দ্বিতীয় পর্বঃ সিরিয়ায় কী হচ্ছে; আবার ওবামা-হিলারির নাটক?


দ্বিতীয় পর্বঃ সিরিয়ায় কী হচ্ছে; আবার ওবামা-হিলারির নাটক?
গৌতম দাস
১২ ডিসেম্বর ২০২৪   বিকাল ০৪ঃ ১৭
https://wp.me/p1sCvy-61D

HILARY, OBAMA & Joe Biden 

দ্বিতীয় পর্বঃ সিরিয়ায় কী হচ্ছে; আবার ওবামা-হিলারির নাটক?

সবার আগে খবরের সোর্স নিয়ে দুটাকথা বলে নেইঃ
সিরিয়ায় ক্ষমতায় পালাবদল এসেছে এতে সবপক্ষকেই আমাদের সবার পছন্দ-অপছন্দ যাই থাক একে বাস্তব বা রিয়েলিটি বলে না মানার আর সুযোগ নাই।
কিন্তু  সিরিয়ায় তাহলে হলটা কী তা বুঝার জন্য আমি আসলে অপেক্ষা করছিলাম মুখ্যত দুইটা ভাষ্য পাবার এক. ইরান মানে আসলে খামেনী [Ali Khamenei] এর বক্তব্য-ব্যাখ্যার জন্য । কারণ, ক্ষমতার এই পালাবদলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইরানের গ্লোবাল স্ট্রাটেজি। আর দুই. এরদোয়ান (যে লাভবান হয়েছে সবচেয়ে বেশি; অন্তত আপাতত চোখে) অথবা এর বিকল্প আমেরিকান প্রশাসনের কোন বক্তব্য পাবার জন্য। ইতোমধ্যে রাশিয়ারটা জানা গেছে।

গতকাল বুধবার খামেনীর বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল তিনি দিয়েছেন। যেখানে তিনি এরদোয়ান বা তুরস্ক সরকারকে অভিযুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন, যদিও দেশের নাম নেন নাই, সিরিয়ার পড়শি দেশ বলেছেন।  এপ্রসঙ্গ ভাল কাভারেজ আছে রয়টার্সে আর একেবারে গভীরের  কিছু খবর আছে লন্ডন টেলিগ্রাফে। আর সাথে বাড়তি কিছু আছে লন্ডন গার্ডিয়ানে। আসলে আমি অন্তত ইরান বা খামেনীর বক্তব্য পাবার জন্য সিরিয়া নিয়ে লিখতে দেরি করছিলাম। আর আরেকটা অসুবিধা ছিল ইরানের ক্ষতি হল (যেটা উলটে বললে তুরস্ক-আমেরিকা লাভবান) বলে এই প্রসঙ্গে আমেরিকান (বা সাধারণভাবে পশ্চিমা) নিউজ এজেন্সি খবর দিতে পারবে না বা চাইবে না; তা বুঝতে পারছিলাম। সেজন্যই সিরিয়ান খবর মানে তা হয়ে উঠেছিল  বিদ্রোহি এলায়েন্স [কেউ অবশ্য আগ্রহি না যে এরাই নয়া নামে পুরান আই এস] কে বিজয়ী দেখানো  হিরোগিরি যেন তারাই বীর, ঘটনার আসল নায়ক বলে প্রচারের খবর। সেটাকে আমি প্রথম পর্বে বাংলাদেশে এরশাদের পতনে কথিত বিজয়ীদের দাবির সাথে তুলনা করেছি। এসব মিলিয়েই এককথায় বললে কোন আমেরিকান নিউজ এজেন্সির কাছে কোন মিনিংফুল খবর নাই; বা অন্যভাবে বলা যায়, সব খবরের সোর্স হয়ে উঠেছে লন্ডন। ওদিকে ফাঁকে, আল জাজিরা থাকলেও তারা [মানে আসলে কাতার সরকার] ইরান বা তুরস্ক কারো বিরুদ্ধেই যেতে চায় না  প্লাস কাতারে আমেরিকার বড় সামরিক ঘাটি বলে বাসারের সিরিয়াবিরোধী অনেক কাজ তাদের এতদিন করে দিতে হয়েছে। অতএব নয়া ঝামেলা এড়ানো লাইনে তাদের খবরের ফোকাস হল, ঘন্টায় ঘন্টায় দামাস্কাস শহরে কী হল বা নতুন সরকারে কে এল – এসব সাধারণ বর্ণনার নিউজ!
রয়টার্স লিখেছে, আসাদ চলে যাবার পরে তারই নিয়োজিত প্রধানমন্ত্রী [With Syria’s Assad gone, his PM agrees to hand power to rebel administration] ক্ষমতা হস্তান্তরে আগ্রহি ও রাজি, এটা ১০ ডিসেম্বরে। মানে হল, আসাদ একাজে রাজি; এই সুত্রে তাহলে রাশিয়াও রাজি!  এখান থেকেই এটা একটা পর্দার আড়ালে বিরোধের আপোষ-সমাধান। সে খবর এখান থেকে ডালপালা ছড়াবে স্বাভাবিক। আর এই গল্পটা তুলে ধরতে গিয়েই  বিদ্রোহি কোয়ালিশন [rebel-led Salvation] ধারণাটার আমদানি। আর এটাই সিরিয়ার বর্তমান পরিবর্তনে হাতঢুকানোর হাতিয়ার বা টুলস যার সামনের দেশ হিসাবে আছে তুরস্ক আর এরও পিছনে আছে আমেরিকা; ফলে আরও পিছনে ইসরায়েল!
আর খামেনীর বুধবারের বক্তব্য নিয়ে বোমা ফেলেছে লন্ডন টেলিগ্রাফ ও গার্ডিয়ান। গার্ডিয়ান এর শিরোনাম খামেনীর দাবিঃ “আসাদের ক্ষমতাচ্যুতি আমেরিকা ও ইসরায়েলের পরিকল্পনায় ঘটেছে”  [Assad downfall was planned by US and Israel, claims Iran’s supreme leader]।  আসলে তিনি মুখ্য বা ফ্রন্টাল প্রতিনিধি মেনে নাম করতে চেয়েছেন তুরস্কের। তুরস্ক বুঝাতে বলেছেন, “Yes, a neighbouring government” – এভাবে আরো বলেছেন, এই পড়শী সরকার… in Syria plays an obvious role in this regard, and is still playing it – everyone sees this…সকলেই এর ততপরতা দেখেছে। এরই বাংলা অনুবাদ আমাদের ইত্তেফাক ছেপেছে

সংক্ষিপ্ত ঘটনা বর্ণনাঃ
যাদেরকে বিদ্রোহি কোয়ালিশন [এইচ-টি-এস Hayat Tahrir al-Sham.] নাম বলা হচ্ছে  হঠাত তাদের ততপরতার গল্প প্রেসিডেন্ট আসাদের কানে দেয়া হয়। এই ইন্টেলিজেন্স তথ্য যাদের সমন্বয়ে তৈরি হয় তার মধ্যে ইরানের কুদস ফোর্সের লোক ও রাশিয়ান ইন্টেলিজেন্স এর লোকও। সেটা এতই ভয়ার্তভাবে আসাদের সামনে তারা তুলে ধরেছিল যে আসাদ দেশত্যাগে রাজি হয়ে যায়। বলা হয়েছিল, এই HTS বাহিনী এসে গেল বলে আর ওরা এলে আসাদ আটকে পড়বেন তাই তাঁর আগে থেকে দেশত্যাগ করা ভাল। এতে এরপরে আসাদ পুতিনের সাথে ফোনে পরামর্শ করলে পুতিন জানান আপনি দেশত্যাগ করতে চাইলে সে সিদ্ধান্ত আপনার তবে আমরা আপনাকে এটা বাস্তবায়নে আপনাকে আশ্রয় দিব সাহায্য করব।  এরপরে আসাদ নিজ জেট বিমানে দেশত্যাগ করেন – আর সেটা সিরিয়াতেই এক রাশিয়ান মিলিটারি ঘাঁটির উদ্দেশ্যে। মনে করা হচ্ছে সেখান থেকে বিমান বদল করে রাশিয়ান সামরিক বিমানে তিনি রাশিয়া পৌছান সপরিবারে।

 লন্ডন টেলিগ্রাফ ১১ ডিসেম্বর লিখছে,According to Sergey Markov, a pro-Kremlin commentator on Telegram, Moscow’s rescue of Assad proved that its government had already been successfully negotiating with the Syrian rebels. বাংলা করে বললে, রাশিয়ান সরকার প্রসঙ্গে মন্তব্য করে থাকেন এমন কমেন্টটেটর বলেছেন মস্কোর আসাদ কে উদ্ধার করে আনা – এর অর্থ হল, রাশিয়া ইতোমধ্যেই সিরিয়া বিদ্রোহি গোষ্ঠির সাথে কোন আপোষ-রফায় এক মীমাংসা করে ফেলেছে!”

লন্ডনের গার্ডিয়ান সহ অনেকেই বলেছে, আসাদের দেশত্যাগ ইরানের জন্য এক বিরাট ধাক্কা।
তবে লন্ডন টেলিগ্রাফের গভীরে গিয়ে রিপোর্টিং রিপোর্ট সেটা হল, ইরানের Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC) এর দুই সিনিয়র কর্তার বরাতে এক রিপোর্ট। যেখানে ওদুই কর্তা আলাদা আলাদা করে অনেক তথ্য জানিয়েছেন। যার সারকথা হল, ইরানি এই গার্ড বাহিনীর ভিতরে আসাদের পতন কে কেন্দ্র করে একে অপরকে দোষারোপ আর হতাশায় নিজের মাথার চুল ছিড়ে ফেলার দশায় পরেছে। নেতা খামেনী তা নিয়ন্ত্রণ ও ঠান্ডা করার আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এমন খবরের লন্ডন টেলিগ্রাফ এর ৯ ডিসেম্বরের শিরোনাম দেয়া হয়েছে,Iran’s armed forces ‘at war with themselves’ over fall of Assad। বলা হয়েছে ইরানের কাছে ঠিক আসাদ নয়, মূলত লেবাননের হিজবুল্লাহকে সামরিক রসদ ইত্যাদি [main route for supplying Hezbollah] সরবরাহ আর অন্যদিকে ইসরায়েল এর পৌছানোর সুযোগ নেয়া – এবং সে ভিত্তিতে ইরানের নিজেকে সাজানো এই ছিল বিপ্লবী ইরানের কাছে আসাদের গুরুত্ব!

“No one ever imagined seeing Assad fleeing, as the focus for 10 years had been only on keeping him in power. And it was not because we were in love with him, it was because we wanted to maintain proximity to Israel and Hezbollah.”

কিন্তু ট্রাজিক কথাটা হল, লন্ডন গার্ডিয়ান খবর দিচ্ছে – আসাদের পতনে হামাস এই পতনের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে – .…..Hamas, the leaders of the Palestinian resistance in Gaza, has welcomed the fall of Iran’s ally Assad. ওদিকে আবার কাতার সেও – কাতার নয়া সিরিয়াতে এখন এমবেসি খোলার কথা জানিয়েছে। .…..Qatar, a country that refused to recognise Assad, is due to reopen its embassy shortly, and is likely to be a key player in trying to persuade the Sunni HTS …।

HTS সম্পর্কে তথ্যঃ 
এই তথ্য দিচ্ছে রয়টার্স তার আর্কাইভ থেকে। লিখেছে, জাতিসংঘের চোখে HTS এখনো এক টেররিস্ট গ্রুপ! মূল অকারণ, এর ইরাকে প্রথমে আল কায়েদার হয়ে পরে আইএস এর হয়ে টেররিস্ট ততপরতা। এর নেতা গোলানি [Golani] দীর্ঘদিন আমেরিকান কারাগারে আটক ছিলেন। HTS is still designated as a terrorist group by the United Nations, but has spent years trying to soften its image to reassure foreign states and minority groups within Syria. The group’s leader Golani, who spent years in U.S. custody as an insurgent in Iraq but later broke with al Qaeda and Islamic State, has vowed to rebuild Syria.
সেখান থেকেই কী তাঁর আমেরিকার সাথে সম্পর্ক যোগাযোগ ও বিকাশে আজকের অবস্থায়?

আমেরিকার এই কালো অধ্যায়েরঃ
আমেরিকার এই কালো অধ্যায়ের নাম ও কালপর্ব হল, ২০০৯-১২ সালের ওবামা-হিলারি প্রশাসন; তাদের হাতে আসলে আইএস এর জন্ম। তিনারাই  Abu Musab al-Zarqawi [আবু মুসাব আল-জারকাউই] কে নিয়োগ দিছিলেন। সেটা আল-কায়েদা অনেক দেরিতে টের পায় বলে এর আগে তাকে (জারকাউই মূলত জর্দানি, আলকায়েদা তার ঘরানা নয়, গুরুও নয়) রীতিমত বায়াত নিয়ে পরে ইরাকে আল-কায়েদা, ইরাক এভাবে সংগঠন খুলতে দেয়া হয়েছিল। তার গ্রুপ কে ওবামা প্রথম নিয়োগ দিয়েছিলেন ইরাকে; মূলত শিয়া-সুন্নি বিভক্তি আনতে ঘটাতে। যদিও এর আগেই  আমেরিকা জারকাউই কে বিমান থেকে গুলি করে মেরে ফেলেছিল; খুব সম্ভবত আলকায়েদা ঘটনা সব জেনে ফেলেছিল বলে। পরের ঘটনা সংক্ষেপ করে বললে, পরে (জারকাউই বাদে) এই গ্রুপকেই ওবামা-হিলারি নিয়োগ দিছিলেন লিবিয়ার বেনাগাজিতে বসে গাদ্দাফি কে বধ করার জন্য। তারা কাজ করে দিয়েছিল ঠিকই। পরে এই গ্রুপকেই সিরিয়ার আসাদকে উতখাত হত্যার এসাইমেন্ট দিয়েছিল। এবার ততদিনে তারা বিট্রে করে বা নিজের পথে নিজ নামে (আইএস) নিজেরা আত্মবিকাশ ঘটিয়ে রওনা দিয়েছিল। আর তখনই কেবল তারা নিজেরা যে নাম নিয়েছিল সেটাই আইএস বা (ISIL)।  সেসময় যা যা ঘটিয়েছিল ১। গাদ্দাফিকে হত্যা করার পরে তাদের একটা গ্রুপ লম্বা গাড়িবহরে লিবিয়ান অস্রত্র বোঝাই করে আফ্রিকার মালি তে চলে যায়। ২। বেনগাজিতে আমেরিকান রাষ্ট্রদুতের অফিসেই রাষ্ট্রদুত সহ সকল স্টাফকেই মেরে ফেলে যায় তাঁরা। ৩। কিন্তু এর আগেই আমেরিকাই এই গ্রুপকেই সিরিয়ায় আসাদকে উতখাতে এসাইমেন্ট দিয়ে বিমানে করে অস্ত্রসহ পৌছানোর  ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। ৪। আসলে সিরিয়ায় পৌছানোর পরে নিজেরা সংহত হয়ে নিয়ে এরপরেই প্রথম আইওএস নামে আত্মপ্রকাশ করেছিল । আর এর চেয়েও বড় কাজ ও কথা হল, তারা সিরিয়া থেকে রওনা দিয়ে ইরাকে আইএস নামে সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাপিয়ে পরছিল।

সেটাও ওবামার দ্বিতীয়বারের প্রেসিডেন্টের আমল। তিনি ততদিনে ইরাক-আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান সৈন্য ফিরিয়ে নিয়ে গেছিলেন (২০১৪ সালের ডিসেম্বরে) আমেরিকান অর্থনৈতিক সামর্থ যুদ্ধের খরচ বইবার মত আর না থাকার কারণে। কাজেই ওবামার নিজের হাতেই জন্ম দেয়া সশস্ত্র গ্রুপ যাদের তিনি সিরিয়ায় এনেছিলেন তারাই বোগদাদি খলিফা প্রতিষ্ঠা করে  ইরাকী আইএস নামে আত্মপ্রকাশ করে ফেলেছে।  কী তামসা!!!
আর ওবামা বোকা হয়ে গেছেন তার আমেরিকান সৈন্য তিনি ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন সেই ২০১৪ সালের আগেই!!!  অতএব এখান থেকেই এবার ইরাকী আইএস  খেদাতে ইরানের সরকারের শরণাপন্ন হন; যদি তারা ইরাকী আইএস খেদায়ে দেয়। ফলে ইরানের সরকারের সাথ ওবামার আমেরিকা প্রশাসন এক চুক্তিতে আসে এটাই ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি! নামে খ্যাত ঠাট্টা করে বললে এটাই ওবামা-হিলারির বেশি বুদ্ধিমান হতে চাওয়া আই-এস এর জন্ম দান আর এর অন্তত  ইরাকী আইএস অংশটাকে হত্যা করা। ইরান ওবামার সাথে চুক্তি মোতাবেক  নিজের IRGC বাহিনী দিয়ে ইরাকী আইএস কে ইরাক থেকে নির্মুল করে দিয়েছিল।

তাহলে এখন সিরিয়ায় যেটা হচ্ছে, সেটা কী?
এটাই কী আবার প্রাক্তন আইএস দেরই প্রতিশোধ? তবে নতুন নামে! ইরানের উপর প্রতিশোধ? 
কিন্তু সেটা আবার পুরান আইএস – তাদেরই নয়া নামে কিন্তু সেই পুরানা দোস্ত আমেরিকারই হাত ধরে?
তাদেরই এখন নয়া নাম বিদ্রোহি কোয়ালিশন বা  এইচ-টি-এসHayat Tahrir al-Sham]আমেরিকান এখনকার কী হবে?  শ্লোগান হবে জয় হোক HTS, এভাবে!!!! নাকি জয় হোক ISIL, এভাবে!!!!
আবার তুরস্কও তাদের পক্ষে, রাশিয়ায় পাইপ লাইনে???  

হেব্বি সব মজার কাহিনী, তাই না!!!!

গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
goutamdas1958@hotmail.com

আপডেটঃ    ১৪ ডিসেম্বর  ২০২৪
শেষ আপডেটঃ   ডিসেম্বর  ২০২৪

Leave a comment