কেন ইন্ডিয়া সাথে ইউনুসের চেয়ে একা তারেক কাম্য ভাবছে?


কেন ইন্ডিয়া সাথে ইউনুসের চেয়ে একা তারেক কাম্য ভাবছে?
গৌতম দাস
০২ আগষ্ট ২০২৬
https://wp.me/p1sCvy-6BC

এমন একটা প্রশ্ন তৈরি করে জবাব দেওয়ার উসিলায় এই লেখা।
কেন ইন্ডিয়া তারেকের সাথে ক্ষমতার ভাগীদারি ইউনুসের চেয়ে একা তারেক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকুক এটা তাদের জন্য ভাল ফলে কাম্য ভাবছে?  এই প্রশ্নটা এরকমই প্রায় তবে অন্য  নিজভাষায় সাজিয়ে আমার এক পাঠক ফেসবুঝে দিয়েছিল। সেখানে ওর জবাব দিয়েছি। কিন্তু প্রশ্নটা আরও সাধারণের প্রশ্ন হলে কেমন হত সেই কল্পনা করে এই প্রশ্নোত্তর এখানে!
অরিজিনাল প্রশ্নটা ছিল অনেকটা ম্যাথামেটিক্যালঃ তার মানে ভারতের জন্য তারেক+চায়না বেটার দেন ইউনুস+ আমেরিকা? দাদা ভারত ঠিক কি কারনে চায়না থেকে আমেরিকাকে বেশী ঝামেলার মনে করে?

জবাবটা এখান থেকেঃ
বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার আধিপত্যের রুস্তমি চালায় যেতে ইন্ডিয়া মনে করে তার সেসব পাওয়ার স্বর্ণযুগ ছিল ২০০৭-১৬ সাল যা আমেরিকা তাকে তখন দিয়েছিল। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউট নামের এক আমেরিকান থিঙ্কট্যাংকের আয়োজিত ইন্টারনাল সভা থেকে, ২০০৭ সালের জুনের আগে আগে। যেখানে আমেরিকার দিক থেকে উপস্থিত বড়কর্তা ছিলেন (আমাদের ভাষায় যেটা মন্ত্রণালয় সচিব) আন্ডার সেক্রেটারি  R. Nicholas Burns (served until March 2008)।বাংলাদশের দিক থেকে দেখলে, এটাই ২০০৭ সালের ১/১১ বা ১১ জানুয়ারির ক্যু; যেটা ছিল মঈন-ফকরুদ্দিনের  আমেরিকার হয়ে এক ক্ষমতাদখল ঘটিয়ে দেয়া।  এরই পরবর্তি ছয় মাসের মধ্যকার ঘটনা!
এটা ছিল আবার ইন্ডিয়ার দিক থেকে দেখলে, আমেরিকার বাংলাদেশ দখল করে ইন্ডিয়াকে পাইয়ে দেয়া – বাংলাদশের উপর ইন্ডিয়ার এমন মাঙনা কর্তৃত্ব হেজিমনি বা আধিপত্য যার রুস্তমি ইন্ডিয়ার কেউ বাপের জন্মেও চিন্তা করে নাই। তাই এটা এখন ট্রাম্প-২ এর আমলে এসে একেবারেই নাই হয়ে গেলেও কংগ্রেস-বিজেপি সবার কাছেই পুরানা স্মৃতিটা এখনও এমন চির-কাম্য যেন এককালে মামার বাড়ি গিয়ে কিছু খাওয়া যা আজীবন মোচে লেগে আছে এমনই এক সুখ স্বপ্ন-অনুভুতি! যা ইন্ডিয়ার মুরোদে আগে স্বপ্নেও ছিল না।
বাংলাদেশের (পুর্ব-পাকিস্তানের) উপর দিয়ে কখনও নেহেরু-গান্ধিকে করিডোর নিতে হবে এটা তাদের স্বপ্নেও ছিল নাঃ
নেহেরু-গান্ধী কেন (এমন ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের ভাগ মেনে নিছিলেন কোন আওয়াজ ছাড়াই) যেটা ইন্ডিয়ার পুরা নর্থ-ইস্ট জুড়ে [বাংলাদেশের মাথার উপরে একদিকে আসাম থেকে অন্যদিকে নিচে ত্রিপুরা / উপরে নাগাল্যান্ড] একমাত্র শিলিগুড়ির চিকেন নেক দিয়ে বাকি ইন্ডিয়ার সাথে কানেক্ট থাকুক এটাই চেয়েছিলেন এবং এটা মেনে নিয়েই ১৯৪৭ এর ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ভাগাভাগি হয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা নেহেরু-গান্ধি তাদের সারা জীবনে কখনও কোন কথা বলে নাই। ক্ষোভ, আগ্রহ বা চাহিদা প্রকাশ করেন নাই। শিলিগুড়ির চিকেন নেক দিয়েই নর্থ-ইস্ট সংযুক্ত থাকুক ও থাকবে – এনিয়ে তেরে জীবিতক্লে কোন কথাই তুলেন নাই। উলটা করে বললে, বাংলাদেশের উপর দিয়ে ইন্ডিয়ার করিডোর লাগবে না, সেটা কোন কাজে লাগবে?  এমন একটা ধারণা তাদের ছিল। এছাড়াও এরচেয়ে কম চাহিদার, কম পরিচিত আর এক কোনে পড়ে থাকার আসাম-ত্রিপুরার নর্থ-ইস্ট (আনন্দবাজারের ভাষায় শান্তির পিসফুলনেস আসাম-ত্রিপুরার নর্থ-ইস্ট) হলে বরং ভাল; সেটা ভেবেই তো (চিকেন নেক সংযুক্তিই ইন্ডিয়ার জন্য সবচেয়ে ভাল আর সেফ) এটাই চেয়েছিলেন। তাহলে ২০০৭ সালের পরে ইন্ডিয়ার বাংলাদেশের দেশের উপর দিয়েই করিডোর লাগবে, বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর লাগবেই এই চাহিদার ললা বের হচ্ছে কোথা থেকে? এটাই মাঙনা পেলে ডাকাতের আলকাতরাও খেতে চাওয়া।
এটাই এশিয়ায় ইন্ডিয়ার আমেরিকান-প্রিয়তার শুরু!
প্রেসিডেন্ট বুশের সেকেন্ড (২০০৫-৮) টার্ম সেটা।  আর ২০০৭ সালেই প্রেসিডেন্ট (ইনফরমালি) জেনে যায় যে চীন অর্থনৈতিক গ্লোবাল নেতা হিসাবে উঠে আসতেছে। এনিয়ে আমেরিকার নিজস্ব স্টাডির রিপোর্টটা প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৮ সালে। সেখান থেকেই পাল্টা প্রতিকার হিশাবে প্রোগ্রামের  চীন ঠেকানো [Containment of China]। যদিও ঐ রিপোর্টেই সাবধান করা ছিল এই উত্থান ঠেকানোর অযোগ্য [irreversible]। কিন্তু সেকথা কানে না নিয়ে বুশ এগিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আর সেখান থেকেই ইন্ডিয়া আমেরিকাকে এশিয়ায় চীন ঠেকায়ে দিতে সহায়তা হবে চিন্তা করেছিল – আমেরিকার প্রেসিডেন্ট! সেখান থেকেই একটা হাসিনা-পুতুল বসায়ে দিয়ে ইন্ডিয়ার ১৭ বছরের বাংলাদেশ দখল!
কিন্তু আমেরিকা ২০১৬ সাল থেকেই টের পেয়ে যায় যে  ইন্ডিয়াকে এই দেয়াথুয়ায় আমেরিকান কোন লাভ হচ্ছে না। তাই পরের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প-১ এর আমলে ২০১৭ সাল থেকেই ইন্ডিয়াকে আগে দেয়া সকল সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এরচেয়ে বঙ্গোসাগরে আমেরিকান নৌ-উপস্থিতির নিশ্চিত করা ছিল আমেরিকান অনেক পুরান স্বপ্ন, বেশি প্রয়োজনীয় মনে করে আসত সেটা সামনে আসে। যেটা প্রেসিডেন্ট বুশ এতদিন পাশে সরিয়ে রেখেছিল; ২০০৪ সাল থেকেই ইন্ডিয়ার সাথে খাতিরের সম্পর্ক শুরু করে পারমানবিক টেক দেয়া শুরু হয়। ২০০৬ সালে তিনি নিজেই ইন্ডিয়া সফরেও গেছিলেন।  কিন্তু ২০১৬ সালের পর থেকে যেক্ষেত্রে আবার আমেরিকার-ইন্ডিয়ার মধ্যকার সবচেয়ে পুরানা বিবাদ বা চাহিদা-সংঘাত সঙ্গোপনে হাজির হতে থাকে। যদিও উপরে আরেকটা নয়াপর্দা তখনও টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছিল। ইন্ডিয়াও লোভি তো হয়েই ছিল!
তাই বাস্তবে, ২০১৭ সাল থেকে আমেরিকার বাংলাদেশ ইন্ডিয়াকে দিয়ে দেয়া সমর্থন করে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেলেও পরের আরো দশবছর ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজি (IPS) বা কোয়াডের(QUAD) এসব নানান নামে আমেরিকার-ইন্ডিয়ার কেবল স্ট্রাটেজিক সম্পর্ক ধরে রেখেছিল। কিন্তু সেটাও তেমন কোন ফল দিচ্ছে না বলে আমেরিকান মনে করা পারসেপশন শুরু হয়েছিল। কারণ, আমেরিকা এসব স্ট্রাটেজিক সম্পর্ক থেকে একটা সামরিক জোটে এটাকে রুপান্তরের পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছিল। আর তা থেকেই তাল কেটে যাওয়া শুরু হয়। তাই ট্রাম্প আমলে এসে এসব শেষ। উলটা ট্রাম্পের ৫০-১০০% শুল্ক ছাড়া কথা নাই। তবু ইন্ডিয়ার স্বপ্নের পোলাও হয়ে থেকে গেছে সেই ২০০৭-১৬ সালের দিনগুলো যদি ফেরত পাওয়া যেত!!! এর পিছনের বড় কারণ হল ২০১৩ সাল থেকে ইন্ডিয়ার ধরেই নিয়েছিল নীতি-পলিসি সাজিয়ে ফেলেছিল (এমনকি কোন কোন স্কুলে বাচ্চাদের শিখিয়েও ফেলেছিল তাদের প্রধান শত্রু এখন পাকিস্তান নয় চীন) যে  রাইজিং চীনের সাথে ইন্ডিয়ার আর সম্পর্ক-ব্যবসা-ঋণ লাগবে না। তাই এই উলটা প্রকাশ্য বিরোধিতা করত এই ভেবে যে  এটা করে দেখাতে পারলে আমেরিকা খুশি হয়ে আবার যদি ফিরে!!!  সেই কল্পনা-লোভ ইন্ডিয়ার চোখে চকচক করে উঠে! যদি তা কল্পনা মাত্র!
এখনকার বাংলাদেশে ‘আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থ প্রতিনিধির নাম ইউনুসঃ এটা ইন্ডিয়ার জন্য অকল্পনীয়
এখন একালে এসেও যদি সেই আমেরিকা বলতে আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থ প্রতিনিধির নাম ইউনুস হয়যে বাংলাদেশের পরিচালক (আধা ক্ষমতার হলেও) হয়ে ফিরে আসে? যদি বলে আসামসহ ইন্ডিয়ার নর্থ-ইস্টকে বঙ্গোপসাগরে যেতে হলে আমাদের সাথে কথা বলতে হবে; কারণ আমরা বঙ্গোপসাগরের গার্ডিয়ান!!!!
সেক্ষেত্রে স্বভাবতই মোদি এই নয়া ইউনুস ঠেকাতে বলবে বাবা তারেক তুমিই আমার আসল বাবা,তুমিই একমাত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হকদার হয়েই থাকো; আর আমি তো আছিই তোমার সাথে। আর তুমি বললে ত আমি কালকেই হাসিনাকে ইন্ডিয়া থেকে বের করে দিচ্ছি তুমি চিন্তা করো না। আর মনে মনে ইন্ডিয়া নিজেকে বলছে কল্পনা করছে এই আমেরিকান ইউনুস-খলিল যেন বাংলাদেশের ত্রিসীমানায় না দেখি! সেটা কী আল্লাহ দিবে?
তবু কথা শেষ হয় নাই। ইন্ডিয়ার আবার ভয়ও হয় যদি ইউনুসের প্রভাবের সামনে না তারেক পা পারে, ফেল করে, পেরে না উঠে?

এই চিন্তা করে দীনেশ ত্রীবেদীর সার্গিও গরের সাথে দেখা করে একটা অনুরোধ – বাংলাদেশে যাই করেন ওস্তাদ – ইউনুস-খলিলের এই দুজনকে বাংলাদেশের ক্ষমতার সাথে রেখে কোন ব্যবস্থার চিন্তা কইরেন না! আপয়ার দোহাই লাগে…..

গৌতম দাস
রাজনৈতিক বিশ্লেষক
০২ আগষ্ট ২০২৬

 

2 thoughts on “কেন ইন্ডিয়া সাথে ইউনুসের চেয়ে একা তারেক কাম্য ভাবছে?

  1. কেন ইন্ডিয়ার কাছে তারেক- ইউনুসের যুগলবন্দির চেয়ে এক তারেক রহমানই বেশি কাঙ্খিত?

    Like

    1. এককথায় এর জবাবঃ
      ইউনুস আমেরিকান প্রতিনিধি। তাই স্বভাবতই ইউনুসের চেয়ে তারেকের সাথে ডিল করা চেয়ে নেয়া ইন্ডিয়ার জন্য কাম্য হবে

      Like

Leave a comment