ইসলামের চার খলিফার নামে সেনা-কোম্পানী নাম রাখা এক স্বাভাবিক কাজ
গৌতম দাস
০৩ জুলাই ২০২৬
https://wp.me/p1sCvy-6zT

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইসলামের চার খলিফার নামে চার নয়া কোম্পানীর নামকরণ করেছে। ত এতে কাদের জ্বলে যাচ্ছে? কারা ওরা? বাংলাদেশ ভুখন্ডটাই কি ইন্ডিয়ার সম্পত্তি? যে তাদেরকে খুশি করে মন জুগিয়ে আমাদের চলতে হবে? একটা সেনাবাহিনী পরিচালনা করার ক্ষেত্রে এর ভালমন্দ বা বিবেচনাযোগ্য ফ্যাক্টরগুলো আমল করা আমাদের চেয়ে ভাল কে বুঝবে? ইন্ডিয়া? প্রগতিশীল হিন্দুত্ববাদ অথবা যারা আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের বিরোধী?
Brahmos Missile এটা কাদের?
বাংলায় লিখলে এটা হল ‘ব্রহ্মোস’ ক্ষেপণাস্ত্র! মানে ‘ব্রহ্ম’ নামের ইন্ডিয়ান মিসাইল এর নাম এটা। এখন ব্রহ্ম মানে কি? বা কে?
তিনি হলেন হিন্দু ধর্ম অনুসারেঃ দুনিয়া সৃষ্টির দেবতা; তাই অনেকটা স্বর্গের দেবতাদের দেবতা ধরণের এক ধারণা। তাই সেকারণে, তাদের ভাষায়, পৌরাণিক কাহিনীতে ব্রহ্মাস্ত্র বলে এক অস্ত্র এর কথা আছে যা তাদের ভাষ্যে “সবচেয়ে শক্তিশালী এক অস্ত্র যা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা কর্তৃক নির্মিত সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র”।
এখন সেখান থেকে ইন্ডিয়ার আবিস্কৃত ও ব্যবহৃত এক মিসাইল এর নাম তারা রেখেছে ‘ব্রহ্মোস’ বা Brahmos Missile!
এখন ইন্ডিয়ান আর্মি চন্দন নন্দী-দের কাছে ব্রহ্মা এক স্বয়ং ভগবান গণ্য হতেই পারে। ফলে, ওরা মিশাইলের নাম ‘ব্রহ্মোস’ রাখলে সেক্ষেত্রে চুলকানির বদলে তাদের বুক ফোলানো গর্ববোধ হতেই পারে! কিন্তু সাবধান – স্বাধীন সাবভৌম বাংলাদেশের দিকে আঙুল উঠাবেন না আপনার! সেক্ষেত্রে আপনাদের আঙুল ভেঙ্গে দেয়া ছাড়া আমাদের কিছুই করার থাকবে না!
আরো কথা বলার আগে ছোটভাই শিশির [ফ্যাক্টস চেকার ওয়েব সাইট THe dessent এর পরিচালনাকারী] কে বিরাট এক ধন্যবাদ জানাতে চাই। বুক ফুলিয়ে তাদের একাজ করার জন্য!
এনিয়ে তার সাইট এক লম্বা রিপোর্ট করেছে যেখানে, ইন্ডিয়ান সেনাবাহিনীতে এমন পৌরাণিক বা হিন্দু ধর্মীয় কারেকটারের নামে নাম রাখা কত কি কি আছে এর একটা ছোট তালিকাও সেই রিপোর্টে দেয়া আছে। আগ্রহিরা দেখে নিতে পারেন! প্রগতিশীল=হিন্দুত্ববাদীরা দেখতে যেয়েন না লজ্জা থাকলে লজ্জা পেতে পারেন!
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে কিছু কথা!
এখন সবশেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে কিছু কথা! এককথায় আমাদের সেনাবাহিনীর পরিচালনায় এর সুবিধা / অসুবিধা বিবেচনা একান্তই আমাদের নিজের। এতে আমরা সীমানার বাইরের বা ভিতরের যারা ইন্ডিয়ান স্বার্থের প্রতিনিধি মানে ইন্ডিয়ান স্বার্থের ভিতরে যারা নিজ ব্যক্তিস্বার্থ দেখে – এমন দেরকে আমাদের সেনাবাহিনী নিয়ে কোন কিছুই বলতে এলাও করতে চাই না, করব না; করতেই পারি না। তাই করবই না! তাদের ভালর জন্য বলছি আপনারা নিজ নিজ স্বার্থে এই ইস্যুতে দূরে থাকেন!
এটা খুবই স্বাভাবিক আমাদের সেনাবাহিনী পরিচালনা করতে গিয়ে আমাদের আভ্যন্তরীণ যেসব বিবেচনা মাথায় রাখতে হয় সেসব একান্তই আমাদের। এটা আমাদের সার্বভৌমত্ববিরোধী কারও সাথে শেয়ার করার কিছু নাই। তা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়! কাজেই আমরা কেন চার খলিফার নামে আমাদের সেনাবাহিনীর নয়া কোম্পানীর নাম রাখব সেটা একেবারেই আমাদের আভ্যন্তরীণ যেসব বিবেচনা ফ্যাক্টর!
সেনাবাহিনী আমাদের সমাজের একেবারে বাইরের কেউ না, কোন প্রতিষ্ঠান নয়। এমন বোকা অনুমানের কোন ভিত্তি নাই! কাজেই সমাজ বিচ্ছিন্ন এমন কোন কিছু করে আমাদের সেনাবাহিনী কাঠামো গড়তেই পারি না। তাই, এর মধ্যে আমাদের সামাজিক, ধর্মীয়, এবং সর্বোপরি (প্রাকটিসিং কালচারের) সংস্কৃতির ছাপ থাকবে; শুধু তাই না তা এমনটাই রাখতে হবে এটাই স্বাভাবিক। এককথায় তাই, সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভিতরের সংস্কৃতি আমাদের সামাজিক সংস্কৃতিরই এক্সটেনডেড অংশ গণ্য হবে। সমাজ বিচ্ছিন্ন তো একেবারেই নয়, আবার কোন অতিরিক্ত বা বাড়াবাড়িও নয়। এককথায়, আমরা আমাদের সেনাবাহিনীকে ধর্মচর্চার বাইরে বা বিচ্ছিন্ন করে রাখতেই পারি না; আবার বাড়াবাড়িও করতে পারি না যা বাহিনীর মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থি! এই মৌলিক তত্বগত দিকটা ছাড়া আর অন্যকিছু আমাদের প্রকাশ্যে আম-জনতার সাথে ওপেন আলাপের কিছু নাই! তাই সীমিতভাবে সেটাই করছি তাও এজন্য যে – প্রগতিশীল=হিন্দুত্ববাদীরা – এদের কারণে আমাদের ভিতরে যেন কেউ বিভ্রান্তি ছড়াবার সুযোগ না নিতে পারে!
দীর্ঘদিন আমি আফ্রিকায় জাতিসংঘ মিশনে কাজে থাকার জন্য আমাদের সেনাবাহিনীর আভ্যন্তরীণ গঠন এর ভিতরের গৌরব করার দিক এর স্টেন্থ বা শক্তির এবং সাধারণভাবে চ্যালেঞ্জগুলো বা এর ভালমন্দ অনেক কিছুই আমার কাছে উন্মুক্ত! আমার আগ্রহ ও কমপক্ষে টানা দশবছরে আমাদের সেনা ভাইদের সাথে উঠাবসা লাইফ শেয়ার এর ফলস্রুতির কারণেই এসব আমার জানা! অতএন এর উপর দাঁড়িয়ে, আমি বুক ফুলিয়ে সার্টিফাই করতে পারি ধর্ম প্রসঙ্গে আমাদের সেনাবাহিনীর গঠন কাঠামো খুবই বিচক্ষণ একটা কাজ হয়ে আছে! গঠন কাঠামো নিয়ে এই প্রসঙ্গটা এলেই আমার (প্রেসিডেন্ট ও) জেনারেল জিয়াউর রহমানের নাম মনে আসে – যিনি তার আমলে বসেই বহু আগামিদিন আগেই দেখতে পেতেন – পেয়েছেন আর এর ছাপ রেখে গেছেন! তাই অজান্তেই যেন সবসময় মাথা ঝুকিয়ে সালাম করে ফেলে থাকি!
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জিন্দাবাদ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব জিন্দাবাদ!
আমাদের সেনাবাহিনী, সার্বভৌমত্ব আমাদের এক্তিয়ার!
গৌতম দাস
রাজনৈতিক বিশ্লেষক
০৩ জলাই ২০২৬

