মক্কা জোট নিয়ে বাসনা বনাম বাস্তবতা
গৌতম দাস
০৪ সেপ্টে. ২০২৬
https://wp.me/p1sCvy-6C5
এটা আমাদের bdnews24 থেকে নেয়া ছবি। অভিযোগ মোদিকে বাদ দেয়া হয়েছে শাহবাজ শরীফকে মধ্যখানে দেখাতে…..Pakistan crops Modi, Iran’s Pezeshkian from SCO photo to centre Shehbaz
[এটা মক্কা জোট নিয়ে আমার নতুন কোন অবস্থান না, অনেকে কিছু প্রশ্ন রেখেছেন এর ব্যাখ্যা মাত্র! ]
“চাহানা সে হর কৌয়ি আপনা না-হি হোতি” ….
এক্সপেক্ট বা আশা, বাসনা করলেই সেটা নিজের হয় না; যেটা আমার বাসনা তা আমার ইচ্ছা মোতাবেক বাস্তব হয়ে যায় না। স্বপ্ন-কল্পনা মোতাবেক বাস্তবতা হয় না। কোনটা আমরা কামনা মানে এক স্বপ্ন-কল্পনা মাত্র কিন্তু বাস্তব না – এই হুশ হারানো যাবে না!
বুশের ওয়ার অন টেররের যুগটা অন্তত মুসলমানদের কাছে আসলে কী ছিলঃ
ওয়ার অন টেরর এর যুগ মানে ২০০১ সালের শেষের দিকে সারা দুনিয়ার মুসলমানদের উপর পশ্চিমা বিশেষত আমেরিকান রাষ্ট্র এর দিক থেকে যখন চরম নিপীড়ন নেমে এসেছিল – সেটাই এই ওয়ার অন টেরর এর যুগ। আর এটা চলেছিল বলা যায় ২০২১ সালে আগষ্ট পর্যন্ত। এই সময় পর্যন্ত শেষে (২০২১ সালে) আমেরিকান আর্মি আফগানিস্তানে তালেবানদের সাথে চুক্তি করে পরে কোনমতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পালিয়েছিল। মোটামুটি এরপরেই বলা যায় দুনিয়ার মুসলমানদের উপর নির্মম নিপীড়ন ক্রমশ কমতে থাকে, তবু এখন একেবারে চলে গেছে তা বলা যাবে না।
আমেরিকার টুইন টাওয়ারের হামলা বা ৯/১১ এর উসিলায় প্রেসিডেন্ট (জুনিয়র) বুশ এই ওয়ার অন টেরর এর দুনিয়াব্যাপী মুসলমানদের উপর যুদ্ধ-ঘোষণার এক চরম নিপীড়ন এর যাত্রা শুরু করেছিলেন। সব ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে!
ক্রিয়ার বিপরীত ও সমান প্রতিক্রিয়াঃ
এখানেও তার ব্যতিক্রম হয় নাই! আমেরিকার টুইন টাওয়ারে হামলা বা ৯/১১ এর হামলায় যে সরকারি মামলা হয়েছিল তাতে যাদেরকে আসামি করা হয়েছিল তারা মোট মাত্র ১৯জন। যার মধ্যে সম্ভবত একজনও আফগানি নন! তবু আফগানিস্তানেই প্রথম আমেরিকান সেনারা হামলা করে তা দখল করে নিয়েছিল যা বিশ বছর পরে ২০২১ সালে এসে ছেড়ে যায়।
এটা আমেরিকান নানান থিঙ্কট্যাঙ্ক এরই বক্তব্য যে, মামলার ঐ ১৯ আসামিকে দুনিয়ার যেখানে পাওয়া যায় ধরে নিয়ে এসে আমেরিকায় বিচার করলেই ত যথেষ্ট হত। কিন্তু বুশ সেপথে গেলেন না কেন? কেন ৯/১১ কে ওয়ার অন টেরর এর পথে যাবার উসিলা বানালেন? কারণ, এটা আমাদের না বুঝার কিছু নাই যে “টুইন টাওয়ারে” হামলা মূলত তাদের সম্মান শ্রেষ্ঠত্ববোধে আঘাত দিয়েছে। ঠিক তাও না, বরং এভাবে ব্যাখ্যা করে এক মেরুর দুনিয়া শাসন করতে পারবেন এখন থেকে এই লোভ রিপাবলিকানদের মনে গোপন বাসনা হয়ে জেঁকে বসেছিল। এনিয়ে বিস্তারিত পরে কখনও!
সেজন্য ঐ ১৯জনকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসাটাই অনেক যথেষ্ট হতে পারত তা জানলেও কিন্তু বুশ সেটাকে প্রতিহিংসায় দুনিয়াব্যাপী মুসলমানদের উপর যুদ্ধ-ঘোষণার এক চরম বিষাক্ত নিপীড়ন এর যাত্রা শুরু করেছিলেন। যেন সেটা ছিল সমগ্র এথনিক মুসলমান ধর্মীয়-জাত এর বিরুদ্ধে লড়াই। এভাবেই প্রেসিডেন্ট বুশ এই নির্মুলের অপরাধ ঘটিয়েছিলেন। অথচ আমেরিকার নিজস্ব আইন বা কনষ্টিটিশন কোন এথনিক বিভক্তি বা কাউকে এথনিক শত্রুজ্ঞান করা এটা অনুমোদন করে না। অথচ ততদিনে মেজর আমেরিকান জনমত বুশ ততদিনে নিজ নীতির পক্ষে জাগিয়ে ফেলেছিলেন। তাতে আমেরিকান আইন ঐ মামলায় ১৯ জন আসামির বাইরে বিশতম ব্যক্তিকে হত্যা বা বিচারের অনুমোদন দেয় না- তা সত্য হলেও।
কোন ক্রিয়া যতই ‘জ্ঞানবুদ্ধি-হীন’ যথেষ্ট ‘সাফাই-যুক্তিহীন’ হয় তাতে বিপরীত এর চরমতম প্রতিক্রিয়াও সে রকমই হয়। মূল কারণ কোন হিতাহিত জ্ঞান শুন্য হয়ে সমগ্র মানবজাতির স্বার্থ উপেক্ষা করে কেবল একটা এথনিক-ধর্মীয় গোষ্ঠিকে নির্মুল-উতখাতের পরিণতি কী হয় তা একেবারেই বিবেচনা না নলে তো এমনই হবে।
আমরা খুব ভাল করেই চিনি এই “এথনিক নির্মুল” শব্দের অর্থ ও পরিণতি কেমন হয়; শাহরিয়ার কবির এখনও আইসিটি কোর্টে পেটে বেল্ট বেধে আসা-যাওয়া করতেছে! সম্ভবত স্বাভাবিক মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এটাই তাকে করে যেতে হবে। তাঁর প্রায়শ্চিত্ত হয়ত এভাবেই বেঁচে থাকা অবস্থায় সম্পন্ন হবে! জাতিসংঘের আইসিসি কোর্টও তাই “এথনিক নির্মুল” বা “এথনিক ক্লিনজিং (ethnic cleansing) বা বাংলা করে বললে, একটা এথনিক মানবগোষ্ঠিকে মুছে ফেলা বা ফেলার চেষ্টা – এই অপরাধকে সর্বোচ্চ শাস্তির অপরাধ গণ্য করেছে। এর মূল কারণ, নির্মুলের ধারণাটা খুবই ছোঁয়াচে। কোন একটা এথনিক গোষ্ঠিকে নির্মুল করার চেষ্টা মানে আত্মরক্ষায় সেও আপনাকে নির্মুল করে বাঁচবার চেষ্টাই করবে। আর একবার যদি এই পরস্পরকে নির্মুল করা শুরু করে দেই তবে এটা দুনিয়াতে আর কোন এথনিক গোষ্ঠি বেঁচে থাকবে না! এমন অবস্থায় দুনিয়া চলে যেতে পারে! আল্লাহর দুনিয়ায় ‘মানব প্রজাতি (human species)’ বলে কিছু আর বেঁচে থাকবে না! এটা এতই ভয়ংকর আর তাই এতই ছোঁয়াচে উস্কানি! কারণ, সোজা যে যুক্তিটা প্রথমে মানুষের মাথায় কাজ করে যে আমাকে আমার প্রজাতি (এখানে ধর্মীয় এথনিক জাতকে) নির্মুল করতে আসবে আমার তো তাকেই নির্মুল করা ছাড়া রাস্তা নাই। এমনটাই মাথায় আসে। সাথে এটা ভুলে গিয়ে যে এই উস্কানি ভীষণ ছোঁয়াচে যার পরিণতি হবে আল্লাহর দুনিয়ায় ‘মানব প্রজাতি (human species)’ বলে কিছু-কেউ আর বেঁচে থাকবে না! কিন্তু একথা মাথা ঠান্ডা হলে তবেই না চিন্তার সুযোগ আসবে! মানে এখনই আমাকে কেউ তাড়া করছে না একটু সাময়িক বিরতি পেলে তখন চিন্তা করলে হয়ত বুঝা যেতে পারে। কিন্তু সব অঘটন এর আগে শেষ হয়ে যেতে পারে!
এই হয়ত-টা ঘটে নাই। আমরাও এর প্রতিকার হিসাবে, এক মুসলমানের দুনিয়া বা কেবল মুসলমানের দুনিয়া কায়েম করা ছাড়া অন্য কোন দুনিয়ার কল্পনা আর আমাদের মাথায় কাজ করে নাই।
এই বোধ এখনও আমাদের মাথায় কাজ করে তবে সময়ে সময়ে, বিশেষ করে যখন আমাদেরকে যে কোন ‘অনিরাপদ-বোধ’ এই চিন্তা আমাদের চিন্তিত করে ফেলতে পারলে! মাথায় আসলেই এমনটা হয়! এলেই আমাদেরও মনে হতে থাকে – “কেবল এক মুসলমানের দুনিয়া কায়েম করা ছাড়া” আমাদের নিরাপত্তা কোথাও নাই। আমি মুসলমান – মুসলমান হিসাবে এই বাস্তব দুনিয়াটায় আমি নিরাপদ না – এই বোধ আমাদেরকেও একইভাবে ভাবায় এভাবে যে – আমাদের এনিমি হয়ে যে দাড়ায় তাকেই ঐ একইভাবে নির্মুল করা ছাড়া আমাদের ত বাচোয়া নাই এমন উপায়ের দিকে যেতে সাফাই মনে যোগাতে থাকে – উপযুক্ত পরিবেশ পেলে যা হয়ত আরও বড়ও হয়ে যেতে পারে! আর সেসময় মাথা ঠান্ডা না থাকলে আল্লাহর বিধানের কথাও মাথায় কাজ করে না!
মক্কা নিরাপত্তা জোট গঠনঃ
সাম্প্রতিক মক্কা নিরাপত্তা জোট (The Mecca Joint Defence Agreement is a) গঠন – এটা (সংক্ষেপে “মক্কা জোট” বলব এখানে) আমাদেরকে এসব একটু পিছনে ফেলা স্মৃতি আবার জাগিয়েছে।
তবে আসলে ঠিক এটাই না, আরো একটা মুল বা প্রধান দিক আছে। সেটা হল, এই মক্কা জোটের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান অপ্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া। ইন্ডিয়ান ভয়ের প্রসঙ্গ পরে আসতেছি।
বাংলাদেশের মানুষের কাছে আসলে মূল বিষয় ঠিক ‘মক্কা জোট’ না; এটা পরে এসেছে। আমাদেরকে প্রথম যা উস্কানি দিয়েছে বিশেষ করে আবার মুসলমান হিসাবে নিজের ভিতরে যা ‘অনিরাপদবোধ’ জাগিয়েছে সেটা হল ইন্ডিয়া; ইন্ডিয়ান বিবৃতির প্রতিক্রিয়া। আমরা আবার এমন চিন্তায়ও (যারা কম চিন্তায় অভ্যস্ত) অভ্যস্ত যে যা ইন্ডিয়া আমাদের বিরুদ্ধে বলে বা আমাদের জন্য খারাপ বলে প্রতিক্রিয়া / হুমকি দেয় সেটাই আমাদের জন্য সঠিক ও ভাল! তাই মক্কা জোট নিয়ে ইন্ডিয়ার এই বিরোধী-বিবৃতি এটাই আমাদের প্রথমে ‘পুরানা’ “অনিরাপদবোধ” আবার জাগিয়েছে। আর সেখান থেকেই প্রতিকার হিসাবে আমরা চোখ-বন্ধ করে ‘মক্কা জোটই’ আমাদের এখনকার একমাত্র চাওয়া বলে আমাদেরকে চরমে প্রভাবিত করেছে। বলে আমার অনুমান!
এই অবস্থায় ব্যক্তি হিসাবে আমার অনুভব হল যে কেন এমনচিন্তা ভুল বা সঠিক তা শুনবার অবস্থায় (চিন্তা করার সুযোগ সুস্থিরতা এরপরের অবস্থা) আমরা কোন কারণে যখন থাকি না তখনই এসব ঘটে। তাই এনিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কোন নতুন কথা আমি এখন বলব না; সমীচিন না বা সময় ঠিক না বলে আমি বুঝেছি।
একটা কথা আমরা নিশ্চিত করে মনে রাখতে পারিঃ
আমার বিচারে আমাদের আম-প্রতিক্রিয়ার শুরুটা ইন্ডিয়ার এই শয়তানি থেকে; মিথ্যা ভয় দেখানে থেকে। তাই এনিয়ে দুইটা বাক্য বলব।
ইন্ডিয়া আজ অথবা আগামি অন্তত ২০-২৫ বছর বাংলাদেশে সামরিক আক্রমণ ধরণের যেকোন কিছু করার কথা চিন্তাও করবে না; আমি বলতে চাই ইন্ডিয়া সাহসই করবে না। কেন?
কারণ, বাংলাদেশের সাথে চীনের আগেই কোন সামরিক চুক্তি থেকে থাক আর নাই থাক – ইন্ডিয়ান আক্রমণের পরিস্থিতিতে এর বিরুদ্ধে আমাদের পক্ষে যেদেশ সবার আগে আগায় আসবে সেটা হবে চীন। এবং সেটা কোন দয়া করে না। চীনের নিজস্ব যুদ্ধকৌশলগত (স্ট্রাটেজিক) মৌলিক (core)স্বার্থ এটাই – সেজন্য। বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান কবলে চলে গেলে চীনের ক্ষতি কো অংশে কম হবে না! তাতে সেক্ষেত্রে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের রক্ষায় চীনা – যেদিন থেকে যুদ্ধে নেমে যাবে সরাসরি অথবা প্রক্সি যুদ্ধে – এর ভিতরেই কবে যে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে এক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গেছে যা জানা যাবে হয়ত পরে। এছাড়া চীনের স্ট্রাটেজিক এক নাম্বার পার্টনার রাশিয়ার মাধ্যমে যখন মোদিকে আত্মঘাতি না হতে, বিরত থাকতে বার্তা যাবে আমার মনে হয় এটাই মোদির হুশ আনার জন্য যথেষ্ট হয়ে যেতে পারে।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত Shanghai Cooperation Organisation (SCO) এর সম্মেলনঃ
একটা তথ্য এখানে যোগ করি। Shanghai Cooperation Organisation (SCO) নিয়ে। এই জোট যা ২০০১ সালে মাত্র ৫ দেশীয় জোট শুরুতে ছিল; চীন-রাশিয়া আর সেন্ট্রাল এশিয়ার ৩ দেশ এভাবে চীন, রাশিয়া আর কিরগিজস্তান, কাজাখস্তান, তাজিখস্তান, মোট মাত্র পাঁচ দেশ ফলে এটাকে অনেকে সাংহাই ফাইভ বলেও ডাকত। পরে উজবেকিস্তান যোগ হয়। এমনকি সেকালে আমেরিকাও এটা প্রচ্ছন্নে সমর্থন করেছিল। পরবর্তিকালে এখন ইরান, ইন্ডিয়া পাকিস্তান আর বেলারুশ সহ মোট সদস্য ১০ রাষ্ট্রের SCO। গত সপ্তাহে কিরগিজস্তান এর রাজধানি বিশকেক এ SCO এর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল।( 2026 Bishkek SCO summit, (31 August to 1 September 2026 in Bishkek, Kyrgyzstan.)
আর এই SCO জোটকেই তাদের এবারের সম্মেলন থেকেই এটা যেকোন পশ্চিমা জোটের পালটা কেন্দ্র বলা হয়েছে। দেখেন;
SCO challenges West as diverse group of nations pursues multipolar future
এমনকি তুরস্কও সেভাবে দেখে। আর এই সম্মেলন থেকেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আমাদের মূল সমস্যা ইরানের উপর আগ্রাসন। আমার দেশ লিখেছে, (এটা অনেকেই কোট করে আমাকে পাঠিয়েছে তাই) “ শাহবাজ শরীফ বলেন, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অন্যতম সদস্য ইরান চলতি বছরের শুরুতে হামলার শিকার হয় এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘিত হয়”। তাহলে ইরান এই হামলার শিকার হয় কার হাতে? যেটাতে ইরানের “সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘিত” হয়েছে বলে মনে করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী!
না, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই কথা আমার মুখ্য পয়েন্ট নয়। বরং আসেন প্রশ্ন করেন যে, বিশকেক এর এবারের SCO সম্মেলনে মোদি কেন যোগ দিলেন? এককথায় জবাব বাধ্য হয়েছেন। এমনকি উপরে যে শাহবাজ শরীফের বক্তব্যের কথা বললাম সেটা স্টেজে সবাইকে (উপস্থিত মোদিসহ) সামনে রেখেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বলা কথা।
আসলে মোদি বড় শত্রু হল মক্কা জোটঃ
আসলে মোদি বড় শত্রু হল মক্কা জোট। কিন্তু সবাই যেটা ধরে নিয়েছেন যে এটা মুসলমানদের জোট সেজন্য! এই অনুমান, এই অংশটা ভিত্তিহীন! এর প্রথম কারণ হল,
১. মক্কা জোট মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি থেকে উতপত্তি বা জাত। এর বাস্তবায়ক ইসলামি দেশগুলো হলেও ইন্ডিয়ান উদ্বেগ ঠিক সেটা না, অন্তত এখানে।
২. ইন্ডিয়ার উদ্বেগের প্রধান কারণ এতে পাকিস্তান আমেরিকার বন্ধু তো ছিলই এখান আরো প্রো-আমেরিকান ইসলামি দেশের দ্বারা সমর্থিত হল পাকিস্তান। এর উপর পাশে তুরস্ক। তুরস্ককে ইন্ডিয়া শত্রু জ্ঞান করে ঠিক মুসলমান দেশ বলে না বরং এই তুরস্ক আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির অনুসারি – মার্কিন বোমারু উড়োজাহাজের অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ উতপাদনকারী! ফলে এই ‘পাকিস্তানের’ কাছে ইন্ডিয়া মৃতপ্রায় তুচ্ছ ত বটেই!
৩. তামাশার কথাটা হল, মোদি নিজে কী উপরের কথাওগুলো জানে না? অবশ্যই জানেন। কিন্তু তাহলে এবার বুঝেন সেই মোদির ইন্ডিয়া তাহলে এসময়ে SCO সম্মেলনে গিয়ে আশ্রয় খুঁজতে হয়েছে কেন?
৪. কারণ নাহলে আরো কঠিন শত্রু আমেরিকার পাল্লায় (যে তুরস্ক, পাকিস্তানকে সমর্থন করে) পড়তে হবে। মূল কারণ, মোদির ইন্ডিয়া এখন নিশ্চিত যে আমেরিকা আর কখনো ইন্ডিয়ার পক্ষে না আসুক অন্তত ইন্ডিয়াকে আমেরিকা নিজ কৌশলগত মিত্রের মর্যাদা দেক – এটাই দুরস্ত হয়ে গেছে। কখনও দুনিয়া আর এমন দিন ফিরবে না! কারণ, ট্রাম্প পরিস্কার যে মোদিকে তাঁর আর একেবারেই দরকার নাই। অতএব, তুলনায় SCO জোট মোদিকে যতটুকু নিরাপত্তা দিতে পারে (রাশিয়া আছে সেখানে বলে) ততটুকুই মোদির ভরসা। তাতে মোদিকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সাথে সাইড লাইনে ওয়ান-টু-ওয়ান মিডিয়ার সামনে কথা বলতে হলেও মোদি নিরুপায়। একইভাবে নিরুপায় একই সম্মেলন মোদিকে দেখতে হচ্ছে, শাহবাজ শরীফ গলা তুলে ইরানকে সমর্থন করে দেখিয়ে দিচ্ছে যে পাকিস্তানকে ট্রাম্প সমর্থন করে তা সত্বেও পাকিস্তান এমন গলা তুলতে পারে! মোদি কত ক্ষুদ্র এক প্রধানমন্ত্রী এটা প্রকাশ হয়ে পড়া সত্বেও ইন্ডিয়াকে SCO সম্মেলনে যেতে হয়েছে! ওথচ আমরা উলটা ইন্ডিয়াকেই তার বিবৃতি দেখে ভয় পাচ্ছি! মনে রাখতে হবে ইন্ডিয়া পাকিস্তানের চেয়েও তুরস্ককে বেশি ভয় পায় বেশি ও বড় নিজ শত্রুজ্ঞান করে কারণ, তুরস্ক পাকিস্তানের চেয়েও অনেক বেশি ট্রাম্পের ফরেনপলিসি ঘনিষ্ট!
কেন ঢাকার ইরানি রাষ্ট্রদুত এমন কথা বলছেনঃ
যুদ্ধের ব্যয়ে একেবারেই দিশাহারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প! সে চায় সৌদির মত ন্মধ্যপ্রাচ্যের দেশ তাকে এই যুদ্ধ ব্যয়ের দায়ীত্ব কিছু অন্তত শেয়ার করুক। আমেরিকার দিক থেকে এটাই মক্কা চুক্তি তাদের চোখে! সেখান থেকে মক্কা জোটকে
সৌদিদের সাহায্যে ট্রাম্প দেখাতে চায়, এই আওয়াজ উঠাতে চায় যে, ইরান মুসলমানদের কেউ না। কারণ তারা মূলত শিয়া! এখন এই পরিস্থতিতে ইরানি রাষ্ট্রদুত তো বলতে পারে না যে হা আমরা সৌদিদেরকে শত্রু মনে করি। এতে তো ট্রাম্পই জিতে যাবেন। তাই তিনি কৌশলে মনে করিয়ে দিচ্ছেন – ইরান তো সৌদিতে আমেরিকান ঘাটি যেখানে এর বাইরের কোন সৌদি ভুমিতে তো আঘাত করে নাই। মানে আমেরিকা যেখান থেকে গোলা ছুড়তেছে সেই ভুখন্ড অংশটাই কেবল ইরান শত্রু বিবেচনা করে। অর্থাৎ মূল সৌদি আরব ইরানের কোন শত্রুই নয়! অর্থাত ইরানি রাষ্ট্রদুত (আমার জানামতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সুন্নি এবং একাদেমিক) এর অবস্থান দাড়ালো যে, “ আমরা মক্কা চুক্তির বিরোধী না (তবে সেটা এই অর্থে যে এই মক্কা চুক্তি যেন ট্রাম্পের ফরেন পলিসি থেকে উতপন্ন নয় ফলে সম্পর্ক নাই এমন মনে করা হোক)। অর্থাৎ এক জবর কূটনৈতিক পরিভাষায় তিনি ইরানের অবস্থান তুলে ধরছেন ঐ SCO সম্মেলনে!
শেষে খুব ছোট করে তারেক সরকারের মানে খলিলের অবস্থান নিয়েঃ
গত প্রায় দুবছর ধরে খলিল-ইউনুসের অবস্থান প্রতিটা ক্ষেত্রে আমেরিকান বা ট্রাম্পের ফরেন-পলিসির অনুগত। অর্থাৎ আমেরিকান ফরেন পলিসির বাইরে তাদের কোন মতামত নাই। অর্থাৎ ট্রাম্পের সাথে একই অবস্থানে। এখন যেকোন বুঝ থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেকেও আবার এটা মেনে নিয়েছেন; খুব সম্ভবত তাঁর ‘ভারসাম্য’ প্রীতি (ঠিক যেমন ভারসাম্যের পট্টি পরিয়ে বোয়িং কেনানো হয়েছে) এই ভয় নাকি বেকুবি মানে ঐ যে বলে না – বনের বাঘ না মনের বাঘই মানুষকে খায় – এই সুত্রে – খলিল এই সুবিধাটা ফিক্সড করে গেছে তারেকের মনে গেথে দিয়ে। যেটা এখন তাই হুমায়ন কবিরের প্রকাশ্য অবস্থান। আর এই সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের উসিলায় আমেরিকায় গেলে দুমিনিটের জন্য ট্রাম্প দেখা দিলে তো তারেক জাত-নেতা হবে এমন লোভও খলিল পেশ করেছে বলে জানি!
এখানেই শেষ করবঃ তাহলে শত্রু কে?
কেবল একটাই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে বলব আমার পাঠকদেরকে তাতে বাংলাদেশের আম-মানুষ যার যে অবস্থানই থাকুক। আপনারা যেকারণেই মক্কা চুক্তিকে সম্পর্থন করেন না কেন একবার নিজেকেই জিজ্ঞাসা করে নিবেন তাহলে, আপনার বুঝাবুঝিতে মক্কা চুক্তির শত্রু টা কে? মানে এনিমি টা কে? দয়া করে শত্রু তাহলে কে হল – এটা নিশ্চিত না জেনে বা না হয়ে শুধু আপনি মক্কা চুক্তির পক্ষে (হয়ত তা ইন্ডিয়ার ভয়ে) এই অবস্থান তো অর্থহীন হবে! এটা মনে রাখবেন! ইরানসহ সবাই যদি মক্কা চুক্তির পক্ষে যায় তাহলে শত্রুটাকে? এর জবাব আমাকে দিবার দরকার নাই, নিজেই নিজেকে সন্তুষ্ট করতে পারে এমন জবাব দিয়ে রেখেন।
গৌতম দাস
রাজনৈতিক বিশ্লেষক
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

