এখন দুদিন চলবে বয়ানের যুদ্ধঃ এদেরকেও পরাজিত করতেই হবে
গৌতম দাস
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, সন্ধ্যা ০৬ঃ ২০
https://wp.me/p1sCvy-6gk
হাসিনার বক্তৃতাঃ নিজের ১৬ বছরের গুম-খুমের শাসন, নির্বিচারে সরকারি বা পাবলিক অর্থ সম্পত্তির লুটপাট এর পক্ষে হাসিনা এক সাফাই-বক্তব্য রেখেছেন। আগেই প্রচার করা এই সুচি বলেছিল যে তিনি ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ভার্চুয়ালি অডিওতে আসবেন।
আর এর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ছাত্র-জনতা। হাসিনার সকল অপ-শাসন এর সিম্বল বা যেগুলো প্রতীক হয়ে উঠেছিল সেগুলো তারা এর প্রতিক্রিয়ায় ঐদিনই গুড়িয়ে দিয়েছে।
অর্থাৎ কেবল বস্তুগত স্থাপনা যেগুলা সেসব প্রতীক-ই ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, ফ্যাসিস্ট হাসিনার গলাবাজি ও সাফাই দিবার চেষ্টার বিরুদ্ধে। কিন্তু কোন প্রাণহানি বা নুন্যতম রক্তপাত না, এখানে ঘটে নাই। টার্গেটও ছিল না।
গত ৫ ফেব্রুয়ারী ছিল হাসিনার বক্তৃতা ও এর প্রতিক্রিয়ায় ৩২ নম্বর-কে ধুলায় মিশানোর মিশন। এখানে, ৩২ নম্বর (সাথে বিভিন্ন জেলায় ফ্যাসিজমের জেলানেতাদের প্রতীকী স্থাপনা) মানে হল যা হাসিনা বা আওয়ামী ফ্যাসিজমের সিম্বল। ফলে সকল বস্তুগত স্থাপনা ভাঙ্গা ফ্যাসিজমের প্রতীকগুলোর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আক্রমণ। এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতীকগুলোকে চিনিয়ে দেওয়া আর তাতে বুঝিয়ে দেয়া যে গণশত্রু কারা কারা! আর আবার বলছি এতে সহিংসতা বা রক্তপাত শব্দ ব্যবহারের কোন সুযোগ না রেখে এগুলো পরিচালিত করা হয়েছে। এককথায় খুবই প্রতীকীভাবে তাঁদের একাজ সম্পন্ন হয়েছে।
কিন্তু প্রতিক্রিয়াঃ এরা কারা?
ছাত্র-জনতার এই ততপরতায় খুবই বিপদে পড়েছে অনেকেই! কিন্তু এই অনেকেই, এরা কারা?
এদের প্রধান সমস্যা হল, এটা ফ্যাসিজমের প্রতীক যেগুলো কেবল এর উপর আক্রমণ হয়েছে কোন ব্যক্তির উপরে নয়; অর্থাৎ ফ্যাসিজমের প্রতীক মানে যেগুলো বস্তুগত প্রতীক মানে সরাসরি কোন ব্যক্তি – রক্ত-মাংসের কোন ব্যক্তিমানুষ একেবারেই নয়- আর এটাই এদের জন্য বিরাট সমস্যা হয়ে গেছে। কারণ, মানবাধিকারের কথা এতে আনা যাচ্ছে না! কেন ছাত্র-জনতা কেবল বস্তুগত বা ফিজিক্যাল স্থাপনা যেগুলো সেসব কিছুকে চিনিয়ে দেয়ায় শেষ করল কেন এই হল তাদের আক্ষেপ! এমনকি কোন ফ্যাসিস্ট ব্যক্তিকেও আক্রমণ করা হয় নাই। তাই নুন্যতম রক্তপাতও এখানে নাই! একারণের যারা ছুপা যারা, গোপনে নিজ চেহারা আড়ালে রেখে হাসিনার ফ্যাসিজমের পক্ষে কাজ করতে মাঠে নেমে থাকছিল এতদিন – এরা খুবই বিপদে পড়েছে। মূল কারণ এখন ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীর বিরুদ্ধে তারা কী বলবে কীভাবে বলবে? এই বয়ান তাদের কাছে নাই! বিশেষ করে কোন ব্যক্তি-মানুষের উপর সহিংসতা রক্তপাতও যেখানে নাই! তাহলে তাদের বয়ান দাঁড়াবে কার উপরে?
এবার একটু সার করে বলি, তাহলে ৩২ নম্বর-কে ধুলায় মিশানোর মিশন এটা আসলে হল, এক রক্তপাতহীন ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী ছিল এটা!
তবে এটা কি ছাত্র-জনতা খুব পরিকল্পিত ভাবে করেছে? না, ঠিক তা বলা ভুল হবে। আসলে তাদের মন স্বচ্ছ ছিল যে কোন রক্তপাত ঘটানো – এটা ঠিক তাদের লক্ষ্য নয়। বস্তুগত প্রতীকের উপর জোর দেয়া – এটাই ছিল তাদের লক্ষ্য এবং মন-ভাবনা! আর এতেই হাসিনার পক্ষের ছুপা দালালেরা চরম বিপদে পরে গেছে! মূল কারণ, নুন্যতম এটা সহিংসতা বলেও শক্ত কোন বয়ান তারা দাঁড় করাতে পারছে না! কোন ছদ্ম মানবাধিকারের বয়ান বা ছদ্ম মানবাধিকার ইস্যু তারা খাড়া করতে পারছে না!
সবচেয়ে বড় হাসিনার ফ্যাসিজম সমর্থক – ইন্ডিয়াঃ
কারা কারা ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীতে বিপদে? এর শীর্ষে আছে ইন্ডিয়া!
ইন্ডিয়ার বিদেশ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য-বিবৃতিঃ

আগেই বলেছি যারা ছুপা হাসিনা-স্বার্থের এদের মধ্যে শীর্ষে আছে ইন্ডিয়া! যাদের প্রধান সমস্যা বয়ান-ভাষ্য কী বানাবে যখন রক্তপাতও নাই???
তাই লক্ষ্য করেন, তারা বলছে ৩২ নম্বর বা শেখ মুজিবের বাড়ি এটা নাকি হল historic residence – মানে ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা বাড়ি বা বাসস্থান। এটা নাকি “a symbol of the heroic resistance of the people of Bangladesh”. মানে হল, বাংলাদেশের মানুষের বীরত্বপুর্ণ প্রতিরোধের প্রতীক! কিন্তু তাতে ইন্ডিয়া সরকারের কী? এটা কিভাবে ইন্ডিয়ার স্বার্থ বা কথা বলবার এক্তিয়ার?
তাই এতে এখন ইন্ডিয়ান সরকারী তামাসাটা দেখেন! গত ১৬ বছর যে ইন্ডিয়া হাসিনার ফ্যাসিজমকে ক্ষমতায় বসায়ে বাংলাদেশ শাসন করে গেছে, হেজমনি বা ইন্ডিয়ান আধিপত্য-দখল চালিয়ে গেছে সেই তারাই এখন বয়ান দিতেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিহাস বা ঐতিহাসিক কোনটা? বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানে র-এর এজেন্ট ঢুকয়ে যারা ১৬ বছর শাসন-আধিপত্য চালিয়ে গেছে যারা এখন পরাজিত (যাদেরকে খুঁজে খুঁজে উপরে ফেলে নির্মুল করা বা বের করে দেওয়া ও মুক্ত করার পথে আমরা এখনকা্র বাংলাদেশ) সেই পরাজিত ইন্ডিয়া তারা এখন আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস বা এর বয়ান কোনটা হবে সেটাও এখন নির্ধারণ করতে চাইছে!
আসলে ইন্ডিয়ার মনে রাখা উচিত, ভাষা আন্দোলন কেবল বাংলাদেশে না, ইন্ডিয়াতেও হয়েছে; বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে তামিলনারুতে! সে ইতিহাস আমরাও জানি! নেহেরু দক্ষিণ ভারতে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দিতে গিয়ে মার খেয়ে ফেরত এসেছিলেন ১৯৬৪ সালে (বলা হয় এই শোকেই ), সেটা আমরাও জানি! যা থেকে আজ পর্যন্ত তামিলনারুতে কোন হিন্দি-প্রিয় দল কংগ্রেস বা একালের বিজেপি কখনও রাজ্য সরকারে ক্ষমতায় আসতে পারে নাই। সব থেকে বড় চিহ্ন হল, সেই থেকে ইন্ডিয়ান কনষ্টিটিউশনে রাষ্ট্রভাষা বলে কিছুই নাই। এবং কিছুই যে নাই সেকথা জানিয়ে ইন্ডিয়ার সুপ্রীম কোর্ট এক রায় দিয়ে রেখেছে।
তো এখন ইন্ডিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস কোনটা? মোদি-কংগ্রেসিরা যে ইন্ডিয়ায় পরাজয়ের ইতিহাস লুকায় রেখেছে সেটা কী এখন আমরা বাংলাদেশিরা দাবি করব যে লুকায় রাখা ইতিহাস এটাই বা সেটা ইন্ডিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস???? আমরা নট ইন্টারেস্টেড – ছেচড়ামো আমাদের স্বভাবে নাই। নানান দেশের ইতিহাস জানার জন্য যতটুকু আগ্রহ থাকা লাগে ততটুকুতেই আমরা সীমাবদ্ধ!
কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস কী এবং কোনটা কতখানি – এটা একান্তই বাংলাদেশের; এর নির্ধারক একান্তই বাংলাদেশের জনগণ! ইন্ডিয়ান রাষ্ট্র-সরকারকে আমরা এই হুশিয়ারি জানাই দিয়ে রাখতে চাই! কাজেই আমাদের এই নির্ধারক ক্ষমতার মধ্যে ভাগ বসাতে হাত বাড়ালে সেই হাত জ্বালায় দেয়া হবে! জ্বলে পুড়ে যাবে। এখানে হাত ঢুকানোর চেষ্টা মানে এটাও আরেক ধরনের ইন্ডিয়ান অযাচিত হস্তক্ষেপ, আধিপত্য দেখানোর চেষ্টা। আমরা ইন্ডিয়ার এই অপ-ততপরতা কে উপড়ে ফেলে দিব, অবশ্যই! বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এর বয়ান একমাত্র আমাদের জনগণ দ্বারা নির্ধারিত হবে। কাজেই গতকাল ইন্ডিয়ান সরকারী ভাষ্য-বয়ান আমরা প্রত্যাখান করি, নিন্দা জানাই! বাংলাদেশের বয়ানে হাত ঢুকানো বা হাসিনার পক্ষের বয়ান নিয়ে দাঁড়ানো আমরা অবশ্যই প্রতিহত করবো! এনিয়ে ইন্ডিয়ান সরকারের সীমা লঙ্ঘণ চরমভাবে অগ্রহণযোগ্য, এটা মনে রেখে ইন্ডিয়ার যেকোন সরকারকে চলতে হবে! চলা উচিত!
ভারতের গার্বেজ যারা কাঁধে নিয়েছে এমন বাংলাদেশি রাজনৈতিক দলঃ
বাংলাদেশে যারা হবু ক্ষমতায় আসীন হতে স্বপ্ন দেখেন এমন সব রাজনৈতিক দলের দুর্দশা হল এরা প্রায় সকলেই – ভারতের গার্বেজ বা আবর্জনা এরা নিজের কাঁধে নিয়ে হাঁটা শুরু করে দিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে। এরা ইন্ডিয়া প্রযোজিত কিছু বাংলাদেশি রাজনৈতিক দল হবার পথে রওনা দিয়েছে। এমন ইন্ডিয়া প্রযোজিত দল সকলেই আজ বয়ান সংকটে পড়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীর কারণে এরা এখন বয়ান সংকটে দিশাহারা! এরা যে ৩২ নম্বরের ঘটনার বিরুদ্ধে, সেটা এরা প্রকাশ করতে পারছে না। এটাই মূলত তাদের ভারত প্রযোজিত দল হিসাবে চিহ্নিত হয়ে পড়ার সংকট! টানা ২৪ ঘন্টা নিশ্চুপ থাকার পরে ইন্ডিয়া প্রযোজিত দলগুলো বহুকষ্টে এখন তারা বলেছে ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী – এই ঘটনার পিছনে ইন্ডিয়া আছে কিনা তাদেরকে দেখতে হবে!!!! হা হা হা !! কী আজিব অর্থহীন কথা!
কী এক সমস্যা দেখেন!
ভাষ্য-বয়ান কী দিবে কিছুই খুজে পাচ্ছে না! উল্টা-পাল্টা বকছে! তাতে বয়ানের কোন অর্থ হল কী না হল তাও দেখার অবস্থায়ও নাই! সে এক মহা দুর্দশা! এটাও বাংলাদেশকে দেখতে হচ্ছে!! এরা নাকি নির্বাচনে ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশের বড় দলের দাবিদার! তবে (মূল দলীয় ভাষ্য নয় তবে) এই দলের সমর্থক যারা – এই তো তারা ক্ষমতায় যাচ্ছে বলে – স্বপ্ন দ্যাখে এমন ব্যক্তিরা তাদের ফেসবুকে একটা শব্দ খুজে পেয়েছে দেখা যাচ্ছে। শব্দটা হল, অরাজকতা! অর্থাৎ ৫ ফেব্রু. ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী এটা নাকি এক অরাজকতা ছিল! মানে হল তারা আইনি পথে থাকার লোক! আচ্ছা! কিন্তু এরা কী আইনি-বেআইনি বিষয়টা বুঝে???
এই ছুপা ইন্ডিয়ান-হাসিনা প্রেমি এরা ভেবেছে এভাবে তারা নিজেদের দালালির স্বার্থ লুকায় রাখতে চলতে পারবে! অথচ এদের আইনি-বেআইনি তর্ক বা রাজকতা বনাম অরাজকতা তর্ক এটাই তো অর্থহীন! যেমন, এরা ভেবে দেখতে পারে যে, ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযোদ্ধার রাজনৈতিক ভুমিকায় নেমেছিলেন সেটা কী অরাজকতা ছিল না?
হা অবশ্যই ছিল, তবে সেটা আমাদের সে সময়ের যুদ্ধের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের মানে, আমাদের শত্রুপক্ষের আইনি বা কনষ্টিটিউশনের দিক থেকে দেখলে তবেই! পাকিস্তানের আইনি বা কনষ্টিটিউশনের দিক থেকে দেখলে আমরা ছিলাম অরাজক শক্তি! এর সোজা অর্থ হল তাহলে, হাসিনা ও ইন্ডিয়ান আধিপত্যের জায়গায় বসে দেখলে ৫ ফেব্রু. ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী ছিল অরাজকতা! অর্থাৎ যারা ৫ ফেব্রু. কে অরাজকতা হিসাবে দেখছেন এরা হাসিনা ও ইন্ডিয়ান স্বার্থের লোক! ঠিক যেমন জুলাই-আগষ্ট্রের আন্দোলনে যারা ছাত্রলীগের গুন্ডা অস্ত্রবাজ, পুলিশ ও হেলিকপ্টারের বিরুদ্ধে বহুকষ্টে লড়ে বিজয় লাভ করেছে আর তাতে শেষে অনেক পুলিশ মারাও গিয়েছে – হাসিনা ৫ ফেব্রুয়ারির বক্তৃতায় এই পুলিশ-ছাত্রলীগকে হিরো মেনেছেন। মেনে যাদের বিরুদ্ধে হাসিনার দেওয়া ভুয়া মামলা ছিল, পুলিশ মারার মামলা ছিল সেগুলা এখন ইউনুস সরকারের ডিসমিস করে দেওয়ার উদ্যোগ বা প্রত্যাহার করে দেওয়া (ইনডেমিনিটি) এসবকে অবৈধ বলেছেন হাসিনা! তাহলে যারা অরাজকতা বলে বয়ান আনতে চাইছেন তাদের উচিত প্রকাশ্যে অবস্থান পরিস্কার করে কথা বলা! তারা কী ছাত্র-জনতাকে হাসিনা-ইন্ডিয়ার মত “অরাজক শক্তি” মনে করেন তা স্পষ্ট করে বলেন! পারবেন? পারলে সামনে আসেন! বুক ফুলায়ে বলেন!!! পাবলিক আপনাদেরকে দেখুক যে কারা গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী কে অরাজকতা হিসাবে দেখছেন! এবং কেন দেখছেন???
একই সমস্যায় ভুগছে জামায়াত!
কি বলবে? কথা খুজে না পেয়ে বলেছে, সবাইকে ধৈর্য ধরতে! মানে ইন্ডিয়ান লিঙ্ক ছুটে যায় কীনা সেই দুশ্চিন্তা বিবেচনা প্রবল রেখে কোনমতে একটা ভাষ্য তৈরি করেছে তারা! তাতে এর কোন অর্থ হোক আর নাই হোক!
এই ফাঁকে আইন সালিসি কেন্দ্রঃ
এরা আসলে সবসময় “হাসিনা লীগ টু”! কামাল হোসেন এন্ড গং! মূলত এরা ইন্ডিয়ান হেজিমনি ফেরত আনার পক্ষের শক্তি! কিন্তু ছল নিয়েছে তারা মানবাধিকার কর্মি! এদেরই এক জামাই প্রশ্ন তুলেছেন – “Who is running Bangladesh? Muhammad Yunus?” – যেন বিরাট মানবাধিকার কর্মি! কায়দাটা অসম্ভব ছুপা! এরাই হল অরাজকতা দেখার গোষ্ঠি! অথচ আসলে এরা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট! ৩২ নম্বর যাদের প্রাণ! গত ১৬ বছর হাসিনার ফ্যাসিজম তারা দেখেও দেখে না; কিন্তু প্রতীকী এই ৩২ নম্বর একে পবিত্র জ্ঞান করা তাদের বয়ান। হাসিনা তাঁর গুম-খুন লুটপাটের ফ্যসিজম আর ৩২ নম্বর বা শেখের মুর্যাল এই প্রতীক সব একাকার করেছিলেন খোদ শেখ হাসিনা! তবু এখন ৩২ নম্বরের সিম্বল এই বয়ান-দৃষ্টিভঙ্গি আর ইন্ডিয়ান স্বার্থ বা তাদেররও বয়ান – এদুটা একজায়গায় মিলেছে। তাই কামাল হোসেন এন্ড গং! এরা আসলে ঘুরে-ফিরে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট! এরাই ১৯৭১ সালের ঘটনাকে পাকিস্তানের আইন-কনষ্টিটিউশনের জায়গায় বসে দেখলে (অরাজকতার ভাষ্য ) যেমন হবে এরা সেভাবে দেখার লোক! এরা হাসিনা-ইন্ডিয়ার স্বার্থের জায়গায় বসে এরা ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী কে অরাজকতা বলে দেখছেন। আর মানবাধিকার এর মিথ্যা-মোড়কে মুড়িয়ে বয়ান হাজির করার কু-চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
সাথে আছে চিন্ময়-ইসকন বামপন্থীঃ
সাথে আরও আছে কিছু প্রগতিশীল বামপন্থী যারা আসলে ইন্ডিয়ান স্বার্থের আরও ঘোরতর এজেন্ট! বিচি আটকে যাওয়া এজেন্ট! কিন্তু নিজেদেরকে ছুপায় রাখতে চায় যে তারা প্রগতিশীল! এরা প্রশ্ন তুলতেছে যে ৩২ নম্বর ভেঙ্গে কী লাভ?
আসলে প্রগতিশীলদের রূপের শেষ নাই! যদিও সব রূপের কমন দিকটা হল তারা ছুপা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট!। অথচ এরা নিজেরাও মানতে চায়না যেন জানে না যে এই অবস্থানটা বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অন্য রাষ্ট্রস্বার্থের দালালি! এদের নয়া সংযুক্তি হল, সাথে বলা এগুলো – “এগুলো ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্পের অংশ”। এরা জানে সাধারণভাবে ইসলামিস্টদের কাছে বা এমন রাজনীতিতে – “ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্প বা বয়ানের বিরুদ্ধে তাদের শক্ত ও কমন অবস্থান আছে। তো সেই বয়ান কে ছদ্ম বা ভুয়া স্পর্শ করতে তাদের এই নয়া ছিল। টেনে হিচড়ে কোন ব্যাখ্যা কে আমেরিকান বা সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত বা ট্রাম্পের অবস্থান বলে (মিলুক আর নাই মিলে যাক) -এগুলো ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্পের অংশ – বলে ট্যাগ দিয়ে এরা হাজির করেছে আজকাল অথচ এরা সরাসরি র-এর মানে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির চক্কড়ে আটকে হানি ট্রাম্পড হওয়া ব্যাক্তি বা গোষ্ঠি-সকল!
আবার অনেকে বয়ান-যুক্তি দিচ্ছেন ৩২ নম্বর স্থাপনা ভাঙ্গালেও ফ্যাসিজম ভাঙবে না । তাই ৩২ নম্বর ভাইঙ্গো না! অথচ ছাত্র-জনতার কেউ কী দাবি করেছে এটা? নাকি গত ১৬ বছরে এরাই হাসিনাকে ভুল বুঝানো হয়েছে বলেছিল অথবা শাহবাগী জজবা তুলে এরাই হাসিনাকে জঙ্গীবাদবিরোধিতার নামে গুম-খুন হত্যার ফ্যাসিজম কায়েম করতে বয়ান যোগান দিয়েছিল??? অথচ এরাই ৩২ নম্বর স্থাপনা না ভাঙ্গার ফ্যাসিজম শিখাতে এসেছে! এরা ভুলায় দেতি চায় যে যারা ৩২ নম্বর স্থাপনা ভাঙ্গতে উতসাহ দিয়েছে তারাও তো বলছে এটা প্রতীকগুলোকে ভেঙ্গে দিয়ে ফ্যাসইজম ভাঙ্গতে হবে সেকথাই বলছে, সেই বয়ান খাড়া করেছে!!
আবার প্রগতিশীলতার কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছে যে ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী এটা অরাজকথা! এর চেয়ে আয়নাঘর ভাঙ্গা ভাল! যেন এরা আয়নাঘর ভাঙ্গার নয়া সৈনিক!
এরা আসলে বাংলাদেশে একটা সেনাবাহিনী থাকুক আর সেটা র-এর এজেন্ট বের করে দেয়া সেনাবাহিনী হোক মুলত এটাই তারা চায় না। খুবই কষ্ট পায় আর ব্যাথা তাদের! এই অর্থে তারাও হাসিনা ও ইন্ডিয়ান স্বার্থের লোক বা রাজনীতি করা লোক!
বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের পরে শেখ মুজিব উতখাত হওয়াতে সাধারণভাবে আর্মির বিরুদ্ধে এক বয়ান খাড়া করেছিল লীগ-হাসিনা! সাধারণভাবে আর্মি কথাগুলো খেয়াল করেন। বয়ানের মূল কথা হল, আর্মি মানেই এন্টি শেখ মুজিব!
অথচ আপনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রের পক্ষের হলে তাহলে আর আপনি সাধারণভাবে আর্মির বিরুদ্ধে থাকতে চাইলেও থাকতে পারেন না। থাকলে এর সোজা মানে হবে আপনি খোদ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।
মূলকথাটা হল, হাসিনার ১৬ বছরের আর্মি আর এখনকার আর্মি – এদুটাই তো আর্মি। কিন্তু একই আর্মি নয়! যারা এদুটোকে মিশিয়ে একাকার করে শুধু আর্মি বলবে এরা জেনে না জেনে ইন্ডিয়া-হাসিনার পক্ষের লোক! আপনাকে অবশ্যই এদুটোকে আলাদা করে বুঝাতে এবার সাথে বিশেষণ লাগিয়ে বলতে হবে। যেমন হাসিনা আমলের আর্মি নাকি হাসিনা উতখাত-পরবর্তি আর্মি! ফলে যারাই সবকিছুকেই শুধু আর্মি বলে একটা শব্দ ব্যবহার করবে এরাই বাংলাদেশ রাষ্ট্র-বিরোধী এবং ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট(!) হওয়ার সম্ভাবনা ষোলভাগ! জেনে অথবা না জেনে! যদিও অনেক সময় এরা গ্রুপবদ্ধ থাকলে তাদের বেলায়, এদের টপ নেতারা জানে তারা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট কিন্তু নিচের কর্মিরা না জেনেই ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট!- এই হল ফারাক!
ফলে আয়নাঘর মানে একে “আর্মি” এই শব্দটাকে সাধারণভাবে মানে বিশেষণ ছাড়া অর্থাৎ আয়নাঘর মানে সাধারণভাবে – আর্মি মাত্রই খারাপ – এই প্রতীকী ব্যবহার করতে চায় এরা। এজন্য এরা জেনে না জেনে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট হয়ে থাকছে। হাজির হচ্ছে বা থাকতে চাইছেন। আজ, ৩২ নম্বরের নিচে সাততলা আয়নাঘর এর কথা কথা বলা হচ্ছে, সন্দেহ ও খোঁজাখুজি শুরু হয়েছে। এখন যারা মনে করেন ইউনুস সরকার আয়নাঘর দেখতে দিতে চায় না তারা কী করবেন? এবার স্বরূপে হাজির হন, হবেন? “৩২ নম্বরের চেয়ে আয়নাঘর ভাঙ্গা ভাল” যারা বলছিলেন; আর কত ছুপা থাকবেন! সাততলায় ঝাপায় পরে খোজাখুজি করে প্রমাণ করেন আপনারা আসলেই কেবল মানবাধিকারের পক্ষের লোক!
আবার আরেক বিপ্লবী প্রগতিশীলতা আছে যারা চিন্ময়-ইসকন এর অধিকারের পক্ষে খাড়াইতে চায় (এভাবে র-এর স্বার্থ হাসিলের কর্তা) অথচ নিজেকে নয়া কনষ্টিটুশনের পক্ষের যেন বিপ্লবী এই ভেক ধরে হাজির থাকতে চায়!
সারকথায়, এখন দুদিন চলবে বয়ানের লড়াই! এই লড়াইয়েও আমাদেরকে অবশ্যই জিততে হবে! হাসিনা ও ইন্ডিয়ান হেজিমনি ফেরত আনার পক্ষের শক্তিকে বয়ানেও পরাজিত করতেই হবে! সবাই সাবধান!
আর যারা মানবাধিকার ব্যবসা করে বা এর আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট এর কাজ করে এদের সামনের দিন আরো খারাপ হবে! আর তা থেকে বাঁচতে চাইলে একটাই উপায় – আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট-গিরি তাদের ত্যাগ করতে হবে। যেমন হাসিনার ১৬ বছরে আসক (আইন সালিসি কেন্দ্র) যা যা করে টিকে ছিল হাসিনার গায়ে গুম-খুন মানবাধিকার ভঙ্গের অভিযোগের টোকা লাগতে দেয় নাই – আপনারাও সেসব করে মানবাধিকার ব্যবসায় থাকেন! আর নাইলে উতখাত হয়ে যাবেন। যারাই, পারসোনালি বা হুন্ডিতে বিদেশি অর্থ এনে মানবাধিকারের নামে আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট হতে বা থাকতে চাইছেন এরা সকলে অবশ্যই উতখাত হবেনই! দিনকে দিন এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের একশন শক্ত হবেই! আয়নাঘরের বিরুদ্ধে আপনারা এক ভয়েজ যেন এই চেহারার আড়ালে মানবাধিকারের ঝান্ডার আড়ালে অর্থ কামাবেন তা হয়ত করতে পারেন; কিন্তু আর্মি এই শব্দটাকে সাধারণভাবে মানে বিশেষণ ছাড়া ব্যবহার করবেন তাহলে আপনারা উতখাত হবেন!
লেখকঃ
গৌতম দাস
রাজনৈতিক বিশ্লেষক
goutamdas1958@hotmail.com
আপডেটঃ সন্ধ্যা ৭ঃ ২৬ , ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
শেষ আপডেটঃ রাত ৮ঃ ৩৬ , ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

