জরিপ বলছে, ৩৬টা দেশে আমজনতার ইতি-মনোভাবে আমেরিকার চেয়ে চীন এগিয়ে
গৌতম দাস
১৬ জুলাই ২০২৬
https://wp.me/p1sCvy-6A4
China overtakes US in global favourability: Study
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে চীনের গ্রহণযোগ্যতা
এই জনমত জরিপটা করেছেআমেরিকার এক বিশ্বাসযোগ্য(credible) প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার (PEW RESEARCH CENTER) । যার ব্যাপ্তি ছিল ৩৬টা দেশ জুড়ে। মোট survey of 42,151 people/ অমানে যেতাকে আমরা সার্ভে সাইজ বলি। যেটা মুখ্য জানার ছিল পাবলিক পারসেপশন যে চীন ও আমেরিকার মধ্যে কোন দেশের উপর দুনিয়ার বেশি মানুষ এখনও আস্থা রাখে। যেমন তারা গ্লোবাল প্রয়োজনীয় নিয়টি-পলিসি নেয়া ও তা বাস্তবায়নের জন্য সব প্রচেষ্টা নেওয়ার ক্ষেত্রে জনমত এর চোখে কোন দেশের উপর তাদের আস্থা। নিচের ছবির দিকে দেখেন। কিভাবে আমেরিকার সরকারের উপর গ্লোবাল জন আস্থা কছিল আর কীভাবে ততই চীনের প্রতি গণ আস্থা বাড়ছিল। 
উপরের ছবিটা AXIOS এর রিপোর্ট থেকে নেওয়া। লিঙ্ক সাথেঃ
China surpasses U.S. in global favorability, poll finds
Rebecca Falconer
https://www.axios.com/2026/07/16/us-china-pew-survey-popularity
7 hours ago 160726
এছাড়া বিবিসি এর রিপোর্টাই TBS ছেপেছে, সেটার লিঙ্ক এখানে।
তবে একটা ব্যাপারে সাবধান এটা জনমতে কেমন মানে ৩৫টা বিভিন্ন দেশের মানুষের ধারনা (perception) কেমন. আর ধারণা মানে তা বাস্তবের সত্যটাই হুবহু না হতেও পারে। তবে আম-মানুষ বা জনতা কীভাবে এটা দেখে সেটার সঠিক ধারণা পাওয়া যায় অবশ্যই। ঠিক যেমন আমাদের দেশে সরকারি অফিসে ঘুষ দেয়া-নেয়া কেমন পরিমাণ চলে এনিয়ে পাবলিক ধারনায় (perception) সেটা হুবহু সত্য নাও হতে পারে। তবে এটা বাস্তব ফিগারের কাছাকাছিও হয় বলে মনে করা হয়।
কিন্তু কেন আমি এটা নিয়ে এই লেখা ও এই ইস্যুকে গুরুত্ব দিচ্ছিঃ
আমি দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় নিয়মিত একটানা কলাম লেখা শুরু করেছিলাম ২০১৪ সালের শুরুর দিকে। ২০১২ সালে স্থায়ীভাবে চাকরি শেষ করে দেশে ফেরার পরে ২০১৩ সালের বিখ্যাত ৫ মে শাপলা চত্তর ঐতিহাসিক ঘটনার পর আমি অনুভব করি যে বাস্তব মাঠের ঘটনাবলিতে আমরা এই প্রথম হিন্দুত্ববাদকে ( কথিত ততকালের শাহবাগ আন্দোলন) পরাজিত করেছি ঠিকই কিন্তু আমরা বয়ানের দিক থেকে ততটা আগিয়ে নাই। ফলে, এই বিজয়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় ও শক্ত বয়ান হাজির না করতে পারলে আমরা আবার হারিয়ে যাব, পিছিয়ে পড়ব। এসব বিবেচনা থেকে আমার লেখার প্রসঙ্গ নির্ধারণ করি। তখনই আমি প্রথম শাহবাগকে বা প্রগতিশীলতাকে হিন্দুত্ববাদ বলে পরিচিত করানো শুরু করেছিলাম।
একইভাবেই ছিল আরেকটা যা গ্লোবাল ইস্যুঃ
এটাই হল, আমেরিকার গ্লোবাল নেতৃত্ব ঢলে পড়তেছে। যেটা আমার মত ক্ষুদ্র এক ব্যক্তির বক্তব্য অবশ্যই না। ২০০৭ সালে (আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৮ সালে) আমেরিকা নিজেরই করা এক স্টাডির প্রকাশ্য রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। যেখানে বলা হয়েছিল আমেরিকা আর গ্লোবাল নেতৃত্বে থাকছে না।
পুঁজি বা ক্যাপিটালঃ
পুঁজির স্বভাব বা ধর্ম হচ্ছে সারপ্লাস বা বাড়তি মূল্য তৈরি করা। অন্যভাষায় পূঁজির স্বভাব পুঞ্জীভুত বা সঞ্চিত হওয়া (একুমুলেশন accumulation) বা ঘণীভূত হয়ে সাইজ বাড়িয়ে চলা। এটাই এরপর থেকে নাম বদলিয়ে হয় বিনিয়োগ (ইনভেস্টমেন্ট) এর সক্ষমতা। এটা ট্রাডিশনাল নিয়ম যা অনুসরণ করেশুরু হয়েছিল সবদেশেরই ক্যাপিটালিজম। কিন্তু পুরা প্রক্রিয়াটাই আউলায়ে যায় ১৬০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া ইউরোপের মুখ্য পাঁচ দেশের কলোনি দখলদারিত্ব। আমাদের মত দেশের ন্যাচারাল ক্যাপিটালিজম থেকে বৃটিশ দখলদারেরা এর সব একুমুলেশন সব সারপ্লাস ও বিনিয়োগ ক্ষমতা সবই লুট হয়ে চলে যায় ইংল্যান্ডে। এর এভাবেই এশিয়া, আফ্রিকা বা ল্যাটিন আমেরিকার সব সম্পদ লুটে ইউরোপে স্থানান্তর হয়ে গেছিল। কালক্রমে এটা আমেরিকাতেও। এককথায় এটাকেই আমরা পশ্চিম বা পশ্চিমা ক্ষমতা বলে চিনি।
কিন্তু ২০০৮ সালে প্রকাশিত আমেরিকান স্টাডি রিপোর্টের সারকথা শুরুতেই হাফ পেজে লেখে ছিল। আর তাতেই বলা হয়েছিল, পশ্চিম থেকে বিনিয়োগ সক্ষমতা বা পুঁজি পুব বা এশিয়ামুখী হয়ে পড়েছে। সাথে আরও ভয়ংকর কথা লেখা ছিল তাতে যে এই এশিয়ামুখি অভিমুখে ধাবমানতা এটা irriversible যার বাংলা মানে হল এটা একমুখী যা আর কখনও উলটা দিকে বা reverse যাবে না। অন্যভাষায়, পশ্চিম অতিরিক্ত সঞ্চিত পুঁজিতে সয়লাব হয়ে গেছে যা আর তা ধারণ করতে পারবে না। এরচেয়ে তুলনায় ভাল বিনিয়োগের স্থান এশিয়া (আফ্রিকা বা অন্য মহাদেশ কারও চেয়ে)। বলাই বাহুল্য এশিয়ার বড় অর্থনীতির নেতা দেশটা চীন বা চীনা অর্থনীতি।
পরাশক্তি বা সুপার পাওয়ার ধারণায় ভুল বা সীমাবদ্ধতা কী ছিলঃ
এতদিন মনে করা হল, শক্তি মানে কোন দেশের শক্তি কত এমন প্রশ শক্তি বলতে সামরিক শক্তি বুঝতে হবে। এখন একাদেমিকেরা পরিস্কার যে পুরা পরাশক্তি ধারণায় ভুল অংশটা কী ছিল।
সংক্ষেপে বললে, বাইরে থেকে দেখে শক্তি বলতে সামরিক শক্তিই বুঝা সঠিক মনে হতে পারে। তবে সামরিক শক্তিটাও আসে বিশাল অর্থনৈতিক শক্তি থেকে। আগে অর্থনৈতিক শক্তিতে বিশাল সঞ্চিত পুঁজি বা বিশাল বিনিয়োগ সক্ষমতা যা শুধু নিজ দেশেই না বাইরে যাকে পছন্দ এমন অভাবি দেশেও এই বিনিয়োগ সক্ষমতা ঐ দেশ ধার দিতে পারে খুবই কম সুদে। ধরা যাক উঠতি দেশটা এখন চীন। তাহলে চীনের আমাদের মত দেশকে বিনিয়োগ দিবার যে সক্ষমতা এটাই ক্রমশ চীনের গ্লোবাল অর্থনৈতিক প্রভাব হিসাবে হাজির হবেই। ঠিক যেমন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকেই আমেরিকা ইউরোপকে মানে বড় সব কলোনিদখলদার দেশকে ধার দেয়ার একমাত্র দেশ হয়ে উঠেছিল। যেটা আরো অর্গানাইজভাবে ১৯৪৫ সালের পর থেকে (জাতিসংঘ, IMF-WB গ্লোবাল প্রাতিষ্ঠানিকতা গড়ে নিয়ে) সারা দুনিয়ায় একমাত্র গ্লোবাল শক্তি হিসাবে উত্থিত হয়েছিল।
কিন্তু তবু তা অপরিস্কার ধারণায় ছিলঃ
কোন ধারণা টা অপরিস্কার ছিল? ধারণা হল, শক্তি মানে কী? আমেরিকা কী সামরিকভাবেই বড় বা সবচেয়ে শক্তিশালী তাই ১৯৪৫ সালের পরের আমেরিকার শক্তি বলতে বুঝব? নাকি আমেরিকা গ্লোবাল অর্থে সবার উপরের বড় অর্থনৈতিক শক্তি – এটাই আমেরিকার শক্তি কথার অর্থ? অর্থাৎ কম সুদে ধার দেয়ার সক্ষমতা নাকি সামরিক এদুইয়ের মধ্যে কোনটাকে আমেরিকার শক্তি বলে বুঝব?
এই সন্দেহের পিছনে একতা মূল কারণ ছিল আমেরিকার যে প্রতিদ্বন্দ্বি সেসময়ে মানে (১৯৪৫-৫৩ বা ততপরবর্তি) সে দেশ হল সোভিয়েত ইউনিয়ন। এখন সোভিয়েত ত সমাজতান্ত্রিক মানে, আমেরিকার মত কম সুদে ধার দেয়ার সক্ষমতার দেশ ত সোভিয়েত নয়। তাহলে সোভিয়েত-আমেরিকার দ্বন্দ্ব-প্রতিযোগিতা মানে নিশ্চয় সামরিক শক্তি – এই ধারণাটা (ভুল হলেও) ভিত্তি পেয়ে যায়। এটাকেই আমরা বলি মানে তখন বলতাম কোল্ড ওয়ারের [cold war] যুগ। কিন্তু সোভিয়েত ১৯৯১ ডিসেম্বরে ভেঙ্গে গেল এরপর আর পরাশক্তি ধারণাটাই অস্পষ্ট বা হারায়ে যেতে থেকেছিল।
শক্তি মানে সামরিক না অর্থনৈতিক বা অন্যকিছু? আসলে সঠিক ধারণাটা কী?
আসল কথাটা আগে বলে নেই।
ফর্মুলাটা হল, সামরিক শক্তি তখনই একটা শক্তি যখন ওর সামরিক খরচ বইবার মত পিছনে একটা ফাংশনাল শক্ত অর্থনীতি কার্যকর আছে। এই শক্তিটা না থাকলে সামরিক শক্তিটা শুরুতে দাঁড়াবেও না বা দাঁড়িয়ে গেলেও টিকবে না। কারণ সামরিক সক্ষমতা নিজে কোন আয়কারী ততপরতা নয় – ফাইন্যান্সিয়াল ভেনচার নয়। বরং সামরিক সক্ষমতা মানেই একপক্ষীয় কেবল খরচ যার কোন সরাসরি রিটার্ণ নাই। যেটা ছিল কলোনিদখল আমলে তেমন তো নয়ই!
অতএব কোন দেশের গ্লোবাল সামরিক শক্তি হয়ে উঠার প্রথম ধাপতা হল গ্লোবাল অর্থনৈতিক শক্তি হওয়া। এতে ইতোমধ্যেই আমাদের মত দেশে চীনের মত দেশের কম সুদের ঋণ ও বিনিয়োগ দেওয়ায়র সক্ষমতা হাজির হয়ে থাকা মানে এটাই প্রভাব এক গ্লোবাল ক্রমশ বড় হচ্ছে এমন অর্থনৈতিক প্রভাব। বিশেশ করে যখন আবার আগের আমেরিকা যে জায়গাটা দখল করে ছিল সেই আবার এদিকে ততই বিনিয়োগ সক্ষমতা হারানোর পথে!
পয়েন্ট দুই যখন চীন অর্থনৈতিকভাবে গ্লোবাল অর্থনৈতিক শক্তি তখন থেকে নিজ সামরিক বাহিনীতে ব্যয় করার সক্ষমতা ক্রমশ আমেরিকাকেই ছাড়িয়ে যেতে চাইবে। ঠিক একারণে যেমন চীনের রাডার টেকনোলজি গবেষণা আমেরিকাকে ছাড়িয়েছে। ফোনের ব্যাপারে দেখেন আমেরিকান বেল টেকনোলজি পিছিয়ে কোথায় হারিয়ে গেছে অথচ চীন 5G ছাড়িয়ে 6G বা আরো বিস্তারে। অর্থনৈতিক শক্তিতে দুর্বল থাকলে টেকনোলজিক্যাল গবেষণায় খরচ করার সক্ষমতা সীমিত হতেই থাকবে। ইদানিং একটা ফর্মুলা কেউ কেউ মানে যে পোক্ত গ্লোবাল অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন হয়ে গেলে সামরিক শক্তিতেো তার নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিদের ছাড়িয়ে যেতে নুন্যতম দশ বছর হলেই হয়!
এই কথাগুলো বলছি কেন বা তুললাম কেন?
সরাসরি বলি।
শুরুর দিকে যখন এই কথাগুলো আমি বলতে শুরু করি সেতা এই ২০১৪ সাল থেকে। কিন্তু এর আগে আমি আএরিকান স্টাডি রিপোর্তটা আমার হাতে এসেছিল ২০০৮ সালের শেষে। কিন্তু এনিয়ে লেখা বারণ ছিল। আমি তখন ঘোরতরভাবে জাতিসংঘ মিশনের স্টাফ। তাই প্রকাশ্যে নিজের নামে কোন রাজনৈরিক লেখালেখি ওয়ার অন টেররের আমলে (সেটা ছিল প্রেসিডেন্ট বুশের আমল) নিষধ ও কঠোর শাস্তি র হুশিয়ারি দিয়ে সারকুলার জারি হয়েছিল। তাই সঙ্গোপনে বেনামে ছদ্মনামে লিখুতাম। অন্তত তিনটা নামে। এসব মিলিয়ে ২০১৪ সালটা ছিল আমার জন্য নয়া স্বাধীনভাবে লিখালিখি শুরুর সময়কাল! ফলে আমি এই আমেরিকার পতন আর চীনের উত্থান – এটাকেই আমি পালাবদলের যুগ বলি – এনিয়ে প্রথম লেখালিখি শুরু করেছিলাম।
কিন্তু ক্রমশই দেখলাম এই বিষটে আমার পাঠকদের কোন ধারণাই নাই নতুন বিষয় এর উপর আমার প্রগতিশীলতার প্রভাবে কেউ কেউ আমাকে আড়ালে টিটকারী দেয়া শুরু করেছিল যে আমি চীনের দালাল। কেউ কেউ অর্থ করল আমি প্রাক্তন কমিউনিস্ট সেজন্য চীন ভালবাসি তাই এসব কথা বলছি! একালে তামশার কথা যারা এখন একটা চীনা স্কলারশীপ পাওয়ার জন্য কাঙাল – হোক না সেটা তিন মাস বা কয়েকবছর হলে তো কথাই নাই – সেসবের লোভে যে কারো পায়ে পড়তে দ্বিধা করছি না দেখছি আমি!
কোন কোন দেশে আমেরিকা এগিয়েঃ
ইন্ডিয়া, পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ইসরায়েল।
আর, এ বছর ইতালি, স্পেন, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কে চীন সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
- Representatives for the White House did not immediately respond to Axios’ request for comment.
গৌতম দাস
রাজনৈতিক বিশ্লেষক
১৬ জুলাই ২০২৬

