প্রধানমন্ত্রী তারেকের পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা


প্রধানমন্ত্রী তারেকের পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা
গৌতম দাস
২১ এপ্রিল ২০২৬
https://wp.me/p1sCvy-6yZ

<<<<প্রধানমন্ত্রী তারেকের পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা>>>>>
আজ তারেকের এক উপদেষ্টা, তিনি নাকি পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা, আজ পাবলিক প্রেস আয়োজন করে হাজির! তিনি কোন উপদেষ্টা, সেটা জানা-অজানা নিয়ে জনগণের কোন অসুবিধা নাই, হবার কথা না। কিন্তু তিনি যা করেছেন বলেছেন এর ভিত্তিতে তার আসল পরিচয় দাড়িয়েছে “সাফাই উপদেষ্টা” বা “সরকারের সাফাইদাতা উপদেষ্টা”! সমস্যাটা এখানেই। কেন?
যখন একটা দুর্ভোগের সমাধান দরকার, সঠিক উদ্যোগ দরকার তখন কেন দুর্ভোগ টা হয়েছে সে সাফাইটা সেকেন্ডারী বা তা আপনাতেই অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়!
কারণ আমরা এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটে আটকায় গেছি। সবচেয়ে বড় কথা এটা এমন কী আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ-সংঘাত যদি নাই দুনিয়াতে আসত তবুও এখন আমাদের দেশের জন্য “অর্থনৈতিক সংকট আসন্ন” ছিল।
এইকথা কীভাবে জেনেছিলামঃ
এইকথা কীভাবে জেনেছি সে জবাব না দিয়ে বরং বলি কী জেনেছিলাম!
ইউনুস ক্ষমতা ছাড়ার অন্তত ছয়-আট মাস আগে থেকে অন্তত দুই-দুবার দুই সময়ে (সর্বশেষটা তিনমাস আগে) “কাউকে” জানিয়েছিলেন যে দেশে এই “ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকট একটা” আসছেই আর তা পরবর্তি সরকারকেই বইতে হবে। তবে যেটা তিনি বলেন নাই তা হল, এটা তিনি মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছেন কারণ মূলত খেলাপী ঋণ উদ্ধারে (এস আলম থেকে শুরু করে সব লুটেরা চোরদের থেকে) তিনিও ছাড় দিয়েই কাটিয়ে গেছেন, চলেছেন। আর এর ফাঁকে যা যা লুটা যায় তা তিনি পাচারও করেছেন।
মূলত তাই তিনি একমাত্র জোর দিয়ে চলেছিলেন – “প্রবাসী আয়ে”; মানে এই ডলার জোগাড়ে যেটা হল প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের উপরে আড়াই % বাড়তি অর্থ সব ব্যাঙ্ক-কে দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আর এই লোভ দেখানোতে প্রবাসী আয়ে আপাত সংকট মিটিয়ে সরকার চালিয়ে গেছেন ইউনুস; কিন্তু এতে বড় সংকট টাকে সামনে আরও বড় ব্যাপক হয়ে উঠবার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে হয়েছে সেদিকটা উপেক্ষা করে গেছেন।

শুধু সরকারের রিজার্ভে কত (যেটা ৩৮ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে হলেই…. ) অনেককে দেখেছি “বুদ্ধিমান” সেজে ফতোয়া এখনও দিচ্ছেন যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোন সংকট নাই বা এটা ইরান যুদ্ধের জন্যই সংকট; অথবা এটা নাকি আমাদের রেগুলার রিজার্ভ দিয়ে সামলানো যাবেই!

 

পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টাঃ
আজ সরকারের পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা সহজ স্বীকারোক্তিতে “যা বললেন” সেটা জানার পরও এই বুদ্ধিমানেরা কোন সমস্যাই দেখবেন না হয়ত!
কিন্তু মনে করায়ে দেই, তারেক সরকারের সমস্যা কিন্তু এটা না যে তার এই আসন্ন গভীর অর্থনৈতিক সংকটে সরকারের হাতে “সাফাইদাতা” নাই। তাই তারেকের এখন দরকার একটা ভাল সাফাই উপদেষ্টা? তা এটা ঠিক তা নয়; এটা কোন সমস্যাই না।

যেমন ধরেন হাসিনার ২০২৪ সালের জানুয়ারি নির্বাচনের পরের পরিস্তিতি টা যেমন ছিল সেটাই কমবেশি আমাদের এখনকার একই গভীর অর্থনৈতিক সংকট, যার সবচেয়ে বড়দিকটা সরকারের হাতে প্রয়োজনীয় সেই বৈদেশিক মুদ্রা নাই [অর্থমন্ত্রী হাত পাততে IMF, WB, ADB, AIIB, IDB সবার কাছে ইতোমধ্যেই গিয়েছেন অর্থ চেয়েছেন – এটাই সংকটটার সবচেয়ে ভাল প্রমাণ]। ফলে (বিনা অর্থ-সংস্থান অবস্থায়) এক খামোখা বাজেট (২০২৪ এর জুন বাজেট) দিয়ে দায় সারতে হয়েছিল হাসিনাকে। ফলে যদিও সেকালে হাসিনার হাতেও “এক জমজমাট সাফাই” ছিল যে “কোভিড পরবর্তি গ্লোবাল অর্থনীতিতে সংকট” চলছে ! কিন্তু সেই সাফাই বেঁচে হাসিনা ঐ জুলাই-আগষ্টের নিজ উতখাত ও দেশ-ক্ষমতা ছেড়ে পালানো ঠেকাতে পারে নাই! এই পয়েন্ট টা মনে রাখা খুবই জরুরি!

আবার এটাও মনে করায় বা জানায় দেই যে ইউনুস (আমেরিকা যার পকেটে পকেটে বলে অনেকেরই ধারণা) সরকারও কিন্তু আইএমএফ বা আমেরিকান প্রধান মালিকানা কোন প্রতিষ্ঠান থেকেই কোন ঋণ ছাড় করিয়ে আনতে পারেন নাই তার আমলে। একমাত্র কেবল এই চীনা AIIB (২০২৫ মার্চে) এর থেকে ঋণ হাসিল করেছিলেন।

২.১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ-ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি চীনের

এখন কিছু কথা খাস খাস বলে ফেলি!
১. মনে হয় না যে এই পরিস্থতিতে, চীনের থেকে সরকারি ঋণ (জিটুজি) সংগ্রহ (বা যেটা ধরা যাক চীনা AIIB ব্যাংকের নগদ ইউয়ান আমাদেরকে “বাজেট সহায়তা” এই নামে এল ) এসব ছাড়া আমাদের আসন্ন সংকটে কোন বিকল্প আছে। মনে রাখতে হবে আজকের ইরান যুদ্ধ আজকেই সমাপ্ত হয়ে গেলেও আমাদের সংকট যা তাই থেকেই যাবে মানে তাতে অজুহাত-সাফাই-টাই কেবল নাই হয়ে যাবে।
২. শোনা যাচ্ছে এজন্য খলিল সাবরে তারেক চীনের মন জয়ের জন্য পাঠাতে যাচ্ছেন অচিরেই। আমার ধারণা, এতে চীনের সাহায্য লাভের যতটুকু সম্ভাবনা এখনও আছে তাও সবটাই শেষ হয়ে যাবে।
৩. মনে রাখতে হবে ইউনুসের আমলেই একবার খলিলের চীনা ভিসা বাতিল করেছিল চীন!
৪. আমার জানা মতে, সরকারেই জানা থাকার কথা এমুহুর্তে কাকে পাঠালে কাজ হতে পারে। যদি সরকারের তা জানা না থাকে তবে এই ব্যর্থতাই সরকার এখন সবকিছুতে ব্যর্থ হতে থাকবে সে ইঙ্গিত!

৫. আবার “তারেক ম্যানেজমেন্ট স্টাইলের” হিসাবে বললে, এটা যদি হয়, খলিল চীন সফরে গিয়ে ফেল করে এলে সেই অজুহাতে তখন তাকে তারেক বাদ দিয়ে দিবেন – তো সরি, এটা আসলে সেই সময় নয়! যেখানে খলিলকে অজুহাত না দেখিয়ে বাদ দিলেও এমন কিছু হবে না। কিন্তু সেটা এখন ইস্যু না। এখন আমাদের সংকটের মূল ইস্যু হল ‘সময়’ কম বা টাইমিং! সময় নষ্ট করা যাবে না। তারেক ইতোমধ্যে ইউনুস-খলিল গংয়ের পাল্লায় পরে মারাত্মক সময় নষ্ট আর বেদিশা অবস্থায় ফেলেছে নিজেকে। এই চক্রের বিচার বা বাদ দেয়া পরেও করা যাবে কিন্রতু এর সাথে চীনকে যতদ্রুত রাজি করানো বা অর্থের সংস্থান করা অনেক জরুরি; ফলে সবকিছুকে মিলায় আগানোর সময় নাই আমাদের, তাতে সেটা আরো বড় ভুল হবে হয়ত!

স্ট্রাটেজিক উপদেষ্টা কী এতদুর সক্ষম? তিনি তারেককে সেটা বুঝাতে ও একশনে নিতে পারবেন? নাকি তিনি সাফাইদাতা উপদেষ্টা হয়েই থেকে যাবেন; সেটা হতেই প্রেফার করবেন? আমরা ইতোমধ্যেই জানি হাসিনার পতনে তাঁর উপদেষ্টা / সাফাইদাতাদের সবার একই পরিণতি!!!

_________
গৌতম দাস

রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Leave a comment