ট্রাম্পের বিজয়ে বাংলাদেশের জন্য এক সংক্ষিপ্ত নোট


ট্রাম্পের বিজয়ে বাংলাদেশের জন্য এক সংক্ষিপ্ত নোট
গৌতম দাস
০৬ নভেম্বর ২০২৪     সন্ধ্যা ০৭ঃ ২৫
https://wp.me/p1sCvy-5Nm

 


2024 U.S. Presidential Election ট্রাম্পের বিজয় 

 

 

ট্রাম্পের বিজয়ে বাংলাদেশের জন্য এক সংক্ষিপ্ত নোটঃ
‘হাসিনা এন্ড গং’ বাদে বাংলাদেশের প্রায় সকলের ভয়/আশঙ্কা হল, আমেরিকান নির্বাচনের ফলাফল থেকে না এই হাসিনা-গোষ্ঠি কোন সুবিধা পেয়ে যায়। তাতে আবার কেউ কেউ বলত ট্রাম্প জিতলে হাসিনা সুবিধা পাবে আবার সংখ্যায় কম হলেও কেউ কেউ বলত কমলা জিতলে সেটা হবে!
এখন পর্যন্ত, অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে ট্রাম্পকে পরিস্কার বিজয়ী (২৭৯ ইলেক্ট্ররাল ভোটে) দেখা যাচ্ছে।

আমার অবস্থান হিসাবে অনেক আগে থেকেই আমি বলেছিলাম, ট্রাম্পই জিতবে – ‘আমেরিকান মন’ আমি যতটুকু বুঝি। মুল কারণ, কে বেশি মিডিয়ার সরব – ট্রাম্পের পক্ষ না কমলার? এই প্রশ্নে সবসময় ডেমোক্রাটেরা (কমলা) এগিয়ে থাকে। আসলে এদের আওয়াজ পাবলিকলি ও মিডিয়ায় বেশী উচ্চারিত হয় বলে এমন মনে হয়। তুলনায় রিপাবলিকান ট্রাম্পের আম ভোটার-সমর্থকেরা হল, ‘কোর এথনিক হোয়াইট ওয়ার্কিং ক্লাস’, যাদের আওয়াজ মিডিয়ায় কম আসে।  আর তা দেখেই মিডিয়া অনুমানে কমলা জিততেছে অনুমানের জন্ম হয়ে থাকে!! এনি-ওয়ে সেসব এখন অতীত; মূলকথা এখন  ট্রাম্প বিজয়ী!
গ্লোবাল পরিসরে তাকিয়ে কিছু কথা বললে, মোটা দাগে সবার উপরে ট্রাম্প এবারও আগেরবারের মতই কট্টর ‘জাতিবাদি’ হবেন। এই যে – এথনিক সাদাচামড়ার শ্রেষ্ঠত্বের – সুরসুরি তোলা ‘জাতিবাদি’ নীতি – এতা আগেরবার কার্যত অকেজো থাকলেও এবারও সেটাই তিনি সবার উপরে ছেয়ে রাখবেন; সে ধারণা তিনি দিয়ে রেখেছেন।
এখন বাংলাদেশিদের আশঙ্কা / চিন্তা যেখানে সেটা হল বাংলাদেশে সরকারের উপর ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিঃ  এটা কী হাসিনা-গোষ্ঠি অভিমুখি হবে??? এই হল মুখ্য প্রশ্ন!

আসলে ঠিক এটাও মুখ্য প্রশ্ন না। আমরা যা বুঝতে চাচ্ছি তাতে মুখ্য প্রশ্ন হল, ভারত-আমেরিকা কী আগের মতই বাংলাদেশ প্রশ্নে ‘একসাথে’ ও ‘এক নীতিতে’ এবং ‘ভারতের চোখ দিয়ে দেখে’ কাজ করবে?  এর মানে, আমাদের উদ্বিগ্নতা আসলে ট্রাম্পের আমেরিকা বাংলাদেশ প্রশ্নে কতটা ভারতের ঘনিষ্ট থাকবে???

এককথায় এর জবাব, বাংলাদেশ প্রশ্নে ট্রাম্পের আমেরিকা ও ভারত আর একসাথে কাজ করতে পারবে না। করবে না, সম্ভব নয়!

মৌলিক কারণগুলোঃ
১। ইতোমধ্যেই গত সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে ভারত-আমেরিকা পরস্পর থেকে ২০০৭ সালের আগের মতই – দূরে চলে গেছে।
২। এছাড়া, ভারতের প্রায়োরিটি বা প্রধান স্বার্থই বদলে গেছে। চীনবিরোধী হয়ে আমেরিকার সঙ্গে খাতির থেকে (বাংলাদেশের উপর দখল-মাতব্বরিসহ) ভারতের যা কিছু এতদিনের “প্রাপ্তি” ঘটেছে এর চেয়ে – আমেরিকার সে হাত ও ঘনিষ্ঠতা ছেড়ে দিয়ে ভারত বরং চীনের (সাথে রাশিয়া বা ব্রিকস ক্যাম্পে থাকলে) ঘনিষ্ট হলে নয়া যেসব প্রাপ্তি তা ভারতের জন্য এখন বেশী কাম্য ও লোভনীয়। যেমন, চীনা ঋণ ভারতকে এখন পেতেই হবে যা এতদিন দূরে থাকার কারণে সে লস করেছে।
৩। এনিয়ে চীন-ভারত হাত ধরাধরি করে এখন অনেক ঘনিষ্ঠ ও অনেক দূর চলে গিয়েছে এবং এক লম্বা-দুরি পথ তারা যাবে বলে ঠিক করে ফেলেছে। মানে সহসাই এই পথ থেকে আর সরবে বা ফিরবে না।
৪। অনাষ্ঠুনিকভাবে ট্রাম্প বিজয়ী হতে না হতেই আজকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের ছোট ভিডিও ক্লিপ দেখে নেন। সেখানে জয়শঙ্কর জানিয়েছেন তিনি মনে করেন (সারকথায়) আমেরিকা এখন থেকে আইসোলেশন [isolation] মানে, বাকি দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন বা আলাদা হয়ে চলতে যাচ্ছে – এমন নীতির ফাঁদে আমেরিকা পড়ে গেছে।

অতএব যারা অজানা আশঙ্কায় ভয় পাচ্ছেন অথবা হাসিনা গোষ্ঠি যারা নিজেদের দিকে আশার আলো খুঁজছেন – এমন উভয় পক্ষের ভাগে কিছু জুটছে না তা বুঝা যাচ্ছে। ট্রাম্পের বিজয়ে আম-বাংলাদেশিদের আশঙ্কার কোন কারণ নাই। আবার হাসিনা-গোষ্টিদের আগামি জীবন হতাশাতেই পরিপুর্ণ থাকতেছে – সে ইঙ্গিত একেবারে পুষ্ট ও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

আর সবার উপরে ইউনুস সাহেবের যে ব্যক্তি পরিচিতি আমেরিকায় মানে তাদের – কোর থিঙ্কট্যাঙ্ক ও অন্যান্য ইন্টেলেক্ট ও একাদেমিক বা পলিটিক্যাল কর্তাদের – মধ্যে আছে তারাই বরং ট্রাম্প প্রশাসনকে গাইড করবে এই বলে যে এতদিন বাংলাদেশে আমেরিকান নীতির যে বেইজ্জতি ও দেউলিয়া  হয়ে থাকা দশা ছিল সেটা থেকে তাদেরকে উদ্ধারের জন্য বরকত হিসাবে এসেছেন ইউনুস! কাজেই তাঁকে বরণ করে আগলে রাখেন, এই হবে সম্ভাব্য নীতি! মোটা দাগে এই হয়ে পারে ট্রাম্পের হবু নীতি এবং এরচেয়েও গুরুত্বপুর্ণ হল, আমেরিকান এই অবস্থানটা হবে বাই-পার্টিজান – মানে আমেরিকার প্রধান দুই দলই এটা সাপোর্ট করবে!!!

লেখকঃ
গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
goutamdas1958@hotmail.com

আপডেটঃ  সকাল ১১ঃ ০০  ০৭ নভেম্বর  ২০২৪
শেষ আপডেটঃ      ২০২৪

 

Leave a comment