB, IDB সবার কাছে ইতোমধ্যেই গিয়েছেন অর্থ চেয়েছেন – এটাই সংকটটার সবচেয়ে ভাল প্রমাণ]। ফলে (বিনা অর্থ-সংস্থান অবস্থায়) এক খামোখা বাজেট (২০২৪ এর জুন বাজেট) দিয়ে দায় সারতে হয়েছিল হাসিনাকে। ফলে যদিও সেকালে হাসিনার হাতেও “এক জমজমাট সাফাই” ছিল যে “কোভিড পরবর্তি গ্লোবাল অর্থনীতিতে সংকট” চলছে ! কিন্তু সেই সাফাই বেঁচে হাসিনা ঐ জুলাই-আগষ্টের নিজ উতখাত ও দেশ-ক্ষমতা ছেড়ে পালানো ঠেকাতে পারে নাই! এই পয়েন্ট টা মনে রাখা খুবই জরুরি!
আবার এটাও মনে করায় বা জানায় দেই যে ইউনুস (আমেরিকা যার পকেটে পকেটে বলে অনেকেরই ধারণা) সরকারও কিন্তু আইএমএফ বা আমেরিকান প্রধান মালিকানা কোন প্রতিষ্ঠান থেকেই কোন ঋণ ছাড় করিয়ে আনতে পারেন নাই তার আমলে। একমাত্র কেবল এই চীনা AIIB (২০২৫ মার্চে) এর থেকে ঋণ হাসিল করেছিলেন।
২.১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ-ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি চীনের
৫. আবার “তারেক ম্যানেজমেন্ট স্টাইলের” হিসাবে বললে, এটা যদি হয়, খলিল চীন সফরে গিয়ে ফেল করে এলে সেই অজুহাতে তখন তাকে তারেক বাদ দিয়ে দিবেন – তো সরি, এটা আসলে সেই সময় নয়! যেখানে খলিলকে অজুহাত না দেখিয়ে বাদ দিলেও এমন কিছু হবে না। কিন্তু সেটা এখন ইস্যু না। এখন আমাদের সংকটের মূল ইস্যু হল ‘সময়’ কম বা টাইমিং! সময় নষ্ট করা যাবে না। তারেক ইতোমধ্যে ইউনুস-খলিল গংয়ের পাল্লায় পরে মারাত্মক সময় নষ্ট আর বেদিশা অবস্থায় ফেলেছে নিজেকে। এই চক্রের বিচার বা বাদ দেয়া পরেও করা যাবে কিন্রতু এর সাথে চীনকে যতদ্রুত রাজি করানো বা অর্থের সংস্থান করা অনেক জরুরি; ফলে সবকিছুকে মিলায় আগানোর সময় নাই আমাদের, তাতে সেটা আরো বড় ভুল হবে হয়ত!
স্ট্রাটেজিক উপদেষ্টা কী এতদুর সক্ষম? তিনি তারেককে সেটা বুঝাতে ও একশনে নিতে পারবেন? নাকি তিনি সাফাইদাতা উপদেষ্টা হয়েই থেকে যাবেন; সেটা হতেই প্রেফার করবেন? আমরা ইতোমধ্যেই জানি হাসিনার পতনে তাঁর উপদেষ্টা / সাফাইদাতাদের সবার একই পরিণতি!!!
_________
গৌতম দাস
রাজনৈতিক বিশ্লেষক

