কংগ্রেসী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কান্ধে – গুম-খুনের চটের ব্যাগ না হিন্দুত্ববাদ!


কংগ্রেসী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কান্ধে – গুম-খুনের চটের ব্যাগ না হিন্দুত্ববাদ!
গৌতম দাস
১৭ ডিসেম্বর ২০২৪  বিকাল ০৪ঃ ১০
https://wp.me/p1sCvy-64l

ভুল করেন না। ইনি ইন্দিরা গান্ধী নন। ইনি ইন্দিরার ছেলে রাজীব গান্ধীর মেয়ে মানে, ইন্দিরার নাতি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। রাহুল গান্ধীর ছোট বোন!
“বাংলাদেশ কে হিন্দুও আউর ঈসাইও কে সাথ খড়ে হো” 

 

 

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীলদের ধারণা হল একালের মোদি হয়ত খারাপ (হিন্দুত্ববাদী) কিন্তু কংগ্রেস হল একেবারে খাঁটি। এরা সেই নেহেরুর-গান্ধীর আমল থেকেই কংগ্রেসিরা এক্কেবারে প্রগতিশীল! মনকি নেহেরু তো নাকি সমাজতন্ত্রী ছিলেন?? শুধু তাই না আরও আছে – এরা সেকুলার, অসাম্প্রদায়িক, জাতীয়তাবাদী,  সমাজতন্ত্রী আরও কত কীই না!
যেমন ধরেন বাংলাদেশে এ’ধরণেরই সমাজতন্ত্রী- প্রগতিশীল একেবারে প্রতীক লোকটা; এমন লোকটা বাংলাদেশে কে? খুব সম্ভবত তাঁর নাম কমিউনিস্টেরা বলবে তিনি হলেন এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

কদিন ধরে ভাবছিলাম এই প্রগতিশীলকে একটু ফুটা করে দেয়া দরকার।  কারণ ইনিই হলেই বিবৃতিবাজ এক নম্বর। প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবীতার একনম্বর! আজকাল কিছু ইসলাম-পছন্দ পত্রিকাও দেখি তাঁর লেখা নিবার জন্য লাইন ধরেছে। তিনি এতই  প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবী। ইনার নাম থাকে বিবৃতিতে সবার উপরে। কারণ উনার নাম প্রথমেই দেখা গেলে পরে; এরপরে হুটোপটি লেগে যায় কার আগে কে সেখানে নিজের নাম ঢুকাতে হুমড়ি খেয়ে পড়বে!!!
আড় ইনাদের চোখে কংগ্রেস! ও কংগ্রেস? কংগ্রেস তো হল তাদের সেকুলার এর প্রতীক! কংগ্রেসকে দেখেই তো এই সেকুলার শব্দের জন্ম, এমন অবস্থা! মানে মুসলমান কোপানোর সবচেয়ে যুতসই ধারালো কুড়াল হল – এই কথিত সেকুলার-ধারণা পড়াশুনা না করা এই ডক্টরেট ডিগ্রীধারীরাই বাংলাদেশে এসব ‘সেকুলার’ সার্টিফিকেট বিলিয়ে বেড়ান।

 

কিন্তু এরাই আবার কখনও মোদি, আরএসএস-বিজেপি বা তাদের জাগরণ মঞ্চ, কিংবা সনাতনি মঞ্চ, একালের ইসকন এসব সম্পর্কে একেবারে মুখ বন্ধ! মুখে কঠিন তালা দেওয়া। চিন্ময়-ইসকন ইস্যুতে উনারা যেন মৃত!

 

যাই হোক, সেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা! বঢরা নামের এইঅংশটা স্বামীর টাইটেল সুত্রে। ঠিক যেমন হাসিনার নামে ‘শেখ’ থাকার কথা না কারণ ওটা বাপের টাইটেল; আর তিনি সাথে এক সময় স্বামীর টাইটেল ‘ওয়াজেদ’ লিখতেন – এটা তেমনই। 
উপরের ছবিতে প্রিয়াঙ্কা কাঁধে যে চটের ব্যাগটা সেটাই আলোচনার কেন্দ্র ও বিষয়বস্তু। ওখানে হিন্দিতে (অল্প কোথাও ইংরাজিতেও লেখা আছে )  –বাংলাদেশ কে হিন্দুও আউর ও ঈসাইও কে সাথ খড়ে হো -। মানে হল বাংলাদেশের হিন্দু আর খৃশ্চানদের পক্ষে দাঁড়াও!  

এখানে চটের ব্যগে ইংরাজিতে লেখা আছে – STAND for MINIRITIES OF BANGLADESH

অনেকের কাছে মনে হতে হতে পারে, এ আর এমন কী? ভারত সরকারই তো এমন বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে বলে প্রপাগান্ডায় ভরায় ফেলেছে। সরি, মহাশয়েরা আপনারা মারাত্মক ভুল করলেন।

 

কংগ্রেস হল পবিত্র আর জিন্নাহ হল পাপী! কংগ্রেস মানে গান্ধী-নেহেরুরা হল পবিত্র, সেকুলার সমাজতন্ত্রী। 

এই বক্তব্যের অন্যতম পাহারাদার হলেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীরা।
কিন্তু পাঠকদেরকে সাবধান হতে হবে, মিথ্যা থেকে বের হতে হবে – বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে এই দাবি কিন্তু মোদি ও বিজেপি সরকারের। কিন্তু লক্ষ্য করেন,  মোদি সরকারের দাবি কে মেনে নেওয়া কংগ্রেস এর (সাথে সিপিএম অথবা মমতার তৃণমুল) জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

অথচ আমরা দেখছি রীতিমত চটের ব্যাগ বানিয়ে একে পোস্টারের মত কাঁধে নিয়ে কংগ্রেসিরা সংসদে মিছিল করছে, ফটো সেশনও! মোদি আর কংগ্রেস একাকার! হিন্দুত্ববাদী!!!!!

 

মোদি কেন এই মিথ্যা প্রপাগান্ডার পথেঃ
আবার মোদি কেন এই মিথ্যা প্রপাগান্ডা করার পথ ধরেছে? কারণ, বাংলাদেশের হাসিনা আমলের দুইটা ঘটনাঃ
এক. এখন জানা যাচ্ছে- গুম, খুন অপহরণ ও আয়নাঘর ঘটনায় ইন্ডিয়ার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ আছে!  হাসিনা ইন্ডিয়ার সাথে মিলে এমন আয়নাঘর ততপরতা এমনকি অপহৃত ব্যক্তিকে ইন্ডিয়ার উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার মত কান্ডও ঘটিয়েছে এরা যৌথ ভাবে!!!!
দুই. ২০০৯ সালের বিডিআর ম্যাসাকার ও আমাদের সৈনিক-অফিসারদের হত্যার সাথে ইন্ডিয়ার সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ হয়ে পড়তে পারে!

এদুই ঘটনাকে চাপা দিতেই বাংলাদেশের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি এটাই মোদি সরকারের কৌশল ও লক্ষ্য। তাই কথিত এই হিন্দু নির্যাতনের প্রপাগান্ডা।

তাহলে এখন দাড়ালো কী?
দাড়ালো যে মোদির বিজেপি আর কংগ্রেস এই প্রশ্নে ভাইভাই!  তাদের ভারত-মাতা কে রক্ষার স্বার্থে কাঁধে ব্যাগ উঠিয়ে নিয়ে মিথ্যা কথা লেখা ও এর মিথ্যা প্রপাগান্ডা – এটাই কংগ্রেসি অপ-ততপরতা!  এই হল কংগ্রেসের পবিত্র সেকুলার ও সমাজতন্ত্রী আচরণ! যেখানে আমরা বাংলাদেশিরা হলাম পাপী – আমরা পাপী মুসলমান বা তাদেরকে সমর্থনকারী!!!

কাজেই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে  প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবী গণ আপনারা বিবৃতি দিবেন কবে? সেই অপেক্ষায় থাকলাম!!!

 

 

লেখকঃ
গৌতম দাস
রাজনৈতিক বিশ্লেষক
goutamdas1958@hotmail.com

আপডেটঃ বিকাল ৪ঃ ৪৯   ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪

Leave a comment