মোদি-চন্দ্রচূড়ের আদালত কী বাংলাদেশের জন্য ‘মডেল’ প্রশিক্ষক হতে চায়?


মোদি-চন্দ্রচূড়ের আদালত কী বাংলাদেশের জন্য ‘মডেল’ প্রশিক্ষক হতে চায়?
গৌতম দাস
০৩ মার্চ ২০২৪  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৫৭
https://wp.me/p1sCvy-5sa

 

 

 

একটা অন্যায়-অপরাধের প্রতিকার বলতে আরেকটা অন্যায় করা নয়! কিন্তু মানুষের জিঘাংসা এতই তীব্র, সে প্রতিহিংসার আগুনে এতই সাইকো যে মানুষ সে পথেই যায়!
আর নিজের করা বর্তমানের অন্যায়-অপরাধের সাফাই হিসাবে সে আগে তার উপরে ঘটা অন্যায়-অপরাধকে হাজির করে!  তাতে কিছুই মুছে না, দুটাই অন্যায়-ই হয়ে জ্বল জ্বলে থেকে যায়!

গত সপ্তাহে ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আয়োজিত ঢাকার এক অনুষ্ঠানে ভারতের সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশোবন্ত চন্দ্রচূড়-কে [CJI  D. Y. CHANDRACHUD]  দাওয়াত দিয়ে আনা হয়েছিল। অফিসিয়াল দাওয়াত কার্ডের লেখা অনুসারে ব্যাপারটা ছিল – “The supreme Court of Bangladesh is going to organize an international conference on “South Asian Constitutional Court in The Twenty-First Century: Lessons from Bangladesh and India” on 23 & 24 February 2024. The valedictory scession of the conference will be held on 24 February 2024, at 10:00AM at the Bangabandhu International Conference center (BICC). – এরকম।
মানে হল এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন করা হয়েছে; যদিও এতে অংশগ্রহণকারী কেবল ভারত ও বাংলাদেশ। আবার বলা হয়েছে, এটা দক্ষিণ এশিয়ার কনষ্টিটিউশনাল কোর্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলাপ; যেখানে আবার কেবল ভারত আর বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা-পাঠ [lessions] নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু ঘটনা হল, দক্ষিণ-এশিয়া বলতে কেবল ভারত-বাংলাদেশই বুঝায় না। এভাবে ভারত কখনই তার দক্ষিণ-এশিয়ার ধারণা বাস্তবের সাথে মিলাতে না পারলেও একই কান্ড করে থাকে! আসলে ঘটেছে যেটা ভারতের মিথ্যা আধিপত্যের খপ্পরে পড়েছে বাংলাদেশ! আর সেটা ঢাকতেই এটা “দক্ষিণ-এশিয়ার ব্যাপার” বলে নোংরামি ঢেকে রাখার ভারতের এই অক্ষম প্রচেষ্টা!

 

অনুষ্ঠানের আরো দৃষ্টিকটু দিকঃ
ঘটনার আরো সব মারাত্মক দিক আছে। সবচেয়ে দৃষ্টিকটু হল, একটা জুডিশিয়ারি ক্ষমতা তা যেন এক্সিকিউটিভ (বা প্রধানমন্ত্রীর) ক্ষমতার অধীনে আছে ও থাকতে হবে এই অনুমানে দাঁড়িয়ে সবকিছু আয়োজন করা হয়েছে। কোন রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী বিভাগের অধীনে থাকে না। রাখা যায় না। বিচার বিভাগ জনপ্রশাসন বিভাগের মত নির্বাহি-প্রধানমন্ত্রীর অধীনের কোন প্রতিষ্ঠান নয়, পুলিশ বা সামরিক বিভাগের মতও নয় যে এসব অফিস বা বিভাগের মত বিচার বিভাগও প্রধানমন্ত্রীর অধীনের কোন সরকারি অফিস-প্রতিষ্ঠান নয়। তাহলে এটা আর রিপাবলিক রাষ্ট্র থাকে না! জনগণই ঐ প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার উতস  তা আর কার্যত থাকে না!
সেপারেশন অব পাওয়ার” বা বিচার বিভাগকে প্রধানমন্ত্রী (বা রাজার) নির্বাহী ক্ষমতা থেকে বিচ্ছিন্ন বা আলাদা করার কনসেপ্ট এটা ইউরোপে রাজতন্ত্রের আমল থেকেই চালু এক পজিটিভ ধারণা। অর্থাৎ পরবর্তিতে জনগণই সব শাসন ক্ষমতার উতস – যেটাকে ঐ শাসন ক্ষমতার উতস কোন রাজা-বাদশা নয়; তাদের ডায়নেস্টির বংশ-পরম্পরা বা রাজার ছেলে রাজাও আর নয় এমন নয়া এই রিপাবলিক রাষ্ট্র ধারণার মুলকথা চালু হয়েছিল। বলা হয় যা রাজতন্ত্র ব্যবস্থাকে নির্মুল করে ক্ষমতা নিয়েছিল – সেই রিপাবলিক রাষ্ট্র ধারণা আসার আগেই এটা চালু হয়েছিল যে বিচার বিভাগকে রাজার (বা পরে সমতুল্য নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর) ক্ষমতা থেকে  আলাদা বা সেপারেট করতেই হবে। নইলে বিচার করা অর্থহীন। নির্বাহী ক্ষমতার শাসকের মুখ চেয়ে যে রায় দেয়া হয় ওটা বিচার নয়!

তাই একালে রিপাবলিক নামে এক বাংলাদেশ রাষ্ট্র বা জনগণের শাসনের নামে কিছু একটা চালু আছে আমরা দেখছি  অথচ কিছু লোক মনে করছে যেন বিচার বিভাগও সর্বময় ক্ষমতার প্রধানমন্ত্রীর বাইরে থাকে কী করে?? অধীনেই তো থাকা উচিত! বিএনপি-জামাত জঙ্গীবাদ ঠেকাতে নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই বিচার বিভাগ গড়তে হবে যারা সহি মনে করছেন এটা তাঁরা গড়ে তুললে সেটা প্রধানমন্ত্রীর মুখ চেয়ে বিচার ও রায় দিবার এক বিচার বিভাগই হবে! এর বাইরে কিছু হবার সুযোগ নাই! এমনিতেই যেটা নিয়ে সরকার-বিরোধী যেকোন নাগরিকের ইতোমধ্যেও অভিযোগ করে আসছে। আমাদের বিচার বিভাগকেই ঢেলে সাজাতে হবে বলে মনে করে এমন অভিযোগকারিরা! সেখানে সুপ্রীম কোর্ট আয়োজিত এই কনফারেন্স আসলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগকেই পুষ্ট করল!

এই আয়োজনে দৃষ্টিকটু ঘটনার শেষ নাই। যেমন প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি করে আনা হয়েছে। অথচ ব্যাপারটা মূলত দুদেশের সুপ্রীম কোর্টের এক অনুষ্ঠান মাত্র।  কোর্ট যেকোন নির্বাহী (প্রধানমন্ত্রীর) ক্ষমতা থেকে দুরে বা আলাদা থাকবে সেটাই স্বাভাবিক হত। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে তারা এনেছে হয়ত সেটা বড় সমস্যা হত না যদি নিজ পরিমিতবোধে প্রেসিডেন্ট – তিনিও কোন রাজনৈতিক বক্তব্য আনছেন না বা এড়িয়ে গেছেন। এরপর থেমে যাওয়া উচিত ছিল।  কারণ, কোন চীফ জাস্টিস প্রধানমন্ত্রীর সাথে এক আসরে হাজির থাকেন না – খুবই সীমিত ও নির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিকতার আসর ছাড়া!  প্রধানমন্ত্রী আর বিচার বিভাগের ক্ষমতা আলাদা – এটা সব জায়গাতেই প্রতিষ্ঠিত রাখতেই হয়!

পুর্ব-সংস্কার বা প্রিযুডিস [prejudes]
সেপারেশনের ইস্যুটা ছাড়াও আরেকটা বিরাট বিবেচনা নিয়ে বিচারকদের চলতেই হয়, মানতেই হয়। সেটা হল – পুর্ব-সংস্কার বা প্রিযুডিস [pre-judes]। বিচারক সকালে উঠে বাসায় নাস্তার টেবিলে এক ঘনিষ্ট আত্মীয়,বন্ধু বা হয়ত নিজ স্ত্রীর মুখে মন্তব্য শুনলেন যে আজ এজলাসে যে কেসের শুনানী তিনি শুনবেন সেই আসামীই আসল বা মূল খুনী অপরাধী – এধরণের একটা মন্তব্য!  কিন্তু বিচারকের কাজ হচ্ছে কোন কারও কানকথা না শুনা, কানেই না আসে সে ব্যবস্থা করা! আর এজলাসে বসে কেস ডকুমেন্ট আর শুনানীতে বাদী-বিবাদির উকিল কী তথ্য আর যুক্তি তুলছেন কেবল সেসবের ভিত্তিতে আসামী সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা। যেটা একমাত্র এজলাসেই তৈরি হয়, শুনতে শুনতে জন্মায়। কাজের সকালে বাসায় যদি কিছু শুনেছেন আর এতে তার মন যেভাবে প্রভাবিত হয়েছে – এটাই প্রিযুডিস বা পুর্ব-সংস্কার বলা হবে। এককথায় সেটা আসলে এজলাসে-বিচারে বসার আগেই প্রভাবিত হয়ে বিচার করে ফেলার অবস্থায় নিতে পারে বিচারককে!  একজন বিচারকের জন্য প্রিযুডিস তাই সবচেয়ে বড় অপরাধের কাজ মনে করা হয়!
বিচারকেরা তাই নিজ জীবন সাজান যেন প্রিযুডিস এড়ানো জীবনাচার হয় নিজের! এজন্য সামাজিক-পারিবারিক নিজ জীবন তিনি নিয়ন্ত্রিত করেন। সবার দাওয়াতে তিনি যান না, সব সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেন না; খুবই ঘনিষ্টজনেরটা ছাড়া! যাতে আবার কোন ব্যক্তিগত আলাপে তিনি জেনে বা না-জেনে যেন কারো দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে যান! এভাবে সতর্কতা নিতে হয় তাঁকে! কাজেই প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা-সাক্ষাত সেটা তো অনেক দুরের যেখানে নিজ সব আত্মীয়স্বজন বন্ধুর সাথেও কোন বিচারকের ততটা মেলামিশার কথাই না!

অথচ এখানে হয়েছে উলটা প্রধানমন্ত্রীকেই এখানে চীফ গেষ্ট করা হয়েছিল। আর প্রধানমন্ত্রী প্রায় ত্রিশ মিনিটের বক্তৃতার পুরাটাই ছিল রাজনৈতিক বক্তব্য! আমাদের বিটিভির রেকর্ডেড এই বক্তৃতা ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে। এটা পুরা অনুষ্ঠানেরই ভিডিও প্রায় দুই ঘন্টার বেশি; এর মধ্যে ১ঃ৪৪ মানে একঘন্টা ৪৪ মি এর পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শুরু হয়েছে।
ওদিকে আরেক বড় অস্বস্তিকর ব্যাপার হল, এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে বলা হয়েছে সমাপনী বক্তা অতিথি [valedictory scession]। এটা সকাল দশটায় শুরু হলেও এটাই সমাপনি অনুষ্ঠান নয়। কারন, ঐদিনই বিকালে তিনটা থেকে ২৪ তারিখেওর আলোচনা অনুষ্ঠান হয়েছে।

এই অনুষ্ঠানের আয়োজন কেন? মূল উদ্দেশ্য কী?
এর জবাবটা হাসিনার দিক থেকে দেখে বললে মানে, হাসিনার আধাঘন্টার বক্তৃতার দিকে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলে যা পাওয়া যায় তা হল, এদিনটা আসলে ছিল হাসিনার ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর থেকে এপর্যন্ত তিনি কী কী অর্জন করেছে এর একটা তালিকা হাজির করা আর এসবের জন্য ভারতের সরকার সেনাবাহিনী সহ ভারতের ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান প্রায় সবাইকেই ধন্যবাদ জানানো। এর ভিতরে আবার ভারতের হাসিনাকে ছয় বছর আশ্রয় দেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। এর সাথে হাসিনার ভাষায় বিচার বিভাগ যেভাবে   নিয়ন্ত্রিত ভাবে আচরণ করে ১৯৭৫ সালের আগষ্টের পর থেকে বখে গেছিল একে তিনি এবার শুদ্ধ করে নিজের মত করে সাজিয়েছেন – এই অর্জনকে ভারতের সামনে তুলে ধরতে চেয়েই যেন এই কনফারেন্স আয়োজন করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে!
এই হল, হাসিনার আধাঘন্টার বক্তৃতার সারকথা!
কিন্তু প্রধান বিচারপতি  চন্দ্রচূড় এর কিছু মন্তব্য সব আউলায়ে দিয়েছে।  কিন্তু এরও আগে, চন্দ্রচুড়  আবার এই কনফারেন্স সম্পর্কে হাসিনার নিজ ভাষ্যকে পাশ কাটিয়ে নিজ ভাষ্য খাড়া করেছেন।

কনফারেন্সের দাওয়াতপত্রের ভাষ্য ভারতেরঃ
কেন ভারতের পুরা বিচার বিভাগ না হলেও এর মাথা সুপ্রীম কোর্ট এমন কনফারেন্সে যোগ দিল – এনিয়ে তাদের মনেও অস্বস্তি ছিল তা বুঝা যাচ্ছিল। যেমন, হাসিনার সাথে ভারতের বিচার বিভাগের লেনা-দেনা কী? আমাদের বিচার বিভাগের যেকারণে আমাদের নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ট হওয়া অস্বস্তিকর কারণ তাদেরকে নির্বাহী ক্ষমতা থেকে সেপারেশনে দূরে থাকাটাই একমাত্র স্বাভাবিক! বাকিটা অস্বাভাবিক!! তাহলে ঠিক একই যুক্তিতে ভারতের সুপ্রীম কোর্টও তাই অস্বাভাবিক কিছু করেছে???  তাদেরও কোন লেনা-দেখা থাকতেই পারে না। এছাড়া ভারত ও বাংলাদেশ এদুই সুপ্রীম কোর্ট কী একাদেমিক-টেকনিক্যাল বৈশিষ্ঠের কোন কনফারেন্সে মত্ত হয়েছিল? জবাব হল যে একেবারেই না। কারণ তাহলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাদের কোন কাজ থাকার কথা না ??

তাই এই অস্বাভাবিক দিক, এদিকটা সাফাই দিতেই চন্দ্রচুড় এন্ড গং বিচারপতিরা তার সঙ্গি হয়ে এসেছেন – অনুমান করা যায় তারা অনুষ্ঠান সুচির পাতার শুরুতেই ১০-১২ লাইনের কিছু বক্তব্য ঢুকানো দেখে। নিচে তেমনই পাতাটা দেখেন।

এককথায় বললে এটা ভারতের জুড়িশিয়াল পেশাদারদের কিছু অপ্রয়োজনীয় আতলামী ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের ভারত যেন এশিয়ায় না হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় বিচারীয় বিষয়ের বিরাট কুতুব এক অথরিটি!  এমন আগাম অনুমান ধরে নিয়ে তারা কথা বলেছে! যেমন বাক্যের প্রথমেই একটা শব্দ ব্যবহার করেছে পোস্ট-কলোনিয়াল। অনেকে আবার  পোস্ট-কলোনিয়াল শব্দটা কাউকে ব্যবহার করতে দেখলে এটা যেন বক্তার বিরাট এক জ্ঞানের বহরের প্রকাশ ভেবে মাথা নিচা করে সালাম-আনুগত্য জানাতে-বুঝাতে চায়।  অথচ এই ভাষ্যের সারকথা হল, ১৯৪৫ সালের আগের পশ্চিমাবিশ্বের অভিজ্ঞতা পরের কলোনিমুক্ত দেশে যেন আর অত কাজের না। তাই লিখেছে  – where constitutional borrowing has occured in the region rather than from europe & America. -মানে হল  পোস্ট কলোনিয়াল সময়ে ইউরোপ ও আমেরিকার চেয়ে আমাদের এই রিজিয়নে [মানে যার একছত্র নেতা হল ভারত বলে বক্তার ভুয়া অনুমান] আমাদের নিজেদের মধ্যকার অভিজ্ঞতা ধার নেয়া বেশী ঘটেছে। ফলে ভারত হল বাংলাদেশের জুডিশিয়াল বা বিচারীয় জ্ঞানের জগতে এক একছত্র নেতা ওস্তাদ। অতএব মোদি-চন্দ্রচূড় এন্ড গং-দের কথা শুনে বাংলাদেশ তুমি অনুগত হয়ে চল!!!!  আর আমাদের সুপ্রীম কোর্ট ভারতের সুপ্রীম কোর্টকে বড়ভাই মেনে আনুগত্য করুক!  কিন্তু আসলেই কী ভারতের সুপ্রীম কোর্ট এর অর্জন এতই গৌরবেই? আসেন একটু চেক করে দেখি!

প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা তাঁর বিরুদ্ধে ইলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় মানতে রাজি হন নাইঃ 
ভারত রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রথম ধাক্কা খেয়েছিল ১৯৭৫ সালে। আর এতে ভারত এরপর থেকে নিজে আর কোন রিপাবলিক রাষ্ট্র বলে নিজেকে দাবি করতে পারে কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছিল। কেন?
গত ১৯৭২ সালের কেন্দ্র-নির্বাচনে ইন্দিরার আসনে তিনি কারচুপি করেছেন আর এভাবেই তিনি এমপি আর শেষে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এমন মামলা করে তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী! এই মামলার হাইকোর্টের রায় বের হয় ১৯৭৫ সালে। বিচারক তাকে প্রধানমন্ত্রী পদ ত্যাগ করার সময় দিয়ে সাজা ভোগ করতে রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এই রায় অমান্য করতে পালটা দেশে জরুরি আইন জারি করে পরিস্থিতি নিজের হাতে এনে নিয়ন্ত্রণে নেন; যাতে সাজা ভোগের প্রসঙ্গ চাপা পড়ে। সারকথা একটা রিপাবলিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগ আর নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী – এরা যদি কেউ কাউকে কনষ্টিটিউশনাল বাধ্যবাধ্যকতা মান্য করতে  বা কাজ করতে দিতে না চায় – এটা ছিল সেই কেস। যার সার-অর্থ হল, রাষ্ট্রটা নাই হয়ে গেছে!! ঠিক তাই হয়েছিল ভারতে।  যদিও পরে ইন্দিরা সরকারের পতন ঘটে – নির্বাচনে বিরোধী মোরারজি দেশাই এরা ক্ষমতায় আসে। আমি আর সে  সব ফারদার বিস্তারে যাচ্ছি না এখন।

[অনেকে ভাবতে পারেন কেবল ভারত রাষ্ট্রই ইন্দিরার হাতে এমন সংকটে পরেছিল। না, একেবারেই সত্য না। শেখ মুজিবের বাংলাদেশ রাষ্ট্রও ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি শেখ মুজিবের হাতেই এমন নাই হয়ে গেছিল। আমার পুরানা  ২০১০ সালের লেখা পড়েন এখানে।]

কিন্তু এরপর থেকে ভারতের আইন পেশার একাদেমিক, উকিল বা বিচারক কমিউনিটি দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। যাদের মধ্যে ডমিনেটিং ভাষ্য হল, বিচার বিভাগের প্রধানমন্ত্রীকে সমীহ করে কম্প্রমাইজে চলা উচিত ছিল! বিচারকদেরও প্রধানমন্ত্রী জিন্দাবাদ বলতে হত!  শহরের এলিটদের বিরুদ্ধে যেভাবে গরীবেরা দাড়াতেই পারে না আগের মানসিকভাবে হেরে গিয়ে থাকে বলে – এটা ছিল অনেকটা সেরকম!
আর সেই থেকে ভারতে এই “দেশের স্বার্থে” বলে আপোষি জাতিবাদিদের আপোষ ধারাটাই চলে আসছে এখনও। নানান বাঁক পেরিয়ে। এমনকি এখনও এই চন্দ্রচূড়েরা একই কাজ করে চলছেন! মুসলমান নিধন অত্যাচার নিগৃহ বৈষম্য চন্দ্রচুড়েরা দেখতেই পান না!  এমনকি চন্দ্রচূড় ঢাকায় এসেছেন মোদি-হাসিনার রাজনৈতিক আলোচনার ফলশ্রুতিতে। কিন্তু চন্দ্রচুড় কেন এই আলোচনায় অংশ নিবেন? মোদি বা হাসিনার সাথে এই প্যাচ-আপে তিনি কেন অংশ নিবেন? তিনি কী মোদির অধীনে কোন মন্ত্রণালয়ের সচিব?? এর উপর আবার মোদি  যে বাংলাদেশে নিজ কলোনি শাসন – আধিপত্য কায়েম করতে চলেছেন। আর চন্দ্রচূড় “পোষ্ট-কলোনিয়াল” বলে হুঙ্কার তুলে মোদির কলোনিদখলের নৌকায় উঠে বাংলাদেশে এসেছেন!  প্রধানমন্ত্রীকে সমীহ করে কম্প্রমাইজে চলা প্রধান বিচারপতির চন্দ্রচূড়ের তো পরিণতি এমনই হবার কথা; নয় কী!!!

চন্দ্রচূড় ভাব ধরতে চান কলোনিয়াল পশ্চিমারা খুব খারাপ। একমাত্র তিনিই বীর! তো রিপাবলিক ধারণাটা কোথায় পাইছেন, মহাশয়?  ব্যক্তি-বোধ, নাগরিক, রাষ্ট্র রাজনীতি ইত্যাদি সহ ভারতে রিপাবলিক ধারণা কিভাবে এলো? মোগল আমলে ছিল?? কাজেই বকোয়াজ বন্ধ করেন। ইউরোপের আমাদের মত দেশকে কলোনি করা অন্যায় নিঃসন্দেহে! কিন্তু কলোনিদখলদারদের দেশে শাসন ব্যবস্থা চালু ছিল বলে এই হিসাবে রিপাবলিক – জনগণ ক্ষমতার উতস – রাজনীতি নাগরিক ইত্যাদি সব ধারণাওগুলো আমরা বৃটিশদের থেকেই পেয়েছি। এটা পজিটিভ পাওনা! আর বৃটিশেরাও আবার সে ধারণার গোড়াটা পেয়েছে রোমান-দের কাছে থেকে। এটা শুরুতে প্রাচীন রোম থেকে পরে হোলি রোমান এম্পায়ার সমাজ থেকে!
এখনও আমাদের হাইকোর্টের বিচারকেরা রায় লেখার সময় দুচারটা এক্সিওম [AXIOM] বা স্বতসিদ্ধ সত্য বলে কিছু বাণীর উল্লেখ করতে খুবই ভালবাসেন। এর মাহাত্ম হল, তিনি যে রোমান এক্সিওমগুলো মুখস্ত করেছেন সেটাই যাহির করে দেখানো! এখন চন্দ্রচূড়েরা কী বৃটিশ-রোমানদেরকে কলোনি শাসক বলে তুচ্ছ বা অস্বীকার করবেন? পশ্চিমা কলোনি শাসকদের গালি দিয়ে আবার, এখন ভারতকেই  কলোনিদখলদার (বাংলাদেশকে দখল) করে গড়তে চাইবেন? মোদির হাতধরে বাংলাদেশে আসবেন???

বৃটিশদের কাছ থেকে রাজা রামমোহন রায় বৃটিশ রিপাবলিক ধারণাটা প্রথম বুঝেছিলেন। তিনিই প্রথম এটা বুঝে তা কাজে লাগাতে গেছিলেন। কিন্তু বুঝেছিলেন উলটা। ভেবেছিলেন, রিপাবলিক জাতি-রাষ্ট্র মানে একটা ধর্মীয়-জাতি ধারণা। সেটা অর্জন করতেই তিনি অসংখ্য জাতে বিভক্ত হিন্দুদেরকে সহ সকলেই আগে এক নয়া এক ব্রাহ্ম ধর্মে নিতেচেয়েছিলেন। আর এরই শেষ আজ পরিণতি বিজেপি-আরএসএসের হিন্দুত্ববাদ! 
একটু পড়ালেখা করেন বুঝা কঠিন না। কিন্তু হুদাই পশ্চিমাবিরোধী সাইজেন না! এর পরিণতিতেই তো বাংলাদেশকেই একালে ভারতের কোলোনি সম্পর্কে বেধে ফেলার কাজে মোদির সঙ্গি হয়ে এসেছেন!

চন্দ্রচুড়ের হাত ধুয়ে ফেলার কোশেশঃ
কিন্তু এসব সত্বেও চন্দ্রচুড় নিজের হাত ধুয়ে রাখতে চেয়েছেন। হাসিনার উপস্থিতিতে ঐ অনুষ্ঠানের সবটা বিটিভি সংগ্রহ ও রেকর্ডিং করেছে। কিন্তু ভারতের ইন্ডিয়া টুডে আবার সেখান থেকে নিয়ে নিজেই ইউটিউব ভিডিও করে ছেড়েছে, বিশেষ করে চন্দ্রচূড়ের আধাঘন্টা কথা। কিন্তু তাতেই এরা সনুষ্ট হয় নাই। এ’বাদেও ঐ আধাঘন্টা থেকে আবার বিশেষ আড়াই মিনিটের একটা বক্যব্যের ভিডিও-ও তারা ছেড়েছে। মনে রাখতে হবে ইন্ডিয়া টুডে মোদি সরকারেরই বা র-এর আরেক হাতিয়ার। যখন বাংলাদেশে বিরোধী বা বাংলাদেশকে টার্গেট করে কিছু তাদের প্রপাগান্ডা করার থাকে তখন তারা এই মিডিয়া ব্যবহার করে থাকে। সেই আড়াই মিনিটের লিঙ্ক এখানে। চন্দ্রচূড়ের এই অংশের বয়ানটুকুকে  তাই এন্ডিয়া টুডে নিচে লিখিত টেলপ দিয়ে এক মলিয়া পড়ে শুনিয়ে দিয়েছেন  যাতে কেউ মোদির দোষে অসৎ কাজের সঙ্গী বলে চন্দ্রচুড়কে অভিযুক্ত না করেন। চন্দ্রচুড় খারাপ ও অনিশ্চিত সময়ের কথা বলছেন যে এসব সময়ে সুপ্রীম কোর্ট আর নির্বাচন কমিশনের মত প্রতিষ্ঠানগুলো কনষ্টিটিউশনের উপর মানুষের আস্থা-বিশ্বাস ধরে রাখার পক্ষে এগিয়ে আসে। এসব প্রতিষ্ঠানের ঠিকমত সচল থাকাটা সেজন্য গুরুত্বপুর্ন।

In a time of uncertainty and ambiguity, the pillar of democracy are put to the test. CJ DYC speaking at the south asian constitutional court conference in Bangladesh emphasis the crucial role of institution like supreme court and election commission in upholding the trust of the people in the constitution.
Speaking at the conference, CJ DYC said, the constitution is not like the income tax act. The legitimacy of our Governance institutions hinges on their functionality.
He stressed that the confidence of the people in the constitution solidify when these institutions rise to the occasion.

সারকথায় তিনি বলছেন  সুপ্রীম কোর্ট আর নির্বাচন কমিশনের সচল ও কর্মক্ষম থাকাটা গুরুত্বপুর্ণ। মানে তিনি রেকর্ড রাখতে চান যে এদুটা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব তিনি আমাদের বুঝাইছিলেন! কিন্তু বাংলাদেশের বেলায় গত পনেরো বছরে এটা হাসিনা সরকারের অধীনে একটা প্রতিষ্ঠানেরও এমন যোগ্য হয় নাই এটা কে না জানে! আর নির্বাচন কমিশন??? নিশ্চয় এবার ৭ জানুয়ারী ভোট দিয়ে জনগণ খুবই খুশি!!!! কারণ, হাসিনা বলেছেন স্বাধীন বাংলাদেশে এটাই নাকি বেস্ট নির্বাচন!  অর্থাৎ চন্দ্রচুড় হুদাই কীছু বকোয়াজ করে গেলেন আরকি!
অবশ্য ভারতের অনেকের মনে হতে পারে সব হল আমরা মুসলমানদের স্মস্যা। আমরা পশ্চাদপদ আমরা তাই কিছু পারি না!।    তাহলে আচ্ছা ভারতের সুপ্রীম কোর্ট কী খুব একটিভ আর নির্বাচন কমিশন খুবই সুনামের?
একই কথা বার বার লেখার চেয়ে আমার নিজেরই এক পুরানা লিখার লিঙ্ক এখানে, কী ভয়াবহ অবস্থা দেখেন এখানে। লেখাটার শিরোনাম ছিল ভারত-রাষ্ট্রের ভেঙ্গে পড়া ও রবি কান্তের হতাশা চন্দ্রচুড়ের নিজের সুপ্রীম কোর্টের অবস্থা বুঝবার জন্য। এবং এই আবেদনে নির্বাচন কমিশন ভাল হয়ে যায় নাই।
 আর ভারতের খোদ নির্বাচন কমিশন??? সে আরেক ভয়াবহ অবস্থা!!!  ভারতের নির্বাচন কমিশন তিন সদস্যের; প্রধান ছাড়া আরো দুজন কমিশনার। কম কথায় বললে মামলা টা ২০১৯ সালে ভাএরতের নির্বাচনের। মোদিসহ আরো অনেক প্রার্থীই নির্বাচনি আইন ভেঙ্গে সাজা পেয়েছেন বা  ফাইন দিয়েছেন। কিন্তু একমাত্র নরেন্দ্র মোদি ছাড়া। তার নামে যৎগুলো অভিযোগ দায়ের হয়েছিল কমিশন তার একটাতেও কোনই পদক্ষেপ নিতেই যান নাই। এনিয়ে কমিশন প্রধান এক সদস্যকে পাশে পেয়ে দু-এক ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়ে কোন একশনে যান নাই। আর তৃতীয়জন অশোক লাভাসা তার নাম – তিনি এরপর সরকারি নিগ্রহের শিকার হতে থাকেন – আর তা উনার স্ত্রীসহ যিনি উচ্চপদস্ত ব্যাংকার। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতিটা সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে রাখা ব্যক্তি ছিলেন। কয়েকবছর পরে আর চাপ সহ্য করতে না পেরে অশোক লাভাসা আপোষ করতে বাধ্য হন। রফাটা হল এখন তিনি নির্বাচন কমিশন ছেড়ে দিয়েছেন; [ADB] এডিবিতে ভারত সরকার পক্ষের আমলা প্রতিনিধি হিসাবে আছেন!

অর্থাৎ সুপ্রীম কোর্ট আর নির্বাচন কমিশনের সচল ও কর্মক্ষম থাকাটা গুরুত্বপুর্ণ বলে বিরাট জ্ঞানের কথা ছাড়লেও প্রধান বিচারপতি হিসাবে তিনি সরাসরি এর জন্য দায়ী!  অথচ বাংলাদেশে এসে জ্ঞানের কথা ছাড়ছেন???

আমি এখনও পরিস্কার না বুঝি নাই, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঠিক কী চান? কেন চন্দ্রচুড় ঢাকায় এসেছিলেন?  আমাদের কাছে এক প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সিনহা তার ঘটনাবলী এখনও জলজ্যান্ত আছে। তিনি গুজরাটে গেছিলেন এক বেসরকারি ল কলেজের অডিটরিয়াম উদ্বোধন – এই আমন্ত্রণে। গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য কত কী ভাল করেছেন এর ফিরিস্তি দিয়ে বক্তৃতা করে গেছিলেন। ভুলে গেছিলেন তিনি বিচার বিভাগের লোক যা প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নয়। আর তিনি কোন সচিবও নন। প্রধানমন্ত্রীর জন্য এসব জয়গাথা ছড়ানো তার কাজ দায়ীত্বের সাথে অসামন্বস্যপুর্ণ!  কিন্তু তিনি ফাঁদে পড়লেন যে তিনি কার কথা কে বেশী গুরুত্ব দিবেন! হিন্দু মনে ভাবলেন কাকা-বাবু এখানে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে প্রেফারেন্সিয়াল! ফলাফল আমরা সবাই জানি! এর মানে  আমাদের সব অভিজ্ঞতাই বলছে এসবের একটাও কাজ করে নাই! এরপরেও ঠিক কী জানতে বাকী আছে???? আমার বুঝাবুঝি-নাগালের বাইরে!

একটা গুরুত্বপুর্ণ বিষয় “আরবিট্রেশন” – এটা ভুলে গেছিলাম, এখন যোগ করে দিচ্ছিঃ
ধনঞ্জয় চন্দ্রচুড় তাঁর বক্তৃতায় বিচার ব্যবস্থার ভিতরেই সালিশ ব্যবস্থাও [arbitration] যোগ করার প্রস্তাব করেছিলেন।  সালিশি মানে বুঝতে হবে – যেখানে কেউ অপরাধী বলে রায় দেয়া হয় না, কাউকে সাজা দেয়া হয় না। এটা এক আপোষ-মীমাংসার পথ। ফলে স্বভাবতই কোন ক্রিমিনাল কেসে এর ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু চন্দ্রচুড় এই সালিশ-ব্যবস্থার কথাও আসলে বলেনই নাই। তাহলে?
 
তিনি আসলে  মিন করেছেন – মানে আরবিট্রেশনের কথা বলে এই আড়ালে (হিন্দুত্ববাদী) সরকারের চাওয়ার পক্ষে রায় দেয়া। এর ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেটাই আমরা এখন নিচে দেখব।
বাবরি মসজিদ ধবংস করা হয়েছিল ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর। যদিও মানুষে নানানভাবে এঘটনাকে ব্যাখ্যা করে কেবল নিজের পক্ষে সাফাই টেনে থাকে। আর আমার ধারণা হল এটা ছিল মুসলমানবিরোধী ঘৃণা সাজিয়ে  সেই উস্কানিতে আরএসএস-বিজেপি যে ভোটের রাজনীতি ক্ষমতাদখল ব্যবস্থা আনতে যাচ্ছে এরই আগমনী সিগনাল- বার্তা ছিল।  তাদের হিসাবে এটা ছিল এভাবে হিন্দুত্ববাদী ক্ষমতা আনবার জন্য পারফেক্ট টাইমিং; হয়েছিলোও তাই। এরই পরিণতি-প্রমাণ হল গত দশবছরের নরেন্দ্র মোদীর শাসন! ও বিচারকদের আছে তাঁর নানান চাওয়া – এর জন্য চাপ সৃষ্টি! আর এর পুর্ণতা দিবার পিছনের অন্যতম এক বিচারক হলেন ভারতের বর্তমান প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশোবন্ত চন্দ্রচূড়! তারঁ বাবা যশোবন্ত বিষ্ণু চন্দ্রচূড় [YBC]ও এর আগে প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ধনঞ্জয় [DYC] হার্ভার্ড ল স্কুল গ্রাজুয়েট ও পিএইচডি হোল্ডার।  কিন্তু হায়!
১৯৯২ সালের মসজিদ ধবংস মামলায়  সুপ্রীম কোর্টের ফাইনাল রায় ঘোষণা হয় ২০১৯ সালে।  ধনঞ্জয় সেখানে রায় দাতা পাঁচ  বিচারকের একজন বিচারক! যেখানে বিচারকদের রায়ের সারকথা হল, মসজিদের স্থানে মন্দির করতে দেয়া হোক আর মসজিদের জন্য সরকার আলাদা জায়গা দেক! এই হল, ধনঞ্জয় চন্দ্রচূড়দের বিচারের রায়ের নামে সরকারের দালালি আর ইঙ্গিত দেয়া এটাই তাদের সালিশি ব্যবস্থা????
তার মানে ধনঞ্জয় চন্দ্রচূড় কী আমাদের বিচার বিভাগকে সালিশের চর্চার কথা বলে  বিভিন্ন মামলায় সরকারের পক্ষে রায় দিবার কথা বলে গেলেন? মনে রাখতে হবে, প্রধানমন্ত্রীর চাওয়ার পক্ষেই বিচার বিভাগকে থাকতে হবে রায় দিতে হবে – এই অভ্যাস সেই যে ১৯৭৫ সাল থেকে ইন্দিরার হাতে শুরু হয়েছিল ভারতের বিচার বিভাগ এথেকে বের হতে পারে নাই। বরং এই চামচামির ধারা বজায় রেখে নিজের আখের গুছানো বিচারক প্রধান বিচারক হওয়াটাই ভারতের বিচার বিভাগের অনুসৃত নীতি হয়ে গেছে!

 

লেখকঃ
গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
goutamdas1958@hotmail.com

[এই লেখা কোন নিউজ নয়, ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মাত্র। ফলে পাঠকের এ’লেখা পড়ে কিছুই বহন করা বা মান্য করার বাধ্যবাধকতা নাই। কেবল জানলেন যে এমন একটা মতামত আছে!]

আপডেটঃ ০৩ মার্চ ২০২৪ ০৭ঃ ১৯   সন্ধ্যা
আপডেটঃ ০৪ মার্চ ২০২৪ ০৮ঃ ১০   রাত

 

 

 

 

 

Leave a comment